Tuesday, April 28, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরইসলামের ইতিহাসে আংটিলিপি

ইসলামের ইতিহাসে আংটিলিপি

আগের যুগের মতো বর্তমানেও আংটি সভ্যতার প্রতীক হিসেবে গণ্য। সুলাইমান (আ.) ও দানিয়াল (আ.)-এর আংটির কথা ইতিহাসে পাওয়া যায়। প্রাচীন যুগ থেকেই রাজা-বাদশাহ ও সম্মানিত ব্যক্তিরা আংটি পরতেন। আংটিতে বিশেষ চিহ্নসংবলিত মোহর থাকত, যা দ্বারা দলিল-দস্তাবেজে সিল মারা হতো।

আংটির মোহর অঙ্কন পাথর ইত্যাদির খোদাই করা হতো। তাতে নাম, গুরুত্বপূর্ণ চিহ্ন ও বাণী ইত্যাদি লেখা থাকত। প্রসিদ্ধ ব্যক্তিবর্গের আংটিতে কী লিখিত ছিল—তার বর্ণনা নিম্নে উল্লেখ করা হলো—
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আংটির বিবরণ

নবীজি (সা.) যখন রাজা-বাদশাহদের ইসলামের দাওয়াতি চিঠি প্রেরণের ইচ্ছা করলেন তিনি রুপার একটি আংটি বানালেন, যার মধ্যে ‘মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’ বাক্যটি অঙ্কিত ছিল। (বুখারি, হাদিস : ৬৫)

অন্য বর্ণনায় আরো স্পষ্টভাবে উল্লিখিত হয়েছে যে নবীজি (সা.)-এর আংটিতে তিন লাইনে বাক্যটি অঙ্কিত ছিল। সর্বনিম্নে ‘মুহাম্মাদ’, মাঝে ‘রাসুল’ এবং ওপরে ‘আল্লাহ’ শব্দটি। (বুখারি, হাদিস : ৩১০৬)

যেহেতু রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আংটিতে আল্লাহর নাম লিখিত ছিল, তাই ইস্তিঞ্জায় যাওয়ার সময় ওই নামের সম্মানার্থে তিনি আংটিটি খুলে রাখতেন। (তিরমিজি : হাদিস ১৭৪৬)

আংটিটি মৃত্যু পর্যন্ত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাতে ছিল। তাঁর ইন্তেকালের পর আবু বকর (রা.)-এর হাতে, এরপর ওমর (রা.)-এর হাতে, এরপর উসমান (রা.)-এর হাতে ছিল। দুর্ভাগ্যক্রমে তা উসমান (রা.)-এর হাত থেকে ‘আরিস’নামক কূপে পড়ে গেলে অনেক খোঁজাখুঁজির পরও আর পাওয়া যায়নি। (বুখারি, হাদিস : ৫৮৭৩)

চার খলিফার আংটিতে যা লিখিত ছিল

খলিফা আবু বকর (রা.)-এর আংটিতে লিখিত ছিল : ‘নি’মাল ক্বা-দিরু আল্লাহ’, অর্থাৎ আল্লাহ তায়ালা সর্বোত্তম ক্ষমতাবান। (তারিখে ইবনে কাসির ৭/২৩)

আমিরুল মুমিনিন ওমর (রা.)-এর আংটির লিপি : ‘কাফা বিল মাউতি ওয়াইজান ইয়া উমার’ অর্থাৎ হে ওমর, নসিহতের জন্য মৃত্যুই যথেষ্ট। (ইবনে কাসির ৭/১৫১)

আমিরুল মুমিনিন উসমান (রা.)-এর আংটির লিপি : ‘আ-মানতু বিল্লাহি মুখলিসান’, অর্থাৎ আমি একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ওপর ঈমান আনলাম। (সিরাতে হালবিয়্যা ১/৩৯০)

অন্য একটি বর্ণনায় এসেছে, তাঁর আংটিতে লিখিত ছিল : ‘আ-মানতু বিল্লাহিল্লাজি খালাক্বা ফাসাউয়া’ অর্থাৎ আমি আল্লাহর ওপর ঈমান আনলাম, যিনি সৃষ্টি করেছেন অতঃপর সুগঠিত করেছেন। অন্য একটি বর্ণনায় এসেছে : ‘আ-মানতু বিল্লাহিল আজিম’ অর্থাৎ আমি আল্লাহর ওপর ঈমান আনলাম, যিনি মহান। (ইবনে কাসির ৭/২৩৯)

আমিরুল মুমিনিন আলী (রা.)-এর আংটির লিপি : ‘আল-মুল্কু লিল্লাহ’ অর্থাৎ রাজত্ব একমাত্র আল্লাহর। (সিরাতে হালবিয়্যা ১/৩৯০)

অন্যান্য সাহাবি-তাবেঈন ও প্রসিদ্ধ আলেমদের আংটির লিপি

আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ (রা.)-এর আংটিতে লিখিত ছিল : ‘আল-হামদু লিল্লাহ’ অর্থাৎ সব প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর। (সিরাতে হালবিয়্যা ১/৩৯০)

