Thursday, April 30, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeনিবন্ধশাবান মাসের ফজিলত-মাসজিদে নব্বীর জুমার খুৎবার

শাবান মাসের ফজিলত-মাসজিদে নব্বীর জুমার খুৎবার

মাসজিদের নব্বীর জুমার খুৎবার বঙ্গানুবাদ
বিষয়ঃ শাবান মাসের ফজিলত
খতীবঃ শাইখ ডঃ হুসাইন আলে শায়খ
অনুবাদকঃ হারুনুর  রশীদ ত্রিশালী
পি. এইচ. ডি. গবেষক, মদীনা বিশ্ববিদ্যালয়
বাংলা আলোচক ও জুমার খুৎবার লাইভ অনুবাদক (এফ. এম. ১০৭.৯ রেডিও চ্যানেল) মাসজিদে নব্বী

মোবাইলঃ ০০৯৬৬৫৩৫৪৬৮২১০
তারিখঃ ১৯/০৩/২০২১ ইং


অতঃপর শাবান মাস বছরের অন্যান্য মাসের মত হলেও তা একটি ফজিলতপূর্ণ মাস। এ মাসে মুসলমানদের দায়িত্ব হল বিশেষ গুরুত্ব সহকারে আল্লাহ্‌র ইবাদত ও আনুগত্যমূলক কাজ সমূহ পালন করা এবং শরীয়তের বিধি বিধানের উপর অবিচল থাকা। আল্লাহ্‌ বলেন, হে ঈমানদারগণ! তোমরা যথাযথভাবে আল্লাহ্‌র তাকওয়া অবলম্বন কর এবং মুসলিম (পরিপূর্ণ আত্ম সমর্পণকারী) না হয়ে মৃত্যুবরণ কর না (সুরা আলে ইমরানঃ ১০২)।

আল্লাহ্‌র বান্দাগণ! আপনারা সময়ের মূল্যায়ন করুন এবং আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টির পথে অগ্রসর হউন। জেনে রাখুন যে, আমাদের রাসুল (সঃ) শাবান মাসের অধিকাংশ দিনই রোজা রাখতেন। আয়েশা (রাঃ) বলেন,  আমি রাসুল (সঃ) কে শাবান মাসের চেয়ে অন্য মাসে এত বেশী রোজা রাখতে দেখিনি।  বুখারী, মুসলিম, আর মুসলিম শরীফে এসেছে, রাসুল (সঃ) কয়েকদিন ব্যতীত পূর্ণ শাবান মাস সিয়াম পালন করতেন।

এই উম্মতের পূর্বসুরি সালাফগণ শাবান মাসকে شهر القراء / ক্বারিদের মাস নামে আখ্যায়িত করতেন, কেননা তারা এই মাসে বেশী বেশী কুরআন তিলাওয়াত করতেন।
আল্লাহ্‌ তা’আলা আপনাদের উপর  রহম করুন, আপনারা এ মাসে যাবতীয় ইবাদত ও সৎ আমল পালন করুন এবং কল্যাণের পথে অগ্রসর হোন; যে দিকে কুরআন ও সুন্নাহ উদ্বুদ্ধ করেছে; যেমন, নফল সালাত ও সিয়াম, বাইতুল্লাহ যিয়ারত, দান সদকা, ইহসান করা, বেশী বেশী জিকির ও কুরআন তিলাওয়াত, জনকল্যাণ মূলক কাজ এবং আল্লাহ্‌র আনুগত্য মূলক আমল সমূহ।

উসামা বিন যায়েদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রাসুল! আমি আপনাকে শাবান মাসে যে পরিমাণ রোজা রাখতে দেখি অন্যান্য মাসে সে পরিমাণ রাখতে দেখি না! তখন তিনি বললেন, “এ মাসটি রজব ও রমজান মাসের মধ্যবর্তী এমন একটি মাস, যে মাসের গুরুত্ব সম্পর্কে লোকেরা খোঁজ রাখে না, অথচ এ মাসে আমলনামা সমূহ আল্লাহ্‌ রাব্বুল আলামীনের কাছে পেশ করা হয়। তাই আমি পছন্দ করি যে, আমার আমলনামা এমন সময় পেশ করা হোক যখন আমি সিয়ামরত। ) মু্সনাদে আহমদ ও সুনান নাসায়ী; হাদিসটি হাসান পর্যায়ের।

