Wednesday, April 22, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরআন্তর্জাতিকপশ্চিম তীর দখলে নেতানিয়াহুর নতুন রেকর্ড, বসতি বেড়েছে ৪০ শতাংশ

পশ্চিম তীর দখলে নেতানিয়াহুর নতুন রেকর্ড, বসতি বেড়েছে ৪০ শতাংশ

ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরেই ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর অঞ্চলে ইহুদি বসতি গড়ে তোলার মাধ্যমে ওই এলাকার উপর দখল কায়েমের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই প্রক্রিয়ায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। বিশেষ করে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর আমলে গত তিন বছরে পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপন নাটকীয়ভাবে বেড়েছে, যা ফিলিস্তিনি স্বায়ত্তশাসন এবং সম্ভাব্য দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

২০২২ সালের শেষ দিকে নেতানিয়াহু পুনরায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় আসার পর পশ্চিম তীরে বসতির সংখ্যা ১২৮টি থেকে বেড়ে ১৭৮টিতে পৌঁছেছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত তিন বছরে বসতির সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ, যা নেতানিয়াহুর দখলনীতি ও কট্টর ইহুদিবাদী রাজনৈতিক অবস্থানের একটি পরিসংখ্যানভিত্তিক প্রমাণ। এমন সময়ে এই প্রতিবেদন প্রকাশ পেল, যখন ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটের স্পিকার আমির ওহানা ও লিকুদ পার্টির আরও ১৪ জন মন্ত্রী পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রিত এলাকা বাড়ানোর দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়েছেন।

চ্যানেল ১২ জানায়, সরকার স্বীকৃত ৫০টি নতুন বসতির মধ্যে ১৯টি ইতিমধ্যে গঠিত, ৭টি বর্তমানে চারণভূমি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, ১৪টি বিভিন্ন মহল্লা ও ১০টি এখনো শুধুমাত্র পরিকল্পনায় রয়েছে। শুধু নতুন বসতিই নয়, বিদ্যমান বসতিগুলিতে অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণের হারও অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।

চ্যানেল ১২-এর হিসাব অনুসারে, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকার গত আড়াই বছরে ৪১ হাজার ৭০৯টি নতুন অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণের অনুমতি দিয়েছে। উল্লেখ্য, এটি গত ছয় বছরে দেওয়া অনুমতির চেয়ে অনেক বেশি, যা স্পষ্টভাবে দেখায় এই সরকারের আগ্রাসী বসতি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা।

ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী রাজনীতিক মেইর দিউৎশ চ্যানেল ১২-কে বলেন, “ইতিহাসে কোনো ইসরায়েলি সরকার এত খোলাখুলি বসতি স্থাপনকে উৎসাহ দেয়নি। এটি একটি কৌশলগত দখলদার নীতি।” একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, এই পদক্ষেপগুলো আসলে পশ্চিম তীরকে সম্পূর্ণভাবে ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণে আনার একটি সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অবৈধ বসতি স্থাপনার পাশাপাশি কৌশলগত সড়ক নির্মাণ এবং ফিলিস্তিনি ভবন ধ্বংস করে বসতিগুলোকে স্থায়ী রূপ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এটি একদিকে যেমন আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন, অন্যদিকে ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে হরণ করছে।

চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদন ও আনাদোলু এজেন্সির তথ্য অনুসারে, এই বসতি সম্প্রসারণের কার্যক্রম শুধু রাজনৈতিক বিতর্কই উসকে দিচ্ছে না, বরং ভবিষ্যৎ শান্তিপ্রচেষ্টার সম্ভাবনাকেও বিপন্ন করছে। ফিলিস্তিনিদের জন্য এটি আরেকটি অমানবিক সংকেত— যেটি বৈধ রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্নকে আরো দূরে ঠেলে দিচ্ছে। তথ্যসূত্র : আনাদোলু এজেন্সি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

thirteen + 17 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য