ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় মুসলিমদের ওপর নিপীড়ন চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দেশটির মুসলিম কাউন্সিলের প্রধান সেরান আরেফভ। বুধবার (১ মার্চ) ‘ইউক্রেনের মুসলিমরা : যুদ্ধের এক বছর’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে তিনি ভয়াবহ পরিস্থিতিতে মুসলিমদের দুঃখ-দুর্দশার কথা তুলে ধরেন।
আরেফভ বলেন, ‘যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মুসলিম বিশ্বের প্রতি ইউক্রেন সরকারকে সমর্থনের আহ্বান জানিয়ে আসছে মুসলিম কাউন্সিল। ইউক্রেনের যুদ্ধাহত অঞ্চলগুলোতে দাতব্য ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনায় মুসলিম কাউন্সিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।’ তা ছাড়া মুসলিম দেশগুলোতে রাশিয়ার যুদ্ধবিষয়ক বর্ণনার খণ্ডনে এর সদস্যরা কাজ করছেন বলে জানান তিনি।
এদিকে ইউক্রেনের মুফতি শায়খ মুরাদ সুলাইমানুভ জানিয়েছেন, তাদের আহ্বানে সর্বপ্রথম যে সংস্থা সাড়া দিয়েছে তা হলো, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অব মুসলিম স্কলার্স। এক বিবৃতিতে তাদের পক্ষ থেকে ইউক্রেনে হামলার জন্য রাশিয়ার বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানানো হয়। রাশিয়ার বিপক্ষে মুসলিম বিশ্বের আলেমদের অবস্থান গ্রহণ ইউক্রেনের মুসলিমদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে জানান তিনি। তা ছাড়া ইউক্রেনের যুদ্ধাহত মুসলিম কমিউনিটির জন্য উরোপিয়ান মুসলিম কাউন্সিলের মানবিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে বলে জানান তিনি।
ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা শুরুর পর এক বার্তায় মুসলিম বিশ্বের কাছে নিজ দেশের জন্য সব ধরনের সহযোগিতা চেয়েছিলেন ইউক্রেনের মুসলিম কমিউনিটির তৎকালীন মুফতি সাইদ ইসমাইগিলভ। সেই সময় তিনি বলেছিলেন, ‘ইউক্রেনের মুসলিমদের প্রধান মুফতি হিসেবে নিজ দেশকে সহযোগিতা করা রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় কর্তব্য। কারণ আমাদের ধর্ম ন্যায় ও সত্য প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দেয়।
যুদ্ধের আগে ইউক্রেনে মুসলিমদের সংখ্যা ছিল প্রায় দেড় মিলিয়ন। এদের মধ্যে এক মিলিয়ন কিয়েভ শহর ও পূর্ব-দক্ষিণ অঞ্চলে বসবাস করত। গত বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা শুরু হয়। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি এই হামলার এক বছর পূর্তি হয়।
সূত্র : আলজাজিরা মুবাশির
