Wednesday, June 10, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরইসলামি অর্থনীতিকে বিকল্প পথ হিসেবে গ্রহণ না করলে বাজেটের দুষ্টচক্র ভাঙবে না

ইসলামি অর্থনীতিকে বিকল্প পথ হিসেবে গ্রহণ না করলে বাজেটের দুষ্টচক্র ভাঙবে না

আসন্ন জাতীয় বাজেটকে কেন্দ্র করে অর্থনীতি, রাজস্ব, ঋণ ব্যবস্থাপনা ও ব্যাংকিং খাত নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে রাজস্ব ঘাটতি, ঋণনির্ভরতা, উচ্চ সুদ ব্যয় এবং ব্যাংকিং খাতে সুশাসনের সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ প্রেক্ষাপটে ইসলামি অর্থনীতির দৃষ্টিকোণ থেকে বর্তমান বাজেট কাঠামো, রাজস্ব ব্যবস্থাপনা, জাকাত, ওয়াকফ, সুকুক ও বিকল্প অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে দৈনিক কালবেলার সঙ্গে খোলামেলা কথা বলেছেন ইসলামি অর্থনীতি গবেষক ও শরিয়াহ কনসালটেন্ট মুফতি আব্দুল্লাহ মাসুম। সম্প্রতি জাতীয় জাকাত ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠায় গঠিত সরকারি উচ্চতর কমিটিতে তাকে ‘ইসলামি অর্থনীতিবিদ’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আবু তালহা রায়হান।

কালবেলা : সম্প্রতি জাতীয় জাকাত ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠা করতে বিশেষজ্ঞ উলামায়ে কেরামদের নিয়ে যে উচ্চতর কমিটি সরকার গঠন করেছে, এ বিষয়ক গেজেটে আপনাকে ‘ইসলামি অর্থনীতিবিদ’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কওমি ঘরানার একজন আলেমকে সম্ভবত এই প্রথম সরকারি গেজেটে ‘ইসলামি অর্থনীতিবিদ’ হিসেবে পরিচিত করা হলো। একজন ইসলামি অর্থনীতিবিদ হিসেবে এবারের বাজেটকে কীভাবে মূল্যায়ন করছেন?

মুফতি আব্দুল্লাহ মাসুম : প্রথমে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি। এই স্বীকৃতিকে আমি নিজের জন্য দেখছি না, এটি পুরো ইসলামি অর্থনীতির একটি স্বীকৃতি। এ দেশে আমার চেয়েও বিজ্ঞ ও জ্ঞানী অনেক আলেম আছেন। এবার বাজেটের প্রসঙ্গে আসি। এবারের বাজেটের আকার ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার হতে যাচ্ছে। এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় অঙ্কের বাজেট। কিন্তু শুধু অঙ্ক বড় হলেই বাজেট জনবান্ধব ও অংশগ্রহণমূলক হয় না। আমাদের অর্থনীতিতে এখন তিনটি গভীর ক্ষত রয়েছে : দুর্বল রাজস্ব কাঠামো, সুদী ঋণের ক্রমবর্ধমান বোঝা এবং ব্যাংকিং খাতে ভয়াবহ সুশাসনের ঘাটতি। এই তিনটি সমস্যাকে স্বীকার না করলে বাজেট যতই বড় হোক, সাধারণ মানুষের জীবনে স্বস্তি আসবে না। দেখতে হবে, প্রস্তাবিত বাজেটে এ তিনটি সমস্যার সমাধান কীভাবে করা হয়েছে, তবেই বোঝা যাবে সামনের ম্যাক্রো অর্থনীতি অংশংগ্রহণমূলক ও জনবান্ধব হয়ে উঠবে কি না।

প্রকৃতপক্ষে বর্তমান বাজেট কাঠামো এক ধরনের দুষ্টচক্রে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে। ইসলামি অর্থনীতিকে বিকল্প পথ হিসেবে কাজে লাগানো না গেলে এ চক্র ভাঙা কঠিন হবে।

কালবেলা : রাজস্ব কাঠামোর কথা বললেন। এক্ষেত্রে সমস্যাটা আসলে কোথায়?

