Monday, May 11, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরহিজাব পরিহিত শিক্ষার্থীদের টপ আর জিন্সে দেখতে চান শিক্ষক বরুণ কুমার

হিজাব পরিহিত শিক্ষার্থীদের টপ আর জিন্সে দেখতে চান শিক্ষক বরুণ কুমার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইআর) পরিচালিত ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের পদার্থবিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক বরুণ কুমার সাহার বিরুদ্ধে ছাত্রীদের সঙ্গে আপত্তিকর আচরণ, কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য এবং গোপনে ভিডিও ধারণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বয়কট করে বিক্ষোভ করেছেন এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

রোববার (১০ মে) শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে বরুণ কুমার সাহা বিশেষ করে হিজাব পরিহিত ছাত্রীদের লক্ষ্য করে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে আসছেন।

এছাড়া ছেলে-মেয়ে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক কথোপকথনকে বিকৃতভাবে ব্যাখ্যা করে গোপনে ভিডিও ধারণ করতেন এবং তা অভিভাবক বা প্রশাসনের কাছে পাঠানোর ভয় দেখিয়ে মানসিক চাপ সৃষ্টি করতেন।

শিক্ষার্থীদের আরও অভিযোগ, অভিযুক্ত শিক্ষক ক্যাম্পাসের বাইরেও তাদের অনুসরণ করে ভিডিও ধারণ করেছেন। এসব ভিডিও ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টা করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা। ক্লাসে প্রাক্তন ছাত্রীদের নিয়ে অশোভন ও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করা, পোশাক নিয়ে কটূক্তি করা এবং শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে অযাচিত মন্তব্য করা ছিল তার নিয়মিত আচরণের অংশ।

একাধিক শিক্ষার্থী জানান, ক্লাসে ছেলে-মেয়েরা একসঙ্গে কথা বললেই সেটিকে ‘সম্পর্ক’ হিসেবে আখ্যা দিতেন তিনি, যা শিক্ষার্থীদের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করত। এমনকি ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট পোশাকে কাউকে চিনতে না পারার মতো মন্তব্যও করেছেন তিনি, যা একজন শিক্ষকের পক্ষে অনভিপ্রেত বলে মনে করছেন শিক্ষার্থীরা।

ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন এবং কলেজ প্রশাসনের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ জমা দেন। তারা দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. জামিল উদ্দিন জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই একটি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে এবং প্রাথমিক প্রতিবেদন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, ঘটনার তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)।

রোববার ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানানো হয়। একইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্কের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন এবং অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের ক্ষেত্রে দ্রুত তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষক বরুণ কুমার সাহার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কথা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

fifteen − 2 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য