তবে মুসনাদ, সুনানে আবু দাউদ ও নাসায়ীর একটি হাদিসে এসেছে যে, “শাবান মাসের অর্ধেক অতিবাহিত হলে তোমরা আর রোজা রাখবে না।“ হাদিসটিকে অধিকাংশ আলেম যয়ীফ আখ্যায়িত করছেন এবং বলেছেনঃ হাদিসটির ‘সনদ ও মতন’ উভয়দিক থেকে মুনকার। তবে যারা সহীহ বলে মতামত দিয়েছেন, তারা হাদিসটিকে এভাবে ব্যাখ্যা করছেন যে, “এটা তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যাদের সাধারণত নফল রোজা রাখার অভ্যাস নাই, এ মাসের শুরুর দিকে রোজা না রেখে অর্ধেক মাস অতিবাহিত হওয়ার পর ইচ্ছাকৃতভাবে রমজানের প্রস্তুতির জন্য রোজা রাখছে! এমতাবস্তায় তাদের জন্য শাবানের পর রোজা রাখা মাকরুহ।

সুতরাং আপনারা সৎ কাজ ও ইবাদত পালনে অগ্রগামী হোন এবং আল্লাহ্‌র নৈকট্য লাভের কাজে সময়ের সদ্ব্যবহার করুন। আল্লাহ্‌ তা’আলা বলেন, (আর তোমরা দ্রুত অগ্রসর হও তোমাদের প্রতিপালকের ক্ষমা ও সেই জান্নাতের দিকে যার বিস্তৃতি হচ্ছে আসমান সমূহ ও জমিনের সমান, যা মুত্তাকীদের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে) সুরা আলে ইমরান ১৩৩।

অতপরঃ   নিশ্চয় ইসলামের একটি মহান ও গুরুত্বপূর্ণ মুলনীতি হচ্ছে যে, “সব ধরনের বিদাত হারাম” এবং “ঐশী বিধান ও নবীর আদর্শ মোতাবেক আল্লাহ্‌র ইবাদত করা আবশ্যক”

আপনারা জেনে রাখুন যে, নির্দিষ্টভাবে শাবানের রাতে (১৪ তারিখ দিবাগত রাত) নফল নামায পড়া ও বিশেষ করে সেই দিন রোজা রাখা – এমন একটি আমল যার সপক্ষে নির্ভরযোগ্য কোন শরয়ী দলিল নাই। বরং বিভিন্ন মাযহাবের মুহাক্কিক ফকীহগণ এটাকে বিদাত বলে মন্তব্য করেছেন।

তবে কোন কোন মুহাদ্দিস যদিও এই হাদিসটিকে হাসান বলেছেনঃ (আল্লাহ্‌ তা’আলা শাবান মাসের মধ্য রজনীতে দুনিয়াবাসীর প্রতি আত্মপ্রকাশ করেন, অতঃপর মুশরিক ও হিংসুক ব্যক্তি ছাড়া দুনিয়াবাসীদেরকে ক্ষমা করে দেন।) কিন্তু হাদিসটির সনদকে সহীহ ধরে নিলেও তা থেকে “উক্ত রাতকে কোন ইনবাদতের জন্য নির্দিষ্ট করার’ কোন প্রমান পাওয়া যায় না।  

অনেকের মাঝে এমনও প্রচলন আছে যে, তারা এই শাবান মাসের কোন কোন রাতে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন এবং এক সাথে খাবারের ব্যবস্থা করেন। তার এই অনুষ্ঠানটিকে “শা’বানা” নামে অভিহিত করেন! যদি এটিকে ইবাদত ও সওয়াব মনে করে করা হয় তবে নিঃসন্দেহে এটি একটি নিকৃষ্ট ইবাদত ও অননুমোদিত কাজ।

তবে হে আল্লাহ্‌র বান্দাগণ, আপনারা আল্লাহ্‌কে ভয় করুন এবং বিদায়াত পরিত্যাগ করুন। কেননা বিদায়াত হচ্ছে নিকৃষ্ট ও ভ্রষ্টতা এবং সুন্নত থেকে বিচ্যুতি।  অথচ সুন্নাত হচ্ছে ইবাদত বিশুদ্ধ হিসাবে বিবেচিত হবার মৌলিক মাধ্যম ও শর্ত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

15 + 5 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য