Saturday, April 18, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeনিবন্ধবনু উমাইয়াকে ঘৃণা কেন?

বনু উমাইয়াকে ঘৃণা কেন?

📚ইবনে কাসীর (রহ.) তার তারিখের কিতাব ‘আল বিদায়া’(১/১০৪) এ বলেছেন:


✔বনু উমাইয়ার শাসনামলে জি-হা-দ চরমে উঠেছিল। এ ছাড়া তাদের কোনো শখ ই ছিল না। তারা কু-ফ-র ও কা-ফি-র-দের অপমানিত করেছেন। তাদের সময়ে মু-শ-রি-ক ও কা-ফে-র-রা প্রকম্পিত হয়েছিল। তখন মুজাহিদিনরা যধরের অভিমুখ হয়ে জয় করতো। বনু উমাইয়্যার মতো পরিবার কখনো জন্ম নেয়নি যার অনুগ্রহ ও আনুকূল্য এর চেয়ে বেশি হয়েছে। খলীফায়ে রশিদ উসমানের শাসনামলে বিজয়ের সংখ্যা ছিল নজিরবিহীন। উম্মুল মুমিনীন উম্মে হাবিবা নবীর পবিত্র স্ত্রী। মুয়াবিয়া (রা.) ওহীর লেখক ছাড়াও এমন আমির ও খলিফা ছিলেন, যিনি ক্রুসেডারদের চল্লিশ বছর ধরে নাক চেপে রেখেছিলেন। অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলার সুযোগ নিয়ে রোমান বাদশাহ আলীর বিরুদ্ধে তাকে চিঠি লিখলে তিনি সাথে সাথে তাকে লিখে উত্তর পাঠান: “হে রোমের কুকুর! যদি তুমি আমার ভাই আলীকে আক্রমণ করার কথাও ভাবো, তাহলে শোনো মুয়াবিয়া আলীর বাহিনীর একজন নিচু সৈনিক হয়ে তোমার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে।”
✔আব্দুল্লাহ বিন সাঈদ বিন আস বিন উমাইয়া ছিলেন বদরের ১৩ জন শহীদের একজন।
✔মুয়াবিয়ার ভাই ইয়াজিদ ইবনে আবি সুফিয়ান ছিলেন লেবাননের বিজয়ী এবং সিরিয়ার সেনাবাহিনীর সেনাপতি।
✔ইয়াজিদ বিন মুয়াবিয়া ছিলেন কনস্টান্টিনোপলের প্রথম আক্রমণের সেনাপতি, যার সম্পর্কে ক্ষমার হাদিস জানা যায়।
✔খালিদ বিন ইয়াজিদ আমুউই প্রথম আলকেমি বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠা করেন। আর দেখিয়েছেন আধুনিক বিজ্ঞান শেখার পথ।
✔উকবা বিন নাফি ফাহরি ছিলেন আফ্রিকার উমাইয়া বিজেতা।
✔আব্দুল মালিক বিন মারওয়ান ছিলেন একজন উমাইয়া আইনবিদ এবং একই সাথে খলিফা যিনি ছড়িয়ে পড়া সমস্ত অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহের অবসান ঘটিয়েছিলেন। তিনি ই আল-আকসা মসজিদে ডোম অফ দ্য রক তৈরি করেছিলেন।
✔উমার বিন আব্দুল আজিজ উমাইয়া ছিলেন, যাকে খলীফায়ে রশিদ বলা হয়। আপনি তাদের সম্পর্কে আমার চেয়ে বেশি জানেন।
✔আন্দালুস উমাইয়াদের দ্বারা জয় করা হয় এবং ইউরোপে ফ্রান্স ও জার্মানি পর্যন্ত পৌঁছে যায়।
✔আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, জর্জিয়া এমনকি তুরস্কও বনু উমাইয়াদের দ্বারা জয়লাভ করেছিল।
✔আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ভারত উমাইয়াদের হাতে জয় হয়েছিল, যাদের কৃতজ্ঞতায় আমরা আজ মুসলমান, কিন্তু তাদের ধন্যবাদ না দিয়ে আমরা তাদের গালি দিচ্ছি।
✔উজবেকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান, কাজাখস্তান, কাশগর, চীন জয় করেছিলেন কুতায়বা বিন মুসলিম বাহলি, তিনি ছিলেন বনু উমাইয়াদের একজন সেনাপতি।
✔মুহাম্মদ বিন কাসিম ছিলেন বনু উমাইয়াদের একজন প্রবীণ সৈনিক যিনি ভারত জয় করেছিলেন।
