Tuesday, April 21, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরএলজিবিটিকিউ আয়োজনে বিএনপি নেত্রী রুমিন ফারহানা: কূটনৈতিক শিষ্টাচার নাকি রাজনৈতিক বার্তা?

এলজিবিটিকিউ আয়োজনে বিএনপি নেত্রী রুমিন ফারহানা: কূটনৈতিক শিষ্টাচার নাকি রাজনৈতিক বার্তা?

বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহ-সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাকে দেখা গেছে হোচিমিন রোকন সহ বেশ কজন যৌনবিকৃতি লালনকারী কিছু লোকের সাথে একটি অনুষ্ঠানে হাস্যোজ্জ্বল অবস্থায় ছবি তুলছেন। সঙ্গত কারণেই বিষয়টি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

ছবিগুলোয় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ আছে দেখা গেছে যারা আদতে পুরুষ কিন্তু নারী সেজে আছে। এরা পুরুষ হয়েও নারীদের সাজ নেয়, নারী পরিচয়ে নারী অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে, যৌন সংখ্যালঘু পরিচয়ে বিকৃত জীবনযাপন করে। প্রোগ্রামে একাধিক চিহ্নিত কালচাড়াল ফ্যাশিস্টদেরও দেখা গেছে৷

রুমিন ফারহানাকে কেন এখানে দেখা গেছে এই প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহ-সম্পাদক হিসেবে তাকে এ ধরণের বিভিন্ন প্রোগ্রামে যেতে হয় এবং সেখানে অ্যাম্বাসেডর যদি ছবি তুলতে আগ্রহ দেখান তখন তো সেখানে ‘না’ বলা যায় না। সম্ভবত তিনি এটাকে কার্টেসি হিসেবে দেখেন যে কারণে এ ধরণের অবস্থায় ‘না’ বলাটাকে বস্তির কালচার এমন একটা মন্তব্য করেছেন।

যাই হোক, এটা বস্তির কালচার, নাকি কূটনীতিক ম্যানার — সে আলোচনা থাকুক। সমস্যা অন্যখানে।

সমস্যা হচ্ছে, তিনি এ প্রসঙ্গে সাফাই গাইতে গিয়ে বলেছেন বিদেশী রাষ্ট্রদূতের আমন্ত্রণ করলে তো তাকে যেতেই হয়। অন্যদিকে ফ্যাশিবাদের দোসর মেহের আফরোজ শাওন তার ফেইসবুক পোস্টে প্রোগ্রামটি আয়োজন করার জন্য ধন্যবাদ দিয়েছে হোচিমিন ইসলাম ও তার প্রতিষ্ঠান কৃষ্ণচূড়াকে।

হোচিমিন ইসলাম একজন কুখ্যাত লিঙ্গবাটপার (ট্রান্স জেন ডার)। তার আসল নাম রোকন। সে একজন ঘে, তবে নিজেকে নারী দাবি করে আসছে গত বেশ ক’বছর। গত বছর তার লিঙ্গবাটপারিনামা প্রকাশিত (পড়ুন exposed) হয়েছে। বাংলাদেশে যারা এলজিটিভি স্বাভাবিকীকরণ ও প্রচার-প্রসার নিয়ে দীর্ঘকাল কাজ করে আসছে তাদের অন্যতম হোতা এই হোচিমিন ওরফে রোকন।

হান্ড্রেড পার্সেন্ট এম্ব্যাসি ফান্ডেড এই কার্যক্রমে বাংলাদেশের লিডিং এলজিবিটিকিউ অ্যাক্টিভিস্ট রোকনের প্রতিষ্ঠানের নাম হচ্ছে কৃষ্ণচূড়া, যারা বাংলাদেশে ঘে-দের একটি হাব ও সেইফ স্পেস হিসেবে কাজ করে। ব্র‍্যাক ও বিভিন্ন এম্ব্যাসির ছত্রছায়ায় থাকা এই ঘে-রা নিজেদের ট্রান্স হিসেবে পরিচয় দেয় কেননা তারা জানে তাদের আসল কার্যকলাপ প্রকাশিত হলে তারা ব্যাপকভাবে ঘৃণিত ও প্রত্যাখ্যাত হবে। বস্তুত ট্রান্স বলে কিছু নেই, এর ঘে-দেরই একটা ক্যাটাগরি।

এদেরই একটি সার্কেলের প্রোগ্রামে দেখা গেছে যেখানে ফ্রেঞ্চ অ্যাম্বাসেডরকে বিদায়ী অভ্যর্থনার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, যে অনুষ্ঠানে রুমিন ফারহানা অংশ নিয়েছেন।