মুফতি আব্দুল্লাহ মাসুম : দেখুন, এবারের বাজেটে প্রতি তিন টাকার মধ্যে এক টাকা শুধু ভ্যাট থেকে আনার পরিকল্পনা। ভ্যাট হলো পরোক্ষ কর; ধনী-গরিব সবাই একই হারে দেয়। অর্থনীতির ভাষায় এটা ‘রিগ্রেসিভ ট্যাক্স’। এটা মূলত নিম্ন ও মধ্যবিত্তের ওপর বোঝা চাপানোর আরেক নাম। আর আমাদের কর-জিডিপি অনুপাত মাত্র ৭ দশমিক ৪ শতাংশের কাছাকাছি— দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে কম। ভারত ১৭ শতাংশ, নেপাল ২১ শতাংশ। তাহলে সমস্যাটা কোথায়?

আমার গবেষণায় যা উঠে এসেছে, দুর্নীতির কারণে জনগণের সরকারের প্রতি আস্থা নেই। করদাতা যখন মনে করেন তার করের টাকা লুটপাটে যাচ্ছে, তখন তিনি স্বেচ্ছায় কর দেবে না। ইন্টারন্যাশনাল গ্রোথ সেন্টারের সাম্প্রতিক গবেষণাও এটা নিশ্চিত করেছে, যে দেশে দুর্নীতি বেশি, সেখানে কর আদায়ও কম। আমাদের দেশ এই ক্যাটাগরিতে শীর্ষে রয়েছে। অর্থাৎ আমাদের সোর্স অব রেভিনিউ ঘুরেফিরে সেই কর ও ভ্যাটে আটকে আছে। সেটিও যথাযথ আদায় হয় না। আর কর ও ভ্যাটে উভয় সেক্টরে কম-বেশ ‍জুলম ও ইন-ব্যালেন্স নীতি তো আছেই। সব মিলিয়ে আমাদের বিদ্যমান রাজস্ব কাঠামে একটি দুর্বল ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে আছে।

কালবেলা : তাহলে সমাধান কী, নতুন কর আরোপ?

মুফতি আব্দুল্লাহ মাসুম : কখনোই না। যে রাষ্ট্র বিদ্যমান কর আদায় করতে পারছে না, সে রাষ্ট্র নতুন Wealth Tax বা Inheritance Tax আরোপ করে কী করবে? সমস্যার শিকড়ে না গিয়ে শুধু পাতা ছাঁটলে গাছ বাঁচে না। ইসলামি অর্থনীতির দৃষ্টিভঙ্গিতে বলব, রাজস্বের আগে রাষ্ট্রের আস্থা ফেরাতে হবে। আর সেই আস্থার সাথে যদি জাকাত, উশর, ওয়াকফ ও খারাজের মতো ইসলামি রাজস্ব উৎসগুলো সক্রিয় করা যায়, তাহলে চিত্র পাল্টে যাবে ইনশাআল্লাহ।

আইএফএ কনসালটেন্সির গবেষণা অনুসারে, শুধু জাকাত ও উশর থেকেই বার্ষিক ১ লাখ ৩২ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ সম্ভব, যা আসন্ন বাজেটের প্রায় ১৪ শতাংশ। এটা কোনো কল্পনা নয়, জাকাতযোগ্য সম্পদের ওপর শরিয়াহ-নির্ধারিত হার প্রয়োগ করে এম্পায়ারিক্যাল স্টাডি করে এই হিসাব করা হয়েছে। বাস্তবে আরও বেশি হবে। তাছাড়া ওয়াকফ ব্যবস্থাকে আরও সুদৃঢ় করা গেলেও আমাদের বাজেটের ওপর চাপ কমানো যাবে। ওয়াকফ প্রশাসনের নথিভুক্ত এস্টেটের সংখ্যা মাত্র ১৬,৪০৭টি। এর বাহিরে অগণিত ওয়াকফ সম্পদ অযত্নে-অবহেলা ও বেদখল হয়ে আছে। বিদ্যমান ওয়াকফ জমির মাত্র ১০ শতাংশ যদি BOT (Build-Operate-Transfer) মডেলে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের সাথে যৌথভাবে উন্নয়ন করা যায়, তাহলে বার্ষিক হাজার কোটি টাকার আয় সম্ভব, যা থেকে শিক্ষাবৃত্তি, ইমামদের সম্মানিসহ নানাবিধ ব্যয় নির্বাহ করা যাবে।

