ব্যাটারিচালিত রিকশা তিন দিনের মধ্যে বন্ধে হাইকোর্টের আদেশের ওপর এক মাসের স্থিতাদেশ চেম্বারকোর্ট। সরকারপক্ষের আবেদনের শুনানি শেষে গতকাল সোমবার চেম্বার জাস্টিস মো: রেজাউল হক এ আদেশ দেন। এর ফলে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচলে আপাত: আইনি কোনো বাঁধা থাকলো না।
এর আগে গতকাল দুপুরে ডিএমপি সদরদপ্তরে অটোরিকশা, অটোভ্যান ও ইজিবাইক চালক এবং ইউনিয়নের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন ডিএমপি কমিশনার শেখ মো: সাজ্জাত আলী। বৈঠক শেষে তিনি বলেন, অটোরিকশা চলাচলের আমি এখনই কোনো নির্দেশনা দিতে পারবো না। কারণ এ বিষয়ে উচ্চ আদালত রায় দেবেন।
ঢাকা মহানগরে অটোরিকশা চলাচল বন্ধ বা বিধিনিষেধে নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করে গত ২৭ অক্টোবর রিট করেন প্যাডেল চালিত রিকশা মালিক ঐক্যজোট সভাপতি জহুরুল ইসলাম মাসুম ও সম্পাদক মমিন আলী। শুনানি শেষে গত ১৯ নভেম্বর হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ তিন দিনের মধ্যে ঢাকা মহানগরীতে অটোরিকশা চলাবল বন্ধের নির্দেশ দেন। এতে বিক্ষোভে নামেন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালকরা।
প্রসঙ্গত: রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত রিকশা চালুসহ ১২ দফা দাবিতে গত কয়েকদিন ধরে সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করে বিক্ষোভ করে আসছিলেন রিকশা চালকেরা। গত শুক্রবারও জুরাইনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছোড়া হয় টিয়ারশেল।
গত রোববার সকাল থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গণঅবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন অটোরিকশা চালকরা। এতে প্রেস ক্লাবের সামনের সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। একই দিন মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ সড়ক, তিন রাস্তার মোড়, যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা ও কামরাঙ্গীরচরে শত শত রিকশাচালক অবস্থান নেন। এতে ওইসব সড়কে সব ধরণের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। অফিস ও কর্মস্থলগামী মানুষ বিপাকে পড়েন। পরে আলোচনায় সমাধানের আশ্বাসে দুপুরে পর তারা কর্মসূচি স্থগিত করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল ডিএমপি কমিনারের সঙ্গে বৈঠক হয়।
ঢাকা মহানগর এলাকার সব সড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল তিন দিনের মধ্যে বন্ধ বা বিধিনিষেধ আরোপ করতে গত ১৯ নভেম্বর নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। তবে উচ্চ আদালতের নির্দেশনার আলোকে বিষয়টির সমস্যার সুরাহা হবে বলে গত রোববার জানিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
