ফিলিস্তিনের গাজার মানবিক পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত সংকটজনক। আন্তর্জাতিক সাহায্যকারী সংস্থা রেডক্রসের প্রেসিডেন্ট মিরজানা স্পোলজারিক ১১ এপ্রিল জানিয়েছিলেন যে, গাজার মানুষের জন্য রসদের অভাবে অস্থায়ী হাসপাতালগুলো আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বন্ধ করে দিতে হতে পারে। তিনি এই পরিস্থিতিকে “পৃথিবীর দোযখ” হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যেখানে গাজার মানুষ বিদ্যুৎ, পানি ও খাবারের সংকটে রয়েছে।
গাজার এই মানবিক বিপর্যয়ের মূল কারণ হচ্ছে গত কয়েক মাসের অবরোধ ও বিমান হামলা। ২ মার্চ থেকে ইসরাইল গাজায় পূর্ণ অবরোধ আরোপ করে এবং হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপের চুক্তি ভেঙে দেয়। এরপর ১৮ মার্চ ইসরাইল গাজায় তীব্র বিমান হামলা চালায়, যার ফলে এক রাতেই ৪০০ এর বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারান। এর আগে, গাজার পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতির দিকে চলছিল, কিন্তু ইসরাইলের নতুন আক্রমণে তা আবারো খারাপ হয়ে যায়।
রেডক্রসের প্রেসিডেন্ট আরও বলেছেন, গত ছয় সপ্তাহে গাজায় কোনো মানবিক সাহায্য পৌঁছায়নি। এখন, রসদের অভাবে হাসপাতালগুলো বন্ধ হওয়ার পথে। ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি শর্তে গাজার মধ্যে কিছু সাময়িক শান্তি ছিল, কিন্তু ১৮ মার্চ থেকে ইসরাইলের বিমান হামলা আবার শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হয়েছে। এই হামলায় এক হাজার ৫২২ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং তিন হাজার ৮০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
জাতিসংঘের তথ্যমতে, ইসরাইলের আক্রমণের কারণে গাজার ৮৫ শতাংশ ফিলিস্তিনি বাস্তুহীন হয়ে পড়েছে এবং সেখানে প্রায় ৬০ শতাংশ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। তাছাড়া, গাজায় অবরোধের কারণে মানুষ কঠিন মানবিক সংকটে পড়েছে এবং তাদের মৌলিক প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র যেমন খাবার, পানি ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পাওয়া যাচ্ছে না। এর ফলে, সেখানে জীবনধারণ প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গাজার পরিস্থিতি অত্যন্ত হতাশাজনক এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে এই সংকট সমাধানের জন্য দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। গাজার মানুষকে মানবিক সহায়তা দেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন ও উদ্যোগ প্রয়োজন, যাতে তাদের জীবনযাত্রা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়।
তথ্যসূত্র : রয়টার্স