✔আব্দুর রহমান আদ-দাখিল এবং আব্দুর রহমান আন-নাসির উভয়েই উমাইয়া সুলতান ছিলেন যারা ইউরোপে অজ্ঞতা ও ভুলের কারণে হারিয়ে যাওয়া লোকদের জন্য নির্দেশনা ও জ্ঞান নিয়ে এসেছিলেন।
✔বনু উমাইয়াদের সামরিক ঘোড়াগুলি সেই সময়ের পরিচিত অঞ্চলে কোথায় পৌঁছায়নি তা কি বলতে পারবেন?! বিজয়ের পাশাপাশি তারা তাকলীদ ও বিদআত মিশ্রিত ছাড়া বিশুদ্ধ দ্বীন প্রচার করতেন। এটিই বনু উমাইয়ার সাথে শত্রুতার মূল কারণ।
✔তারা সেই বনু উমাইয়া যাদের আমলে আবার কুরআন সংকলিত হয়েছিল। এর উপর জবর, জের, পেশ বসানো হয়েছিল। হাদীসের সংকলন করা হয়েছিল, আরবি কাওয়াঈদের ভিত্তি রচিত হয়েছিল।
✔উমাইয়া আমলে সকল সরকারি অফিস আরবি ভাষায় স্থানান্তরিত হয়।
✔উমাইয়া যুগে ইসলামি মুদ্রা তৈরি হতে শুরু করে। এর আগে, রোমান মুদ্রা ব্যবহার করা হয়েছিল।
✔প্রথম নৌ-ইসলামী নৌবহরও তাদের সময়ে নির্মিত হয়।
✔ওয়ালিদ বিন আব্দুল মালিকের শাসনামলে ইসলামি ভূখণ্ডের আয়তন এত বড় হয়ে যায় যে এত বড় এলাকা কখনো কোনো মুসলিম শাসকের অধীনে ছিল না। এভাবে বনু উমাইয়াদের শাসনামলে নামাযের আযান চীন ও ভারতের হিমালয় থেকে আফ্রিকার মরুভূমিতে পৌঁছেছিল। সেখান থেকে ইউরোপে আন্দালুসিয়া থেকে পর্তুগাল এবং ফ্রান্স ও জার্মানিতে চলে যায়।
✔তাদের পতাকা ছিল সাদা যার গায়ে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ লেখা ছিল। যারা সারা বিশ্বে নিখুঁত তাওহীদের পতাকা উড়িয়েছিলেন। তখন তাকলীদের ঝগড়াও ছিল না, বিদআতও ছিল না। রাফজিয়াতকে মাটিতে চাপা দেওয়া হয়েছিল। খারজিয়াত মাথা তোলা মাত্রই ধ্বংস হয়ে যেত। এখানে-সেখানে ফিৎনা দেখা দিলে, উমাইয়া সেনাপতিরা তা দমন করার জন্য এগিয়ে যেতেন।
✔বনু উমাইয়ারা ইসলাম ধর্মের যে খাঁটি খেদমত করেছে তা কেউ করতে পারবে না।
✔সকল বিদআতী, রা-ফে-জি, তাকলীদি, খা-রে-জী, ইখুয়ানি, সুফি ও তাহরীকি ঠিকাদারদের বনি উমাইয়াদের সাথে প্রধান শত্রুতার কারণ তাদের তাওহীদ।
👈 এছাড়াও আরো অনেক কারণ আছে। যেগুলো নিম্নোক্ত কিতাবগুলোতে দেখতে পারেন:
●الأمويون بين الشرق والغرب للدكتور محمد السيد الوكيل۔
●أطلس تاريخ الإسلام . تأليف حسين مؤنس.
●أطلس تاريخ الدولة الأموية. المؤلف: سامي بن عبد الله بن أحمد المغلوث.
●مقارنة بين الخلافة الأموية والخلافة العباسية:
http://www.ibnamin.com/Tarikh/umayad_abbasi.htm
●الدولة الأموية عوامل الإزدهار وتداعيات الإنهيار المؤلف: علي الصلابي
●الدولة الأموية المفترى عليها دراسة الشبهات والرد عليها. تأليف: د. حمدي شاهين
এই কিতাবকে এইখান থেকেই ডাউনলোড করতে পারেন:
https://ar.islamway.net/book/20281/الدولة-الأموية-المفترى-عليها-دراسة-الشبهات-والرد-عليها
নোট: এই শেষ বইটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং অবশ্যই পড়া উচিত।
—————————-
✏আজমল মঞ্জুর মাদানী
✍️অনুবাদ: ডি. এম. নাজমুস সাদাত

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

1 × two =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য