কিছু প্রশ্ন তাই চলেই আসে।

১) এই প্রোগ্রামের আয়োজক হল হোচিমিন ও তার প্রতিষ্ঠান কৃষ্ণচূড়া। বিদায়ী ফ্রেঞ্চ রাষ্ট্রদূতকে বিদায়ী অভ্যর্থনা দিয়েছে হোচিমিন গং। যে আয়োজন করে, সে-ই ধন্যবাদ প্রাপ্য। তাই মেহের আফরোজ শাওন হোচিমিন ও তার প্রতিষ্ঠানকে ধন্যবাদ দিচ্ছে। এম্বেসিগুলো এই গোষ্ঠীকে প্যাট্রোনাইজ করে তারা ফেয়ারওয়েল দিবে এটাই স্বাভাবিক। যদি আয়োজক হোচিমিন ও তার এলজিবিটিকিউর পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান কৃষ্ণচূড়াই আয়োজন করে থাকে, তাহলে ‘ডিপ্লোমেটিক ম্যানার’ রক্ষা করার জন্য রুমিন ফারহানার সেখানে যাওয়া কি আসলেই জরুরি ছিল? দাওয়াত তো রাষ্ট্রদূত দেয় নি।

২) হোচিমিন ও তার প্রতিষ্ঠান দেশের আইনেই সম-মিতা প্রচার-প্রসারের অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত।নিজেদের ঘে পরিচয় লুকিয়ে ট্রান্স পরিচয়ে কর্মকাণ্ড চালায় যেন আইনের লুপহোল ব্যবহার করে নিজেদের সেইফ রাখতে পারে। একজন আইনজীবি হিসেবে রুমিন ফারহানা কি এই বিষয়ে অবগত নন?

৩) এম্ব্যাসিগুলো বিভিন্ন এনজিওর মাধ্যমে গত ত্রিশ বছর ধরে এই বিকৃত গোষ্ঠীকে ফান্ডিং করছে, কাভারেজ দিচ্ছে, প্রোমোট করছে, সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে — কেন, কীসের স্বার্থে? উনারা তো রাজনীতি ভালো বোঝেন, বিশ্বব্যাপী এলজিবিটিকিউ-র ‘রাজনীতি’ বোঝেন না?

৪) বিএনপির কাছে মানুষের দাবি তারা ইসলামের মূল্যবোধের প্রতি সম্মান রাখবে এবং মুসলিমদের স্বার্থ ও বিশ্বাসবিরোধী কর্মকাণ্ডে কখনও জড়াবে না। ট্রান্সজেন্ডারের বাস্তবতা কী ও এই ব্যাপারে ইসলামের অবস্থান সুস্পষ্ট করা হয়েছে অনেকবার। এরকম সুস্পষ্ট ইসলামবিরোধী, সমাজবিরোধী, বিকৃত যৌনাচারে লিপ্ত এই গোষ্ঠীর সাথে বিএনপির এত গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা নেত্রীর সম্পর্ক কীসের ইঙ্গিত দেয়? এই গোষ্ঠীটি ‘অধিকার’ এর নামে যেসব বিকৃত কর্মকাণ্ডে লিপ্ত সেগুলো প্রতিষ্ঠা করার গ্রীন সিগন্যাল দেওয়া হচ্ছে কোনো শক্তিকে?

৫ ) বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান কিছুদিন আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় জেন্ডার ইকুয়ালিটি প্রসঙ্গে যে ভাষায় কথা বলেছে ও যে শব্দপ্রয়োগ করেছেন, তাতেও আভাস পাওয়া যায় বিএনপি ট্রান্সজেন্ডার নামক নব-আমদানিকৃত এই প্রোগ্রেসিভ-লিবারেল বর্জ্যখানা ভক্ষণ ও পরিবেশনে বিশেষ আগ্রহী।

বিএনপিকে একটা অবস্থানে আসতে হবে। একটা সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা এই দেশে গণমানুষের আকাঙ্গা ও মূল্যবোধ ধারণ করবে নাকি সাদাচামড়ার প্রভু বা বিদেশী শক্তির প্রক্সিতে পরিণত হবে। দুই কূল রক্ষা করে চলা আর সম্ভব নয়। জিয়াউর রহমান কত সৎ ছিলেন বা খালেদা জিয়া কতোটা আপোষহীন ছিলেন সেসব এখন অপ্রাসঙ্গিক। মানুষ আগের থেকে অনেক বেশি রাজনীতি সচেতন৷ ইসলাম ও সেকুলার আদর্শের মধ্যে পার্থক্যগুলো মানুষের চোখে অনেক বেশি প্রকট। এই আদর্শিক সংকট তীব্র থেকে তীব্রতর হবে। তাই বিএনপিকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে সে কোন পথে এগোবে।

শুধু বিএনপি নয়, সিদ্ধান্ত নিতে হবে অন্যদেরকেও। বিএনপি সহ অন্য অনেক দল একটা ক্রসরোডে দাঁড়িয়ে আছে।

রাস্তাটা এখনই বেছে নিতে হবে। একপাশে ইসলাম ও গণমানুষ, অন্যদিকে সেকুলার ও কিছু মানুষ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

20 + sixteen =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য