Tuesday, April 21, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরছেলের নিচের ক্লাসে পড়েন বাবা, ৫৫ বছর বয়সে পরীক্ষার হলে বসে প্রশংসায়...

ছেলের নিচের ক্লাসে পড়েন বাবা, ৫৫ বছর বয়সে পরীক্ষার হলে বসে প্রশংসায় ভাসছেন বৃদ্ধ

পড়ালেখার যে কোনো বয়স নেই– একথা ফের প্রমাণ করলেন ৫৫ বছর বয়সী বৃদ্ধ মোহাম্মদ রেজাউল আমিন। কওমি মাদরাসার সর্ববৃহৎ শিক্ষাবোর্ড বেফাকের (বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ) অধীনে জামাতে শরহে বেকায়ার কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ সংক্রান্ত কয়েকটি ছবি ব্যাপকহারে ছড়িয়ে পড়ে। তাতে দেখা যায়– তরুণ শিক্ষার্থীদের সাথে হলে বসে নিবিড় মনে পরীক্ষা দিচ্ছেন মোহাম্মদ রেজাউল আমিন। এরপর থেকেই সবশ্রেণির মানুষের প্রশংসায় ভাসছেন চার সন্তানের এই জনক।

মোহাম্মদ রেজাউল আমিনের বড় ছেলে মুফতি নাঈম ইবনে রেজা। বৃহস্পতিবার রাতে ফোনে তার সাথে যোগাযোগ করা হয়। এ সময় তিনি তার বাবার পরীক্ষা দেয়ার বিষয়টি নয়া দিগন্তকে নিশ্চিত করেন।

কিন্তু জীবনের পড়ন্ত বেলায় কোন জিনিস তার বাবাকে মাদরাসায় পড়তে উদ্ধুদ্ধ করলো– সে বিষয়ে জানতে চাইলে মুফতি নাঈম জানান, ‘২০১৮ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ২০ বছর যাবত তার বাবা রবি আজিয়াটা লিমিটেডের হেড কোয়ার্টারের একাউন্টিং সেক্টরে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন। তখন তাবলীগ-জামাতের সাথে জড়িত ছিলেন তিনি এবং আলেমদের সাথেও ছিল চমৎকার সম্পর্ক। সেখান থেকেই মূলত দ্বীনী ইলম শেখার প্রতি তার আগ্রহ তৈরি হয় এবং এর ফলশ্রুতিতে নিজ সন্তানদেরও মাদরাসায় ভর্তি করেন।’

মুফতি নাঈম বলেন, ‘আমরা নিয়মতান্ত্রিক মাদরাসায় পড়লেও ব্যস্ততার কারণে বাবা সেটি পারেননি; বরং তিনি মোহাম্মদপুরের আন নুর নৈশ মাদরাসায় পার্টটাইম পড়তেন। এখনো সেখানেই পড়ছেন এবং সেখান থেকেই বেফাকের কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন।’

‘তবে শুরুতে মোহাম্মদ রেজাউল আমিনের প্রতিষ্ঠানিকভাবে মাদরাসায় পড়ার ইচ্ছা ছিল না। তিনি যখন তার সন্তানদের মাদরাসায় দেখতে যেতেন, তখন সেখানকার শিক্ষকদের সাথে বসে বাদাম খেতেন এবং তাদের থেকে দ্বীনের প্রয়োজনীয় বিষয়াদি ও পবিত্র কুরআন শিখতেন– এভাবেই তার ইসলামী জ্ঞান অন্বেষণ শুরু। এরপর যখন দেখলেন– এতে তিনি মজা পাচ্ছেন, তখন নৈশ মাদরাসায় পড়ালেখা শুরু করে দিলেন’ জানালেন মুফতি নাঈম ইবনে রেজা।

কিন্তু মুফতি নাঈম ইবনে রেজা তার বাবা সম্পর্কে আরো যে তথ্যটি জানালেন, তা আরো বিস্ময়কর। মুফতি নাঈম জানান, ‘তার বাবা যে মাদরাসায় (আন নুর নৈশ মাদরাসায়) জামাতে শরহে বেকায়ায় পড়ছেন, তার ছোট ভাই (রেজাউল আমিনের ছোট ছেলে) একই মাদরাসার দাওয়াহ বিভাগের ছাত্র। মানে ছেলের ক্লাসে পড়ার যোগ্যতা অর্জন করতে বাবার আরো অন্তত দুই বছরের বেশি সময় লাগবে।’ নাঈম ইবনে রেজা তার বাবা ও পরিবারে সব সদস্যের কল্যাণের জন্য দেশবাসীর দোয়া চেয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

17 + 19 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য