Thursday, April 30, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদাওয়াসম অধিকারের এপিঠ ওপিঠ

সম অধিকারের এপিঠ ওপিঠ

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO) এর মতে: প্রতি বছর প্রায় ৩ মিলিয়ন মানুষ কাজ-সম্পর্কিত দুর্ঘটনায় মারা যায়। এবং এর মধ্যে ৯০% এর ও বেশি মারা যায় ‘পুরুষ’।

এর কারণ হল:

পুরুষরা সাধারণত নির্মাণ, খনি, পরিবহন, বনজ, ভারী উত্তোলন, বিপজ্জনক যন্ত্রপাতির ব্যবহার এবং সামরিক বাহিনীর মতো উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় বেশি কাজ করে থাকেন। এই পেশাগুলিতে গুরুতর আঘাত বা মৃত্যুর ঝুঁকি স্বাভাবিকভাবেই বেশি।

এবং কিছু কর্মক্ষেত্রে পুরুষরা এমন বিপজ্জনক পরিবেশ বা ক্ষতিকারক পদার্থের সংস্পর্শে আসে, যা দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য সমস্যার সৃষ্টি করে এবং মৃত্যুর কারণ হয়।

যেমন, WHO/ILO এর গবেষণা অনুসারে, অ-মেলানোমা ত্বকের ক্যান্সার থেকে উদ্ভূত প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মৃত্যুর কারণ বাহিরে কাজ করার সাথে সম্পর্কিত, এবং এই মৃত্যুর ৬৫ শতাংশ পুরুষ।

আজ নারীবাদীরা যখন পুরুষের সমান অধিকারের জন্য দাবি তুলে, তখন প্রশ্ন জাগে:

পুরুষরা যেভাবে বিপজ্জনক পেশায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে, সারাদিন রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে, কঠোর পরিশ্রম করে পরিবারের জন্য উপার্জন করে—আপনারা কি পারবেন তাদের সমান পরিশ্রম করতে?

কথার কথা, যদি কখনো পুরুষরা বলে বসে—”উপার্জনের দায়িত্ব কেন কেবল আমাদের? নারীরাও উপার্জন করুক এবং পরিবারের সমস্ত ভরণপোষণের ভার গ্রহণ করুক”—তখন কি সত্যিই অধিকাংশ নারী সে দায়িত্ব বহন করতে পারবে?

সম্ভবত না। কারণ অধিকাংশ নারী সেই ধরনের পরিশ্রমী শ্রম-জীবন কিংবা অর্থনৈতিক চাপের জন্য শারীরিক, মানসিক বা পারিবারিকভাবে প্রস্তুত নয়। রাস্তায় কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে দাবি জানানো যায়, কিন্তু দিনের পর দিন কঠোর পরিশ্রম করে একটি পরিবার টিকিয়ে রাখা একেবারে ভিন্ন বিষয়।

তবে সৌভাগ্যবশত, নারীদের সেই কঠোর পরিশ্রম করতে হয় না—এবং এটাই আল্লাহর রহমত ও দয়া। ইসলাম নারীদের সম্মানিত করেছে, কষ্টের ভার পুরুষদের কাঁধে দিয়েছে। একজন নারী জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তার জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে (বাবা, ভাই, স্বামী, পুত্র) একজন পুরুষের দায়িত্বে থাকে। তাদের জন্যই পুরুষ বাহিরে গিয়ে কষ্ট করে উপার্জন করে, তাদের চাহিদা পূরণ করে। এটাই আল্লাহর নির্ধারিত বিধান।

এই বিধানের ঊর্ধ্বে যাওয়ার মানে নিজ হাতে নিজের সেই সম্মান ও মর্যাদাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা। পুরুষের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে যদি নারী নিজেকে কেবল “সমান” বানিয়ে ফেলে, তাহলে তার “স্বতন্ত্র মর্যাদা” কোথায় থাকবে?

তাই নারী হিসেবে নিজের সম্মান ধরে রাখতে পুরুষকে “রাজা” বানিয়ে নিজে “রানির” মতো থাকা শ্রেয়। আর যদি নিজেকে “ক্ষমতাবান” প্রমাণ করতে গিয়ে পুরুষকে ছোট করতে চাও, তাহলে জীবনের পথে হয়তো তুমি একা চলবে—কিন্তু সেই পথ হবে দায়িত্ব, চাপ, কষ্ট আর ক্লান্তিতে ভরা।

মনে রাখবেন, একজন প্রকৃত পুরুষ শুধু উপার্জন করে না—সে নিজের যৌবন, কষ্ট, ঘাম, এমনকি জীবনও বিসর্জন দিতে প্রস্তুত থাকে পরিবারের শান্তি ও নারীর নিরাপত্তার জন্য। অথচ সে সম্মান যদি ‘সমান অধিকারের’ নামে অস্বীকার করা হয়, তাহলে সেটি কৃতজ্ঞতার চেয়ে ঔদ্ধত্য বেশি হয়ে দাঁড়ায়।

‘সুখে থাকলে ভুতে কিলায়’—এই কথার মতো, আজ কিছু নারীবাদী এমন একটি দাবির পেছনে ছুটছে যা তাদের প্রকৃত মর্যাদাকেই হুমকির মুখে ফেলছে।

– সাদিয়া সুলতানা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

twenty − 18 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য