যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন বাংলাদেশের হাফেজ মুহান্নাদ বিন মুহাম্মদ। তিনি প্রতিযোগিতার পুরো কোরআন হিফজ বিভাগে ছেলেদের মধ্যে তৃতীয় পুরস্কার লাভ করেন। স্থানীয় সময় গত রবিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যায় মিনেসোটার এডিনা হাই স্কুল প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কারের অর্থ ও সম্মাননা সনদ তুলে দেন মিনেসোটা ইসলামিক ইউনিভার্সিটির প্রধান শায়খ ড. ওয়ালিদ ইদরিস আল-মানিসি।
মিনেসোটাভিত্তিক কোরআন শিক্ষাকেন্দ্র তিবয়ান সেন্টার ফর কোরানিক সায়েন্স তিনব্যাপী আন্তর্জাতিক এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।
দুই বিভাগে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় ৩০টি দেশ থেকে ৪২ জন প্রতিযোগী অংশ নেন। এতে অংশ নিতে গত ৭ জুলাই বাংলাদেশ থেকে মুহান্নাদ তার চাচা শায়খ কারি নুর মোহাম্মদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে যান। মুহান্নাদের বাড়ি নরসিংদীর শিবপুরে। তার পিতা শায়খ মুহাম্মদুল্লাহ কাতারে ধর্মমন্ত্রণালয়ের অধীনে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
কারি নুর মোহাম্মদ বিন হুসাইন কালের কণ্ঠকে এসব তথ্য জানান।
তিবয়ান সেন্টারের ফেসবুক পেজ থেকে জানা যায়, আন্তর্জাতিক এ প্রতিযোগিতায় পুরো কোরআন হিফজ বিভাগে ছেলেদের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেন ফ্রান্সের উমর আফুফ। তিনি ১৫ হাজার ডলার পুরস্কার লাভ করেন। দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে ৭ হাজার ডলার পুরস্কার পান যুক্তরাষ্ট্রের সরওয়ার জামালুদ্দিন।
তৃতীয় স্থান অধিকার করে পাঁচ হাজার ডলার পুরস্কার পান বাংলাদেশের মুহান্নাদ। এছাড়া ১০ কিরাতে কোরআন হিফজ বিভাগে একমাত্র পুরস্কার লাভ করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিযোগী ঈদিন শাহারজাদ। তিনি পুরস্কার ২০ হাজার মার্কিন ডলার পেয়েছেন।
এদিকে পুরো কোরআন হিফজ বিভাগে মেয়েদের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেন কেনিয়ার মুনা ইদি ফারেহ। তিনি ১৫ হাজার ডলার পুরস্কার লাভ করেন।
দ্বিতীয় স্থান করে সাত হাজার ডলার পুরস্কার পান যুক্তরাষ্ট্রের নুরা আহমদ। তৃতীয় স্থান অধিকার করে পাঁচ হাজার ডলার পান মিসরের নাদা মুহাম্মদ ফাতহি।
এতে প্রধান বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন ইসলামিক ইউনিভার্সিটির প্রধান ও ফিকাহ কাউন্সিলের সদস্য শায়খ ড. ওয়ালিদ ইদরিস আল-মানিসি। বিচারক হিসেবে আরো দায়িত্ব পালন করেন, মক্কার উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিরাত বিভাগের শিক্ষক ড. সালেম গারামুল্লাহ আল-জাহরানি, তায়েবা ইউনিভার্সিটির কোরআনিক স্টাডিজের শিক্ষক ও পবিত্র মসজিদে নববীর কারি ড. সুহাইল বিন মুহাম্মদ ইকবাল, কুয়েত বিশ্ববিদ্যালয়ের তাফসির ও হাদিস বিভাগের শিক্ষক ড. মুহাম্মদ ফালাহ মিনডেকার, লেবাননের ত্রিপলির জিনান ইউনিভার্সিটি কিরাত বিভাগীয় প্রধান ড. জিয়াদ আল-হাজ, বৈরুতের মারকাজু খিদমাতিল কোরআনের পরিচালক ও শায়খুল কুররা শায়খ মাহমুদ আকাবি, নিউজার্সির ইসলামিক কালচারাল সেন্টারের ইমাম ও খতিব শায়খ হাসান সালেহ এবং আল-ফিরদাউস সেন্টার ফর কোরআনের প্রধান শায়খ আবদুন সাসের ইউসুফ আলী।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটায় তরুণ মুসলিমদের মধ্যে কোরআনভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম প্রসারে কাজ করছে তিবয়ান সেন্টার ফর কোরানিক সায়েন্স। শায়খ কারি আবদুর নাসের ফারেহ প্রতিষ্ঠিত এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে ২০২২ সালে প্রথম আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতা শুরু হয়। গত বছর ল্যানহামে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় ১৮টি দেশের প্রতিযোগীরা অংশ নেন।
তথ্যসূত্র : তিবয়ান সেন্টার
