বাংলাদেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতি, ইসরাইলে ইরানের হামলা, ইউক্রেন যুদ্ধ, ইন্দো-প্যাসিফিকসহ বিভিন্ন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেনের সঙ্গে মঙ্গলবার আলোচনা করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। এ খবর দিয়ে অনলাইন হিন্দুস্তান টাইমস বলছে, এই দুই নেতার মধ্যে পশ্চিম এশিয়ায় তীব্র হয়ে ওঠা সংঘাত, যুদ্ধের বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন তারা। তাদের আলোচনায় উঠে আসে বাংলাদেশ পরিস্থিতি। বাংলাদেশে যে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শাসকগোষ্ঠীর পরিবর্তন হয়েছে তা নিয়ে দুই দেশের রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন মূল্যায়ন। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কি ইস্যুতে আলোচনা হয়েছে সে সম্পর্কে বিস্তারিত বলেননি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও আলোচনায় কোন দেশ উঠে এসেছিল সে বিষয় উল্লেখ করেনি। তবে এ বিষয়ে জানেন এমন সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে খবরে বলা হয়, বাংলাদেশে মৌলবাদী এবং উগ্রশক্তির উত্থান নিয়ে উদ্বেগের কথা আলোচনায় তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তার বিষয়ও আলোচনা হয়েছে। উদীয়মান এবং প্রযুক্তিগত গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপক্ষীয় অংশীদারিত্বের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয় এতে। ওয়াশিংটন ডিসিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিনকেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন জয়শঙ্কর। এই দুই নেতার মধ্যে দেলাওয়ার রাজ্যে কোয়াড লিডার্স সামিটে সাক্ষাৎ হয়েছিল। আবার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে ২১শে জুলাই তাদের সাক্ষাৎ হয়। আবার জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের সময় নিউ ইয়র্কে এক ফাঁকে জি-২০ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে মিটিংয়েও তাদের সাক্ষাৎ হয়। তাদের মধ্যে এমন এক সময়ে এই সাক্ষাৎ হয়েছে যখন ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র কূটনীতিতে একটি কঠিন সময় পার করছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এবং বাইরে দু’টি যুদ্ধের মুখোমুখি।
এই দুই নেতার মধ্যে বৈঠকের আগে ব্লিনকেন তার ভাষণে ইসরাইলের বিরুদ্ধে ইরানের হামলার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি একে একেবারে অগ্রহণযোগ্য বলে আখ্যায়িত করেন। আশা করেন, অন্য দেশগুলো এ হামলার নিন্দা জানাবে। একই সঙ্গে তিনি ইসরাইলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন প্রকাশ করেন। এরপর তিনি তার ‘বন্ধু’ জয়শঙ্করকে স্বাগত জানান এবং বলেন, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে শক্তিশালী অংশীদারিত্ব এবং বিশ্বাসযোগ্য গতিশীলতা দেখা গিয়েছে। এ সময় জয়শঙ্কর বলেন, তিনি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং বৈশ্বিক পরিবর্তিত বিষয়গুলোকে পর্যালোচনা করতে চান। এই মিটিংয়ের কয়েক ঘণ্টা আগে কার্নেই এনডোমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস-এ জয়শঙ্কর বলেছেন, পশ্চিম এশিয়াতে যুদ্ধ বা সংঘাতের বিস্তার হওয়ায় ভারত উদ্বিগ্ন। তিনি বলেন, কঠিন সময়ে যোগাযোগের গুরুত্বকে ছোট করে দেখবেন না। উল্লেখ্য, অতীতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যোগাযোগে গুরুত্বপূর্ণ একটি ভূমিকা পালন করেছিল। অতি সম্প্রতি গত এপ্রিলে ইসরাইলের উস্কানিতে যখন ইরানের জবাবের আশঙ্কা করছিল যুক্তরাষ্ট্র- তখন এমন যোগাযোগ করেছে।
