Tuesday, April 21, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরআমতলীতে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কারে নামমাত্র কাজ করে টাকা উত্তোলন

আমতলীতে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কারে নামমাত্র কাজ করে টাকা উত্তোলন

বরগুনার আমতলী উপজেলার আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিখা-কাবিটা) প্রকল্পের আওতায় এক কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা নির্মাণ কাজে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঠিকাদার আবুল হোসেন ও প্রকল্প সভাপতি মিজানুর রহমান মোল্লা ১০ লাখ টাকার বরাদ্দে নামমাত্র কাজ করে সমুদয় টাকা উত্তোলন করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আর এতে করে রাস্তার দুরবস্থার জন্য দুর্ভোগ পোহাচ্ছে স্থানীয়রা। ঠিকাদার ও প্রকল্প সভাপতির বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।


জানা গেছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার প্রকল্পে আমতলী উপজেলার আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের চরকগাছিয়া দ্বীনিয়া মাদরাসা হতে জাহাঙ্গীর খান বাড়ি পর্যন্ত এক কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা নির্মাণে ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। স্থানীয় সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু এই কাজ দেন তার অনুগত আবুল হোসেন নামের এক ঠিকাদারকে। ঠিকাদার আবুল হোসেন প্রকল্প এলাকার মিজানুর রহমান মোল্লাকে প্রকল্প সভাপতি করেন। অভিযোগ রয়েছে প্রকল্প সভাপতি ও ঠিকাদার মিলে নামেমাত্র কাজ করে ওই বরাদ্দের টাকা উত্তোলন করে নিয়েছেন। স্থানীয়রা জানান, প্রকল্প সভাপতি মিজানুর রহমান ভেকু মেশিন দিয়ে রাস্তায় অল্প মাটি দিয়ে কাজ শেষ করেছেন। মাটি কম দেয়ায় ওই রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, রাস্তায় অল্প কিছু মাটি দিলেও তা সরে গিয়ে সব রাস্তা খানাখন্দে পরিণত হয়েছে। পুরনো রাস্তার সাথে নতুন রাস্তা কাঁদায় একাকার হয়ে গেছে। বোঝার অবকাশ নেই যে এ রাস্তায় মাটি দেয়া হয়েছে। রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে যাওয়ায় এলাকাবাসীর মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
স্থানীয় আব্দুস ছালাম নাগর, মুরাদ হোসেন ও মহসীন বলেন, ঠিকাদারকে তো চোখেই দেখিনি। প্রকল্প সভাপতি মিজানুর রহমান মোল্লা ভেকু মেশিন দিয়ে কিছু মাটি রাস্তায় লেপটে দিয়েছে। বর্তমানে রাস্তার করুণ দশা। রাস্তা দিয়ে মানুষ চলাচল করতে পারছে না। রাস্তা খানাখন্দে পরিণত হয়েছে। রাস্তার দুই পাশে সেøপ রাখা হয়নি।

প্রকল্প সভাপতি মিজানুর রহমান মোল্লা এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ভেকু মেশিন দিয়ে ৬৪ ঘণ্টা কাজ করেছি। প্রকল্পে যতটুকু রাস্তা ধরা ছিল তার চেয়েও বেশি করেছি।
আড়পাঙ্গাশিয়া ইউপি চেয়ারম্যান সোহেলী পারভীন মালা বলেন, এমপির বিশেষ বরাদ্দে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার প্রকল্পের কাজে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। নামমাত্র কাজ করেছেন প্রকল্প সভাপতি মিজানুর রহমান মোল্লা ও ঠিকাদার আবুল হোসেন। এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে বেশ ক্ষোভ রয়েছে। তিনি আরো বলেন, দুঃখের বিষয় হচ্ছে, আমার ইউনিয়নে এমপি বরাদ্দ দেয় তা আমি জানি না। তার পছন্দের লোকে নামেমাত্র কাজ করে টাকা তুলে নিয়েছেন।

আমতলী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জামাল হোসাইন বলেন, কাজ শেষ হওয়ায় বরাদ্দকৃত টাকা ছাড় দেয়া হয়েছে। ঠিকাদার আবুল হোসেন ও প্রকল্প সভাপতি মিজানুর রহমান মোল্লা টাকা তুলে নিয়েছেন। কিন্তু তার কাছে কাজের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম বলেন, এখনই খোঁজ নিচ্ছি। যথাযথভাবে কাজ না করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

fourteen − four =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য