আমার বন্ধু আমাকে জিজ্ঞেস করলো: আচ্ছা দোস্ত বুখারীর জন্ম কত সালে??
🔸 আমি বললাম: ১৯৪ হিজরী।
🔹সে বললো, নবীর মৃত্যু কত সালে?
🔸আমি বললাম, ১১ হিজরীতে।
🔹সে বললো, এটা কি বিবেক মেনে নিতে পারে যে এত বিরাট সময়ের ব্যবধানের পর বুখারী এসে হাদীস জমা করবে??!
🔸 আমি বললাম, তুমি কি কারী শাইখ আলী আব্দুর রহমান আল-হুযাইফীকে চেন?
🔹সে বললো, এটার সাথে বুখারীর কী সম্পর্ক ?
🔸 আমি বললাম, তুমি শুধু জবাব দাও।
🔹সে বললো, হ্যা, তাকে চিনি ও তার কেরাতও শুনি।
🔸 আমি বললাম, শাইখ আলী হুযাইফীর কাছে কুরআনে কারীম পড়ার এমন একটি অনুমতিপত্র রয়েছে যা তিনি তার উস্তাদ থেকে নিয়েছেন। আর তার শাইখও অনুরূপ অনুমতিপত্র তার শাইখ থেকে নিয়েছেন,, এভাবে সেটা উপরের দিকে গিয়ে তাবে তাবে’ঈন হয়ে তাবে’ঈগণের দ্বারা সাহাবায়ে কিরামের মাধ্যম হয়ে মুহাম্মদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছ থেকে পৌঁছেছে??
🔹সে বললো, হ্যাঁ, হতে পারে, তাতে কী?
🔸 আমি বললাম, আচ্ছা তুমি কি জান, আলী হুযাইফী ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাঝে কয়জন থাকতে পারে??
🔹 সে বললো, অবশ্যই সে সংখ্যা বিরাট হবে, হতে পারে কয়েক হাজার!!
🔸 আমি তাকে বললাম, তুমি কি আমাকে বিশ্বাস করবে যদি আমি তোমাকে বলি, আমরা এখন ২০২২ সাল/১৪৪২ হিজরীতে উপনীত হলেও আলী হুযাইফী ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাঝে মাত্র ২৯ ব্যক্তি??
🔹সে বলল, কীভাবে??!!
🔸 আমি বললাম, যদি তুমি ১৪৪১ হিজরীকে ২৯ দিয়ে ভাগ করো, তাহলে ৫০ বছর করে পাবে। (অর্থাৎ একজন মানুষের মধ্যম বয়স ৫০ বছর ধরে নিই তাতেও এ বিরাট সময় কাবার হয়ে যায়,… ) তাহলে বুখারীর বিষয়টি এত জটিল মনে হচ্ছে কেন? যেখানে ২০৪ হিজরীতে হাদীস স্টাডি করতে শুরু করেছেন! বিশেষ করে বুখারীর রয়েছে অনেক সুলাসী (অর্থাৎ বুখারী ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাঝে মাত্র তিনজন) এর সনদ। একজন তাবে তাবে’ঈ, একজন তাবে’ঈ, একজন সাহাবী।
🔹 সে বললো, বুখারীর আগে কি কেউ কিতাব লিখেছে??
🔸 আমি বললাম, তোমাকে তো কিছু লোক এ ভুলে নিপতিত করিয়েছে যে, বুখারী প্রথম হাদীসের কিতাব লিখেছে, প্রথম হাদীস জমা করেছে!!
কিন্তু তুমি কি জানো যে, বুখারীর পূর্বেও কমপক্ষে ২৫ টি হাদীসের গ্রন্থ লিপিবদ্ধ হয়েছিল!
(যেমন তাদের মধ্যে রয়েছেন, হাম্মাম ইবন মুনাব্বিহ, ইবন জুরাইজ, মামার ইবন রাশেদ, ইবন আবী আরূবাহ, সফিয়ান আস সাওরী, লাইস ইবন সা’দ, মালিক ইবন আনাস- যিনি মুওয়াত্তার লেখক, প্রমুখ..
🔹 সে বললো, তাহলে এত আক্রমণ ও হাঁকডাক শুধু বুখারীর উপর কেন??