আইএফএ কনসালটেন্সির গবেষণা অনুযায়ী, শিক্ষা খাতে বাজেটের যে ১০-১২ শতাংশ বরাদ্দ থাকে, তার উল্লেখযোগ্য অংশ ওয়াকফ সম্পদ সক্রিয় করলে সাশ্রয় করা সম্ভব। বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ খাতে ওয়াকফ সম্প্রসারণে বাজেটের আরও ১১-১২ শতাংশ সাশ্রয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ওসিয়াত ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠা করতে পারলে বছরে প্রায় ৩৩ হাজার কোটি টাকার একটি বিশাল সম্ভাব্য ওসিয়ত তহবিল গঠন সম্ভব। বাংলাদেশে প্রতি বছর ১০ লাখ মৃত্যুর বিপরীতে গড়ে প্রতিটি ওসিয়তযোগ্য সম্পদের এক-তৃতীয়াংশ হিসাব করলে এই অঙ্ক বের হয়ে আসে। এই অর্থ যদি সরাসরি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ব্যয় হয়, তবে বাজেটে সরকারের এই খাতগুলোর ওপর ব্যয়ের চাপ কিছুটা হলেও কমবে। উপরন্তু ওসিয়ত নিবন্ধন ও ব্যবস্থাপনার বিনিময়ে সরকার একটি নামমাত্র প্রশাসনিক ফি-ও (যেমন: ১%) নিতে পারবে। এতে বছরে প্রায় ৩৩০ কোটি টাকা সরাসরি প্রত্যক্ষ রাজস্ব অর্জন করার সুযোগ সৃষ্টি হবে। শুধু তাই নয়, কেন্দ্রীয় উত্তরাধিকার ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠা করার মাধ্যমে আমাদের পরিবারগুলোর অগণিত ‘ফ্রোজেন অ্যাসেট’-কে জিডিপিতে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হবে। মৃত্যুর ৭-১৫দিনের মাঝে সম্পদ বণ্টন নিশ্চিত করার মাধ্যমে একদিকে যেমন নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বীতা প্রতিষ্ঠা হবে, অপরদিকে এ সেবা প্রদান করে সরকার সরাসরি রাজস্বও আহরণ করতে পারবে।

হিসাব করে দেখা গেছে, মাত্র ০.৫% প্রশাসনিক ফি (Administrative Fee) আরোপ করলেও সরকার বছরে প্রায় ৪৫০ থেকে ৭৫০ কোটি টাকা সরাসরি নতুন রাজস্ব আয় করতে পারবে। মালয়েশিয়াতে আমানাহ রায়া বারহাদ (ARB) এক্ষেত্রে একটি উত্তম মডেল, যা অনুসরণ করে আমরা এসব সেবা সরকারীভাবে চালু করতে পারি। এতে একদিকে আমাদের রাজস্ব যেমন সমৃদ্ধ হবে, তেমনি ভ্যাট নির্ভরতাও কমে আসবে।

কালবেলা : সরকার তো জাকাত ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ শুরু করেছে। আপনি সেই কমিটিতে আছেন। বাস্তবতাটা কেমন?

