Thursday, April 23, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরজ্বালানি সংকটে চাপে বাংলাদেশ

জ্বালানি সংকটে চাপে বাংলাদেশ

বাংলাদেশ সরকার কয়েক মাস ধরে আমদানির ওপর বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করার ফলে শিল্পের কাঁচামাল আমদানি কমেছে। পাশাপাশি দেশে জ্বালানি সংকটও রয়েছে। এসব কারণে দেশের শিল্প উৎপাদন ও পরিসেবা- এ দুই খাতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

গত জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশের জন্য একটি ঋণ কর্মসূচি অনুমোদন করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। বিশ্বব্যাংক বলছে, এই ঋণ নেওয়ার পেছনে বাংলাদেশের উদ্দেশ্য হচ্ছে আন্তর্জাতিক লেনদেনে ভারসাম্য রক্ষা করা এবং আমদানি নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা থেকে বের হয়ে আসা। বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ ‘গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্ট’ প্রতিবেদনে এমন তথ্য দেওয়া হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। তবে বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি নিয়ে আগের পূর্বাভাসই বহাল রাখা হয়েছে। গত জানুয়ারি মাসে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আরেকটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল বিশ্বব্যাংক। সেখানে চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ২ শতাংশ হতে পারে- এমন পূর্বাভাস দিয়েছিল। এ ছাড়া আগামী ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি কিছুটা বেড়ে ৬ দশমিক ২ শতাংশ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৪ শতাংশ হতে পারে বলে জানিয়েছে তারা। গত মঙ্গলবার প্রকাশিত প্রতিবেদনেও একই পূর্বাভাস বহাল রেখেছে সংস্থাটি। যদিও সরকার চলতি ও আগামী অর্থবছরের জন্য জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ঠিক করেছে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ।


বিশ্বব্যাংক বলেছে, আন্তর্জাতিক লেনদেনের ভারসাম্য ব্যাহত হওয়া ও বিনিময় হারের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে বাংলাদেশসহ নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলংকা আমদানির ওপর নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা নিয়েছিল। এর ফলে এসব দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যাপক প্রভাব পড়ে। তবে এখন আন্তর্জাতিক লেনদেন ভারসাম্য পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। এ কারণে এসব দেশে আমদানি নিষেধাজ্ঞাগুলো শিথিল করা হচ্ছে।

আমদানি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বেশ কিছু খাদ্যপণ্য রপ্তানিতেও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান। বিশ্বব্যাংক বলছে, বর্তমানে বিশ্বব্যাপী খাদ্যপণ্যের দাম কমে এসেছে। তা সত্ত্বেও এসব দেশ বিদ্যমান খাদ্য রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা ২০২৩ সাল পর্যন্ত বহাল রাখতে পারে।

এ ছাড়া দেশে কর্মসংস্থানের উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন। তবে বলেছে যে পরিবারের প্রকৃত উপার্জন এখনো মহামারীর আগের পর্যায়ে যেতে পারেনি।

আর্থিক খাতের উচ্চ ঝুঁকি রয়ে গেছে : বিশ্বব্যাংক বলেছে, উচ্চমাত্রায় খেলাপি ঋণ, পুঁজির ক্ষেত্রে দুর্বলতা ও ব্যাংকিং খাতে সুশাসনের দুর্বলতার কারণে দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের বেশ কয়েকটি দেশের আর্থিক খাতে উচ্চ ঝুঁকি রয়ে গেছে। এসব দেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ অনেক বেশি। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ও শ্রীলংকায় খেলাপি ঋণের পরিমাণ অনেক বেড়েছে। বাংলাদেশে করপোরেট খাতে সুশাসনের দুর্বলতা ও পুঁজির সংকটও আর্থিক খাতে ঝুঁকি বৃদ্ধি করছে।

এ ছাড়া বেশি পরিমাণে সরকারি ও বৈদেশিক ঋণ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যাওয়া এবং আর্থ-সামাজিক উত্তেজনা প্রভৃতি কারণে এ অঞ্চলের বেশ কয়েকটি দেশে আর্থিক সংকটের ঝুঁকি বাড়ছে। এসব সংকট শেষ পর্যন্ত দেশের প্রবৃদ্ধি কমিয়ে দিতে পারে বলে বিশ্বব্যাংক তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে।

বিশ্বব্যাংক আরও বলেছে, এ অঞ্চলের দেশগুলোতে আর্থিক নীতির কঠোরতা অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতিগত সুদহার বাড়িয়েছে। কিন্তু ঋণের সুদহারের ক্ষেত্রে সীমা আরোপিত থাকায় অর্থনীতিতে তার সুফল পাওয়া যায়নি। তবে বিশ্বব্যাংক আশা করছে, দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে আর্থিক একীকরণ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।

দক্ষিণ এশিয়ার প্রবৃদ্ধি কমবে : সর্বশেষ গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টস প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংক বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির হার নিয়ে তাদের পূর্বাভাস আগের তুলনায় বাড়িয়েছে। গত জানুয়ারিতে বিশ্বব্যাংক বলেছিল, চলতি বছর বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি হবে ১ দশমিক ৭ শতাংশ। তবে বছরের মাঝামাঝি সময়ে এসে সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২৩ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ১ শতাংশ হতে পারে।

যদিও এটি ২০২২ সালের ৩ দশমিক ১ শতাংশ ও ২০২১ সালের ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির তুলনায় অনেক কম। তবে ২০২৫ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি আবার ৩ শতাংশে প্রত্যাবর্তন করবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

প্রতিবেদনে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর প্রবৃদ্ধি কমার পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটি বলেছে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর প্রবৃদ্ধি কমে ২০২৩ সালে ৫ দশমিক ৯ শতাংশ হবে। ২০২৪ সালে তা আরও কমে ৫ দশমিক ১ শতাংশ হতে পারে।

হালনাগাদ প্রতিবেদনে ভারতের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসও কমিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটি বলেছে, ভারতে ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৩ শতাংশ হবে। এটি গত জানুয়ারিতে করা পূর্বাভাসের তুলনায় শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ কম।

দরিদ্র দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত : করোনা মহামারী, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও দেশে দেশে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর কঠোর মূল্যস্ফীতিবিরোধী পদক্ষেপের সম্মিলিত প্রভাবে দরিদ্র দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

একই সঙ্গে সংস্থাটি বলেছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ২০৩০ সালের মধ্যে জাতিসংঘের দারিদ্র্যবিরোধী উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা পূরণের জন্য কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে সবচেয়ে দুর্বল দেশগুলোকে নতুন ঋণসংকটের ঝুঁকি সম্পর্কেও সতর্ক থাকতে হবে।

প্রতিবেদন প্রকাশের পরে বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ইন্দারমিত গিল বলেছেন, বিশ্ব অর্থনীতি একটি অনিশ্চিত অবস্থানে রয়েছে। উদীয়মান ও উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশগুলোতে উচ্চ সুদহারের কারণে ঋণের চাপ বাড়ছে। আর্থিক খাতের দুর্বলতা ইতোমধ্যে অনেক নিম্নআয়ের দেশকে ঋণসংকটে ফেলেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

19 + 16 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য