Saturday, April 18, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeসীরাতনবীবংশের নক্ষত্র সাইয়েদা নাফিসা (রহ.)

নবীবংশের নক্ষত্র সাইয়েদা নাফিসা (রহ.)

সাইয়েদা নাফিসা (রহ.) ছিলেন আমিরুল মুমিনিন হাসান বিন জায়েদ (রহ.)-এর কন্যা। তাঁর পিতা ছিলেন নবীজি (সা.)-এর নাতি হাসান বিন আলী (রা.)-এর ছেলে। আধ্যাত্মিকতা ও নিরবচ্ছিন্ন জ্ঞানসাধনার জন্য তাকে বলা হতো ‘নবীবংশের প্রদীপ্ত মশাল’। ‘কারিমাতুদ দারাইন’ (উভয় জগতে সৌভাগ্যবান) ছিল সাইয়েদা নাফিসা (রহ.)-এর উপাধি।

জন্ম ও বেড়ে ওঠা : সাইয়েদা নাফিসা (রহ.) ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৫ হিজরি পবিত্র মক্কা নগরীতে (বুধবার) জন্মগ্রহণ করেন। আট বছর বয়সে পবিত্র কোরআন হিফজ করেন। শৈশবে তিনি মসজিদে নববীতে যেতেন এবং বিশিষ্ট আলেমদের পাঠদান ও আলোচনায় অংশগ্রহণ করতেন। পরিণত বয়সে উপনীত হওয়ার আগেই তিনি ‘নাফিসাতুল ইলম’ (সর্বোত্তম জ্ঞানী) উপাধি লাভ করেন।

বিয়ে : ১৬১ হিজরির রজব মাসে ইমাম জাফর সাদিক (রহ.)-এর ছেলে ইসহাক মুতামিন (রহ.)-এর সঙ্গে সাইয়েদা নাফিসা (রহ.)-এর বিয়ে হয়। তিনি ছিলেন হুসাইন বিন আলী (রা.)-এর বংশধর। এভাবেই তাদের মাধ্যমে হাসান ও হুসাইন বংশের সম্মিলন ঘটে। তাদের ঔরসে কাসিম ও উম্মে কুলসুম নামে দুই সন্তানের জন্ম হয়।

আধ্যাত্মিক সাধনা : সাইয়েদা নাফিসা বিনতে হাসান (রহ.)-এর দৃষ্টি আবদ্ধ ছিল পরকালে। তিনি কবর খনন করে তাতে নেমে নামাজ আদায় করতেন এবং কোরআন তিলাওয়াত করতেন। বলা হয় যে কবরে তাঁকে দাফন করা হয়েছে তা তিনি নিজ হাতে খনন করেন এবং তাতে ১৯০ বার কোরআন খতম করেন।

সাইয়েদা নাফিসা (রহ.)-এর ভাই ইয়াহইয়ার মেয়ে জয়নব ফুফির সেবা করতেন। তিনি বলেন, আমি ৪০ বছর আমার ফুফির সেবা করেছি। কখনো তাঁকে রাতে ঘুমাতে দেখিনি। তিনি কেবল শরিয়তে নিষিদ্ধ দিনগুলোতেই রোজা ত্যাগ করতেন। আমি তাঁকে বলতাম, আপনি কি নিজের প্রতি অনুগ্রহ করতে পারেন না? তিনি বলতেন, আমি নিজের প্রতি দয়া দেখাব কিভাবে? আমার সামনে তো এমন সব প্রতিবন্ধকতা আছে, যা কেবল মুক্তিপ্রাপ্ত লোকেরাই অতিক্রম করতে পারবে।

মিসরে গমন : সাইয়েদা নাফিসা (রহ.) ২৬ রমজান ১৯৩ হিজরি শনিবার মিসরে আগমন করেন। মিসরবাসী তাঁকে গণসংবর্ধনা দেয়। মিসরবাসী তাঁর জ্ঞান দ্বারা উপকৃত হতে ভিড় করতে থাকে। এমনকি তিনি বলতে বাধ্য হন, ‘আমি আপনাদের সঙ্গে অবস্থানের ইচ্ছা করেছিলাম। কিন্তু আমি একজন দুর্বল নারী। আমার কাছে মানুষের ভিড় খুব বেড়ে গেছে। তারা আমাকে আমার শিরা-উপশিরা (জ্ঞানচর্চা) ও পুঁজি (ইবাদত) থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলছে। অন্যদিকে আমার দাদাজানের রওজার প্রতি আমার ভালোবাসা প্রবল হচ্ছে। ’ তাঁর কথায় মিসরবাসী ভয় পেয়ে যায়। ফলে তারা ভিড় কমিয়ে আনে এবং স্বামীকে মিসরে অবস্থানের অনুরোধ করেন। এরপর কায়রোর গভর্নর সারি বিন হাকাম বিন ইউসুফ সাইয়েদা নাফিসা (রহ.)-কে একটি প্রশস্ত বাড়ি দান করেন এবং তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য সপ্তাহে দুই দিন নির্ধারণ করে দেন। তিনি এই দুই দিন সমবেতদের পাঠদান ও উপদেশ প্রদান করতেন।

ইমাম শাফেয়ি (রহ.) মিসরে আগমনের পর সাইয়েদা নাফিসা (রহ.)-এর সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

ইন্তেকাল : ২০৮ হিজরির রজব মাসে সাইয়েদা নাফিসা (রহ.) রোজাদার অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। ইন্তেকালের সময় তিনি তিলাওয়াত করছিলেন—‘তাদের জন্য তাদের প্রতিপালকের কাছে আছে শান্তির আবাস। তারা যা করত তার জন্য তিনিই তাদের অভিভাবক। ’ (সুরা আনআম, আয়াত : ১২৭)

ইন্তেকালের পর তাঁর স্বামী তাঁকে মদিনার জান্নাতুল বাকি কবরস্থানে দাফনের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। কিন্তু মিসরববাসী তাতে প্রচণ্ড আপত্তি জানায়। ফলে মিসরের কায়রোতে তাঁকে দাফন করেন। তাঁর কবরের পাশেই দৃষ্টিনন্দন মসজিদ নির্মাণ করেন ফাতেমীয় খলিফারা।

আলুকা ডটকম ও মারেফা ডটঅর্গ অবলম্বনে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

eleven − 7 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য