মুফতি আব্দুল্লাহ মাসুম : এটা অবশ্যই একটা ভালো উদ্যোগ। সরকার উলামায়ে কেরামদের পরামর্শক্রমে জাতীয় জাকাত ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ শুরু করেছে, এটা ঐতিহাসিক। কিন্তু বলতে চাই, জাকাত ও উশর সরাসরি মুসলিমদের জন্য ইবাদত। এখানে বিন্দুমাত্র দুর্নীতি বা সুশাসনের দুর্বলতার সুযোগ নেই। জাকাত সঠিকভাবে কার্যকর হতে হলে তিনটি জিনিস একসঙ্গে লাগবে : প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, শরিয়াহ গভর্ন্যান্স এবং জনগণের আস্থা। সম্পূর্ণরূপে বিজ্ঞ উলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে এটা পরিচালিত হতে হবে। তবেই মানুষ সরকারকে জাকাত দিয়ে নিশ্চিন্ত থাকতে পারবেন। এটি অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রশাসন ব্যবস্থা দুর্নীতিমুক্ত নয়। আস্থার জায়গা তৈরি হয়নি। এ অবস্থায় জাকাত ও অন্যান্য ইসলামি রাজস্ব টুলস প্রয়োগ করা হিতেবিপরীত হতে পারে। তাই সবার আগে সরকার ও প্রশাসনের জন্য আস্থা অর্জন করা বেশ জরুরি বিষয়। যে কারণে দেশের শীর্ষ আলেমরা এখনো এ বিষয়ে শঙ্কায় আছেন।

কালবেলা : ঋণের বোঝা নিয়ে অনেক আলোচনা হচ্ছে। আপনি বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন?

মুফতি আব্দুল্লাহ মাসুম : এটাই সবচেয়ে ভয়ানক জায়গা। IMF ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ গবেষণায় (জানুয়ারি ২০২৬) উঠে এসেছে, বাংলাদেশ সরকারের মোট ঋণ প্রায় ১৮৮.৮ বিলিয়ন ডলার— জিডিপির ৪১ শতাংশের বেশি। আর ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মোট বাজেটের প্রায় ২৪৮ শতাংশ (প্রায় আড়াই গুণ) এবং মোট রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৩৩১ শতাংশের সমান (তিন গুণেরও বেশি)। (বিনিময় হার ১২২ টাকা ধরে হিসাব করা হয়েছে) আগামী অর্থবছরে সরকারের মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা।

অন্যদিকে IMF-এর হিসাব অনুযায়ী FY26-এ বাংলাদেশের মোট Debt Service বা ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধের পরিমাণ প্রায় ৩.৭৩ লাখ কোটি টাকা (US$30,585 million) হতে পারে। সে হিসাবে ঋণ-পরিশোধের পরিমাণ একাই সম্ভাব্য মোট রাজস্ব আয়ের প্রায় ৫৪ শতাংশের সমান। অর্থাৎ সরকার প্রতি ১০০ টাকা রাজস্ব সংগ্রহ করলে তার বিপরীতে প্রায় ৫৪ টাকার সমপরিমাণ Debt Service-এর চাপ বিদ্যমান থাকবে।

শুধু তাই নয়, এবারের বাজেটে শুধু সুদ পরিশোধেই যাচ্ছে দেড় লাখ কোটি টাকা, যা শিক্ষা বাজেটের চেয়েও বেশি! প্রতি ১০০ টাকা রাজস্ব আয়ের বিপরীতে ২২ টাকা থাকবে সুদ পরিশোধের চাপ। এটা Debt Trap-এর একটা সুস্পষ্ট লক্ষণ। আর আমাদের দেশীয় ঋণের দুই-তৃতীয়াংশই আসছে ব্যাংক থেকে। এর মানে সরকার ব্যাংকনির্ভর হয়ে যাচ্ছে। ফলে বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য ঋণ সংকুচিত হয়ে পড়বে— অর্থনীতির ভাষায় যাকে ‘ক্রাউডিং আউট ইফেক্ট’ বলে। এগুলো আমাদের বিদ্যমান বাজেট কাঠামোর দুষ্টচক্র। রাজস্ব বৃদ্ধি না হলে সুদী ঋণে নির্ভর হয়ে যেতে হয়। ফলে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, প্রাইভেট বিনিয়োগ সব হুমকির মুখে পড়ে যায়।

কালবেলা : সুদী ভ্যান্তরীণ ঋণের বিকল্প হিসেবে ইসলামি অর্থনীতি কী দিতে পারে?

