কোটিপতি ব্যবসায়ী, সেলিব্রেটি এবং রাজনীতিবিদদের জন্য জেফ্রি এপস্টিন যে ১২-১৩ বছরের মেয়েদেরকে সাপ্লাই দিত, এই সব মেয়েরা কোথা থেকে আসত?
অনেকগুলো সাপ্লাই লাইনই ছিল। কিন্তু এর মধ্যে প্রধান সাপ্লাই লাইনটা ছিল একেবারে সিম্পল।
নেটফ্লিক্সে এপস্টিনকে নিয়ে এবং তার ডজন ডজন ভিক্টিমকে নিয়ে একটা ডকুমেন্টারি আছে। সেটা দেখলে এই ভিক্টিমদের মধ্যে একটা কমন প্যাটার্ন খুঁজে পাবেন।
এপস্টিন প্রধানত তার পাম বিচের ভিলার আশেপাশের এলাকার স্কুলগুলোর ছাত্রীদেরকে টার্গেট করত।
এমন ছাত্রীদেরকে না, যাদের পরিবার প্রতিষ্ঠিত। বা যাদের পারিবারিক বন্ধন শক্তিশালী। বা যাদের সক্ষমতার তুলনায় উচ্চাকাঙ্ক্ষা কম।
বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এমন মেয়েদেরকে, যারা ব্রোকেন ফ্যামিলির সন্তান। যাদের বাবা-মা’র ডিভোর্স হয়ে গেছে। অথবা যাদের দেখাশোনা করার কেউ নাই।
অথবা যাদের উচ্চাকাঙক্ষা অনেক বেশি। একটা ভালো চাকরি পাওয়ার জন্য, সমাজে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য যারা সামান্য প্রতিশ্রুতির বিনিময়েই “সরল বিশ্বাসে” নির্জন এলাকায় বড়লোকের ভিলায় যেতে ইচ্ছুক।
শুরুটা হতো খুবই স্বাভাবিকভাবে।
মেয়েগুলো তার ভিলায় যেত। কেউ যেত সরাসরি তার শরীর ম্যাসাজ করার বিনিময়ে ২০০-৩০০ ডলার পাওয়ার লোভে।
আর কেউ যেত চাকরি পাওয়ার বা ক্যারিয়ার প্রতিষ্ঠিত করার লোভে।
কখনও এপস্টিন নিজে বা কখনও তার “গার্লফ্রেন্ড” গিলেইন ম্যাক্সওয়েল কোথাও পরিচয় হবার পর তাদেরকে ভিলায় আমন্ত্রণ জানাতো চাকরি বা ক্যারিয়ার বিষয়ে আলোচনা করার জন্য, সুযোগ দেওয়ার জন্য।
কিন্তু একবার সেখানে যাওয়ার পর এপস্টিন এবং ম্যাক্সওয়েল মিলে তাদেরকে এক প্রকার বাধ্য করত এপস্টিনের শরীর ম্যাসাজ করাতে।
এরপর একবার সেই জগতে ঢুকে পড়লে তাদের পক্ষে আর বের হওয়া সহজ হতো না।
অনেকেই নির্যাতিত এবং ধর্ষিত হলেও টাকা, চাকরি এবং ক্যারিয়ারের লোভেই বারবার সেখানে ফিরে যেত।
অনেকে এক ধরনের চুক্তিতে যেত। সে নিজে এপস্টিনের শিকার হবে না, কিন্তু সে এরকম আরও কমবয়সী মেয়ে জোগাড় করে দিবে। প্রতিটা মেয়ে সাপ্লাই দেওয়ার জন্য সে ২০০-৩০০ ডলার করে পাবে।
একজন রিক্রুট করত আরও পাঁচজনকে। সেই পাঁচজনের মধ্যে দুইজন রিক্রুট করত আরও পাঁচ, পাঁচ করে দশ জনকে। এভাবেই গড়ে উঠেছিল এপস্টিনের শিকারদের বিশাল পিরামিড।
যে দুই-একজন এই জাল ছিঁড়ে বের হতে চেয়েছিল, সফল হয়নি। অধিকাংশক্ষেত্রেই পুলিশ তাদের কথা শোনেনি।
যে দুই-এক ক্ষেত্রে পুলিশ তদন্ত করার চেষ্টা করেছিল, এপস্টিনের টাকা আর ক্ষমতার সাথে তারা কুলিয়ে উঠতে পারেনি।
ক্ষমতাসীনরা অধিকাংশ সময়ই ধরাছোঁয়ার বাইরেই থাকে।
এই পোস্ট ভিক্টিম ব্লেমিংয়ের পোস্ট না। দোষ তো আসলে ঐ মেয়েদেরই, তারা সেখানে গেছিল কেন – এই জাস্টিফিকেশন না।
কিন্তু আপনাকে বুঝতে হবে, দুনিয়াটা এরকমই। জেফ্রি এপস্টিন শুধু একা না। এরকম প্রভাবশালী, এরকম ক্ষমতাবান, এরকম সাইকো প্রায় প্রতিটা সমাজেই আছে।
এপস্টিনের মতো এত পাওয়ারফুল কানেকশন হয়তো তাদের নাই। কিন্তু ছোটখাটো হলেও প্রায় সব সমাজেই এদের অস্তিত্ব আছে। এবং সব সমাজেই এরা ধরাছোঁয়ার বাইরে।
কোনো দেশেরই আইন-কানুন এদেরকে স্পর্শ করে না।
আমেরিকার ঘটনা বলে হয়তো তাও ফাইলগুলো প্রকাশ্যে এসেছে, অন্য অনেক দেশে এগুলো নিউজেও আসে না।
সুতরাং আইন-আদালতে গিয়ে, বিচার চেয়ে, বা নিন্দা জানিয়ে আপনি এদের কাছ থেকে বাঁচতে পারবেন না।
আপনাকে নিজের নিরাপত্তা নিজেকেই নিশ্চিত করতে হবে। আপনার পরিবারকে আপনার নিজেকেই রক্ষা করতে হবে।
কয়টা টাকার জন্য, ভালো একটা চাকরির জন্য, “ক্যারিয়ার” প্রতিষ্ঠা করার জন্য, শোবিজ জগতে প্রবেশ করার জন্য, সুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে সাফল্যের শিখরে ওঠার জন্য আপনি নিজেকে এরকম ঝুঁকির মুখে ফেলবেন কি না, নাকি নিজের সীমানা নিজেই সেট করে নিবেন, একটা মিনিমাম গাইডলাইন মেনে চলবেন, সেটা আপনারই সিদ্ধান্ত।
লেখা – মোজাম্মেল হোসেন ত্বোহা