🔸 আমি বললাম, কারণ বুখারী হাদীস জমা করার ক্ষেত্রে খুব সাবধানী ছিলেন। (তিনি সর্বশেষ বর্ণনাকারী থেকে শুরু করে রাসূলুল্লাহ পর্যন্ত প্রতিটি উস্তাদ ও ছাত্রের মাঝে সাক্ষাতের শর্ত করেছিলেন। তাদের ধীশক্তির প্রখরতা, সংরক্ষণের নিশ্চয়তা, ন্যায়পরায়নতার সর্বোচ্চতা থাকার শর্ত দিয়েছিলেন) তার ব্যাপারে সন্দেহ ঢুকাতে পারলে অন্যদের ব্যাপারে সন্দেহ প্রবেশ করানো সহজ হয়ে যাবে!!
সেজন্যই বাতিলপন্থীরা বুখারী নিয়ে বেশি হৈচৈ ও মাতামাতি করে।
🔹 সে বললো, তাহলে যেসব হাদীসের প্রতি সন্দেহের তীর নিক্ষেপ করা হয় সেসব হাদীস গ্রহণ করার প্রতি এত আগ্রহ কেন??!!
🔸 আমি বললাম, যদি সন্দেহের তীর ছোড়া হলেই তা বাদ দেয়ার নীতি গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হয় তবে কেন কুরআনের কিছু আয়াত বাদ দিই না, যেগুলোর প্রতি প্রাচ্যবিদ, নাস্তিক ও আধুনিকতার ধ্বজাধারীরা সন্দেহের তীর নিক্ষেপ করে??!
🔹 সে বললো, না, কারণ কুরআন আমাদের নিকট মুতাওয়াতিরভাবে পৌঁছেছে, যাতে কোনো বিবেকবান মানুষ সন্দেহ করতে পারে না!! (কারণ মুতাওয়াতির তো সেটাই, যাতে দলে দলে এত লোক যুগে যুগে বর্ণনা করে এসেছে, যাদের মিথ্যার ওপর ঐক্য করা অসম্ভব)
🔸 আমি বললাম, তাহলে বুঝা গেল যে, মূল বিষয় হচ্ছে বিশ্বাস অর্জিত হওয়া। বুখারীর এসব হাদীস ও এসব বর্ণনার শর্ত এতই শক্তিশালী ও কঠোর যে যারা এ বিষয়ে সুস্থ চিন্তা করবে তাদের কাছেই এগুলোর গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বস্ততা ধরা পড়বে।
🔹 সে বললো, আচ্ছা শুধু কুরআন গ্রহণ করতে হবে, হাদীসে সন্দেহ তৈরী করার পেছনে তাদের কী উদ্দেশ্য থাকতে পারে??
🔸 আমি বললাম, ইসলামের শত্রুরা, খিয়ানতকারীরা, বিভ্রান্তি প্রচার প্রসারকারীরা এটাই চায় যেন মানুষ রাসূলের হাদীসে সন্দেহ করবে, তারা যেন হাদীস পরিত্যাগ করে, তারা যেন কেবল কুরআন নিয়ে যথেষ্ট হয়ে যায়, যাতে করে ইসলামের শত্রুরা যেভাবে ইচ্ছা কুরআনের অপব্যাখ্যা করতে পারে, যে যার আইডিওলজি মোতাবেক কুরআনকে নিয়ে টানাহেঁচড়া করতে পারে। এভাবে ইসলামকে অগ্রহণযোগ্য করতে পারে।
অথচ কুরআন কোনোভাবেই হাদীস ব্যতীত পুরোপুরি বুঝা ও বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। (যেমন সালাত, যাকাত, সাওম, হজ্জ, অনুরূপ আরো বহু বিধান কুরআন বিস্তারিত বর্ণনা করেনি। বরং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি আমাদের শিখিয়েছেন কীভাবে সালাত আদায় করবো, কীভাবে হজ্জ করবো, কীভাবে যাকাত দিব। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস ও তার পুরো জীবন হচ্ছে এ মহান দীন ও কুরআনে কারীমের পূর্ণ বাস্তবায়ন।
আর ইমাম বুখারী সেগুলোকে সুন্দর ও বিশুদ্ধভাবে জমা করেছিলেন, যা ইসলামের শত্রু ও প্রবৃত্তিপূজারীদের গলার কাঁটা হিসেবে দেখা যায়। তাই তারা যে কোনো মূল্যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়।
আল্লাহ তাআলা ইমাম বুখারীকে রহমত করুন, আমীন।
শায়খ আবু বকর মো জাকারিয়ার লিখা।