মুফতি আব্দুল্লাহ মাসুম : সুকুক। বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত ৯টি সুকুক ইস্যু করে প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে, প্রতিটিতে চাহিদা ছিল বরাদ্দের কয়েকগুণ বেশি। সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল। কিন্তু বর্তমান সরকারি সুকুকগুলো এখনও পুরোপুরি সম্পদভিত্তিক (অ্যাসেট ব্যাকড) হয়ে উঠতে পারেনি। SPV-এর আলাদা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেই। AAOIFI-এর শরিয়াহ মানদণ্ড ৬২নং অনুযায়ী প্রকৃত সম্পদভিত্তিক সুকুক কাঠামো প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত গভ.সুকুক আন্তর্জাতিক সুকুক মার্কেটে পিছিয়ে থাকবে।

কালবেলা : ব্যাংকিং খাতের খেলাপি ঋণ পরিস্থিতি নিয়ে কিছু বলুন।

মুফতি আব্দুল্লাহ মাসুম : ADB-এর তথ্য বলছে, এশিয়ায় সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের দেশ এখন বাংলাদেশ। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিতরণকৃত ঋণের ৩৬-৩৭ শতাংশই খেলাপি। আদালতের স্থগিতাদেশ ধরলে মোট প্রায় ৭ লাখ কোটি টাকা— অর্থাৎ মোট ঋণের ৩৯ শতাংশ। অনেকে মনে করেন ইসলামি ব্যাংকিং-গুলো বেশি খেলাপির শিকার। বস্তুত সমস্যা সুশাসনের অনুপস্থিতিতে। সুশাসন যদি না থাকে, তাহলে ব্যাংক সেটি ইসলামি হোক, সাধারণ হোক-সমস্যার সম্মুখীন হবেই। প্রশ্নটি শরীয়াহর নয়; প্রশ্নটি গুড গভর্ণেন্স এর। বাংলাদেশের ব্যাংকিং সংকট কারিগরি দুর্বলতার নয়, নৈতিক অবক্ষয়ের ফল।

কালবেলা: শেষ প্রশ্ন—নীতিনির্ধারকদের জন্য আপনার মূল বার্তা কী?

মুফতি আব্দুল্লাহ মাসুম: বাজেটের মানদণ্ড শুধু জিডিপি প্রবৃদ্ধির সংখ্যা হওয়া উচিত নয়। মাকাসিদ আল-শরীয়াহর আলোকে দেখা উচিত বাজেট কতোটা স্বার্থক। অর্থমন্ত্রী নিজেই বলেছেন, ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বের হয়ে সম্পদনির্ভর অংশগ্রহণমূলক অর্থনীতি গড়তে চান। এই কথাগুলো ইসলামি অর্থনীতির দর্শনের সাথে হুবহু মিলে যায়। তবে অংশগ্রহণমূলক অর্থনীতির কাঠামো কেমন হবে— তা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। এর উত্তর রয়েছে ইসলামের দেখানো রাজস্বনীতি ও অর্থব্যবস্থায়। এই পথে হাঁটলে মধ্যমেয়াদে কর-জিডিপি অনুপাত ১২-১৫ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব, ঘাটতি ৩-৪ শতাংশে নামানো সম্ভব। বাজেট তখন শুধু সংখ্যার দলিল থাকবে না; একটি জাতির ন্যায়বিচারের ঘোষণায় পরিণত হবে ইনশাআল্লাহ।

SourceKalbela

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

sixteen − eight =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য