ইমাম যাহাবী রহিমাহুল্লাহ বলেন,
এমন অনেক আইম্মাহ গত হয়েছেন যারা কোন একটি বিষয়ে ইমামত বা পারদর্শীতা হাসিল করলেও অন্য কোন বিষয়ে তত বেশি অভিজ্ঞ ছিলেন না। যেমন, সিবাওয়াহী রহিমাহুল্লাহ নাহু শাস্ত্রের পন্ডিত ছিলেন- কিন্তু ওনার তত হাদিসের ইলম ছিলো না। ওয়াকী রহিমাহুল্লাহ হাদিসের পন্ডিত ছিলেন, অথচ আরবি ভাষায় পারদর্শী ছিলেন না। এভাবে আবু নাওয়াস কবিতা রচনায় অভিজ্ঞ ব্যক্তি ছিলেন কিন্তু অন্যান্য বিষয়ে তেমন কোনো ইলম রাখতেন না। আব্দুর রহমান ইবনু মাহদি ইলমে হাদিসে অসাধারণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন কিন্তু চিকিৎসা শাস্ত্রে ওনার কোন অভিজ্ঞতা ছিলো না। মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আশ শায়বানী ফিক্বহের ইমাম ছিলেন, কিন্তু ইলমে ক্বিরাতে জানাশোনা কম ছিলো। ইমাম হাফস ইলমে কুরআনে পারদর্শী ছিলেন কিন্তু ইলমে হাদিসে জঈফ ছিলেন। ( বলা হয়ে থাকে) লড়াইয়ে পারদর্শী ব্যক্তিকে যুদ্ধের ময়দানে চেনা যায়।
খুলাসা হচ্ছে : লোকদের তাকদীরে ইলম এমনিতেও অনেক কম দেওয়া হয়েছে, আর আজকের যুগে এই সামান্য ইলম জানাশোনা ব্যক্তিও খুব কমই রয়েছে, আর এই সামান্য ইলমের উপর আমল করা ব্যক্তিও খুব কমই রয়েছে। হাসবুনাল্লাহু ওয়ানিয়ামাল ওয়াকীল..
فكم من إمام في فن مقصر عن غيره كسيبويه مثلًا إمام في النحو ولا يدري ما الحديث، ووكيع إمام في الحديث ولا يعرف العربية، وكأبي نواس رأس في الشعر عري من غيره، وعبد الرحمن بن مهدي إمام في الحديث لا يدري ما الطب قط، وكمحمد بن الحسن رأس في الفقه ولا يدري ما القراءات، وكحفص إمام في القراءة تالِفٌ في الحديث، «وللحروب رجالٌ يُعرفونَ بها»
وفي الجملة: وما أوتوا من العلم إلا قليلًا، وأما اليوم فما بقي من العلوم القليلة إلا القليل في أناس قليل، ما أقل من يعمل منهم بذلك القليل، فحسبنا الله ونعم الوكيل” .
[ তাজকিরাতুল হুফফাজ, ৩/১৫৭ ]
একটু গভীরভাবে চিন্তা করুন, যতগুলো আইম্মাদের নাম ইমাম যাহাবী রহিমাহুল্লাহ উল্লেখ করেছেন, সবাই শরঈ ইলমে নিজ নিজ বিষয়ে পারদর্শী ছিলেন, এর পরেও তারা অন্য কোন বিষয়ে নিজের পা দিতেন না অর্থাৎ ইন্টারফেয়ার করতেন না। নাহু শাস্ত্রে অভিজ্ঞ হাদিসের আলোচনা করতেন না। হাদিস জানা ব্যক্তি উলুমুল কুরআনে জবান খুলতেন না। কিন্তু আজকাল আমাদের যুগে ইঞ্জিনিয়ার, ডক্টর, জেনারেল লাইনে অনার্স মাস্টার্স করে ইলমে হাদিস, ইলমে কুরআন এবং দাজ্জাল ইয়াজুজ মাজুস, জিহাদ কিতাল, তাকফির খুরুজ নিয়ে নিজের জবান লাগায়, এমনকি তাকফিরের ফতোয়া লাগায়, জিহাদে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। আর নিজেকে এসবের যোগ্য মনে করে। আর এতে করে নিজের জাহালাতের দরুন নিজেও গোমরাহ হয় আর সাধারণ মানুষকেও গোমরাহ করে থাকে।
আমাদের ভাইদের উচিত এমন সব লোকদের থেকে সাবধান থাকা এবং অন্যকেও সাবধান করা। আর ইলম অর্জনের জন্য উলামাদের সান্নিধ্য অর্জন করা।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ’লা এমন সব গোমরাহ ব্যক্তিদের থেকে হেফাজত করুক. আমিন।
অনুবাদক :- ওমর ফারুক রায়হান
