সাগর মোহনায় বাঁধ দিয়ে মাছের ঘের

0
109

চট্টগ্রাম ও ফেনীর সীমান্তবর্তী সোনাগাজী এলাকায় সাগর ও নদীর মোহনায় বাঁধ দিয়ে মাছের ঘের বানানো হয়েছে। এতে প্রবহমান নদী ও সাগরের জোয়ারের পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আশপাশের এলাকায় ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। এই বাঁধ নির্মাণের সঙ্গে স্থানীয় সাতজন জড়িত। স্থানীয় লোকজন জানায়, তাঁরা সবাই ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।  

গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বঙ্গোপসাগরের উজান এবং ফেনী নদীর ভাটিতে মুহুরী সেচ প্রকল্প এলাকায় নদী ও সাগরের মোহনায় বিশাল জায়গায় বৃত্তাকার বাঁধ দিয়ে মাছের ঘের করা হয়েছে। এই বাঁধের কারণে নদীর পানিপ্রবাহ এবং সাগরের জোয়ারের পানি ঘেরে বাধাগ্রস্ত হয়ে দুই পাশ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানিপ্রবাহের পথ বদলে যাওয়ায় মিরসরাই অংশের স্থলভাগে ভাঙন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় লোকজন জানায়, ভাঙনের কারণে অনেক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেকে ভাঙনের আতঙ্কে সময় কাটাচ্ছে। এ ছাড়া ভাঙনের কবলে পড়েছে ১১.৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সিডিএসপি বাঁধ।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নদী ও সাগরের মাঝপথ দখল করে মাছের ঘের করেছেন চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের ওচমানপুর ইউনিয়নের মাছ ব্যবসায়ী নুরুল আমিন। পরে তাঁর সঙ্গে কথা বললে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ৩৫ একরের এই ঘের তিনি ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের ইফতেখার, ফরহাদ, সাঈদ আনোয়ারসহ ছয়-সাত ব্যক্তির কাছ থেকে ইজারা নিয়েছেন। এ জন্য তিনি বছরে ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকা করে দিচ্ছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, যাঁরা এই জমি ইজারা দিয়েছেন তাঁরা খুব প্রভাবশালী। এ জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কোনো ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

স্থানীয় কামরুল ইসলাম বলেন, ‘সাগর মোহনায় বাঁধ করার সময় আমরা বাধা দিয়েছি, কিন্তু তারা শোনেনি। এই বাঁধের কারণে এখন আশপাশের এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। এই ভাঙন সামনে ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাঈদ আনোয়ার, ইফতেখার, ফরহাদসহ তাঁরা সবাই স্থানীয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের রজনীতি করেন। তাঁদের মধ্যে সাঈদ আনোয়ার সোনাগাজী উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি বলেন, ‘ভাই, আমরা এগুলো মানুষজন থেকে দলিলমূলে কিনে তারপর ঘের করেছি। প্রয়োজনে আমরা কাগজপত্র দেখাতে পারি।’ কাগজপত্র দেখতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কিছু কাগজ এখনো ঠিক হয়নি। সব কাগজ হাতে এলে আপনাকে দেব।’

এ বিষয়ে জানতে ফেনী পাউবোর বিভাগীয় প্রকৌশলী আরিফুর রহমান চৌধুরীর মোবাইলে ফোন দিলে তিনি বলেন, ‘আসলে ওই অঞ্চলে খুব কম যাওয়া হয়। দখল সম্পর্কে আমরা জানি না।’

এ বিষয়ে সোনাগাজী উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও স্থানীয় আমিরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আজিজুল হক হিরণ মোবাইল ফোনে কালের কণ্ঠকে বলেন, যে জায়গায় মাছের ঘের করা হয়েছে সেটি সাগর ও নদীর মধ্যবর্তী জায়গা (লামছি)। এটা এই ইউনিয়নে পড়েনি। আর যাঁরা মোহনার জমি দখল করেছেন তাঁদের বিষয়ে তিনি বলেন, তাঁরা এই এলাকার। এর বেশি তিনি বলতে চাননি। 

সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুল হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা অবহিত আছি। আমার আগের ইউএনও দখলদারদের সাত দিনের মধ্যে সরে যেতে একটি মুচলেকা নিয়েছিলেন। তারা তখন বলেছিল, নিজেরাই দখল উচ্ছেদ করে সরে যাবে।’ এখনো তাঁরা ৩৫ একর জায়গা দখল করে আছেন, বিষয়টি জানালে ইউএনও বলেন, ‘আমরা অবশ্যই এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেব।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

2 × three =