আমিরুল মুমিনিন মুয়াবিয়া (রা.)-এর আংটির লিপি : ‘লিকুল্লি আমালিন সাওয়াবুন’ অর্থাৎ- প্রত্যেক কাজেরই একটি প্রতিদান রয়েছে। অপর বর্ণনায় এসেছে : ‘লা-কুওয়াতা ইল্লা-বিল্লাহ’ অর্থাৎ ভালো কাজের ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকেই।

আমিরুল মুমিনিন ওমর ইবনে আবদুল আজিজ (রহ.)-এর আংটির লিপি : ‘লা-ইলাহ ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা-শারিকা লাহ’ অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, যিনি একক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই। অন্য বর্ণনায় এসেছে : ‘আ-মানতু বিল্লাহ’ অর্থাৎ আমি আল্লাহর ওপর ঈমান আনলাম। অপর বর্ণনায় এসেছে : ‘আলওয়াফা-উ আযীযু’ অর্থাৎ ওফাদারি তথা বিশ্বস্ততা প্রিয়, (অথবা) বিরল।

ইমাম মালেক (রহ.)-এর আংটির লিপি : ‘হাসবিয়াল্লাহু ওয়া নিমাল ওয়াকীল’ অর্থাৎ আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট এবং তিনিই উত্তম কার্যনির্বাহী। (দেখুন : তারিখে ইবনে কাসির ৮/১৪০, ৯/২২৪,৩৮০, ১০/১৮৭)

প্রসিদ্ধ খলিফাদের আংটিলিপি

উমাইয়া খলিফা ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়ার আংটিতে লিখিত ছিল : ‘আ-মানতু বিল্লাহিল আজিম’ অর্থাৎ আমি মহান আল্লাহর ওপর ঈমান আনলাম।

উমাইয়া খলিফা মারওয়ান (রহ.)-এর আংটির লিপি : ‘আল-ইজ্জাতু লিল্লাহ’ অর্থাৎ সব ইজ্জত (ক্ষমতা ও পরাক্রম) একমাত্র আল্লাহর। অপর বর্ণনায় এসেছে : ‘আ-মানতু বিল আজিজির রহিম’ অর্থাৎ আমি ঈমান আনলাম পরাক্রমশালী ও দয়ালু (আল্লাহ)-এর ওপর।

উমাইয়া খলিফা ওয়ালিদ ইবনে আবদুল মালিক (রহ.)-এর আংটির লিপি : ‘ঊমিনু বিল্লাহি মুখলিসান’ অর্থাৎ আমি আল্লাহর ওপর ঈমান রাখি একনিষ্ঠভাবে। অন্য বর্ণনায় এসেছে : ‘ইয়া ওয়ালিদ, ইন্নাকা মায়্যিতুন’ অর্থাৎ হে ওয়ালিদ, তুমি মরণশীল।

উমাইয়া খলিফা হিশাম ইবনে আব্দুল মালিক (রহ.)-এর আংটির লিপি : ‘আল-হুকমু লিল-হাকামিল হাকীম’ অর্থাৎ রাজত্ব শুধু মহান প্রজ্ঞাবান বিচারক (আল্লাহ)-এর।

উমাইয়া খলিফা সুলাইমান ইবনে আব্দুল মালিক (রহ.)-এর আংটির লিপি : ‘আ-মানতু বিল্লাহি মুখলিসান’ অর্থাৎ আমি আল্লাহর ওপর ঈমান আনলাম একনিষ্ঠভাবে।

উমাইয়া খলিফা ইয়াজিদ ইবনে ওয়ালিদ (রহ.)-এর আংটির লিপি : ‘আল-আজমাতু লিল্লাহ’ অর্থাৎ-বড়ত্ব একমাত্র আল্লাহর।

প্রথম আব্বাসীয় খলিফা আবদুল্লাহ আস-সাফ্ফাহর আংটির লিপি : ‘আল্লাহু সিক্বাতু আব্দিল্লাহ’ অর্থাৎ আবদুল্লাহ-এর আস্থা একমাত্র আল্লাহর ওপর।

দ্বিতীয় আব্বাসীয় খলিফা আবু জাফর মানসুরের আংটির লিপি : ‘আল্লাহু সিকাতু আব্দিল্লাহ ওয়া বিহি ইউমিনু’ অর্থাৎ আবদুল্লাহর আস্থা একমাত্র আল্লাহর ওপর এবং তাঁর ওপরই ঈমান রাখে।

প্রসিদ্ধ আব্বাসীয় খলিফা হারুনুর রশিদ (রহ.)-এর আংটির লিপি : ‘লা-ইলাহ ইল্লাল্লাহ’ অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। (দেখুন : তারিখে ইবনে কাসির ৮/২৫৮,২৫৮, ৯/১৮৩, ৩০২,৩৮৬, ১০/১৯, ৬৬, ১৩৬, ২৩৩)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

13 − ten =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য