Wednesday, April 17, 2024
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

হোমনিবন্ধইসলামে দাড়ি রাখার বিধান

ইসলামে দাড়ি রাখার বিধান

মুহাম্মাদ আব্দুর রহীম

দাড়ি পুরুষের বৈশিষ্ট্য ও সৌন্দর্যের প্রতীক। দাড়ি রাখার যেমন দুনিয়াবী উপকারিতা রয়েছে তেমনি এটি রেখে সুন্নাত পালনের মাধ্যমে জান্নাত লাভ করা যায়। সেজন্য রাসূল (ছাঃ) বা তাঁর লক্ষ লক্ষ ছাহাবীর কেউ দাড়ি মুন্ডন বা শেভ করেছেন এমন প্রমাণ পাওয়া যায় না। দাড়ি নিয়ে সমাজে রয়েছে নানা বিভ্রান্তি। কিছু আলেম নিজেদের দুর্বলতা ঢাকতে দাড়ি রাখাকে সুন্নাত বলে প্রচার করেন। কিন্তু বিশ্বের নিভর্রযোগ্য সকল আলেম দাড়ি রাখা ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে ঐক্যমত পোষণ করেছেন। শুধু আমাদের দেশেই নয়, বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই দাড়ি রাখা সম্পর্কে একটি ভ্রান্ত ধারণা আছে যে, দাড়ি রাখা সুন্নাত। অতএব দাড়ি রাখলে ভাল আর না রাখলে তেমন কোন সমস্যা নেই; একটা সুন্নাত পালন করা হ’ল না এই যা। এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। দাড়ি আল্লাহর একটি মহান ও বড় নে‘মত। দাড়ি দ্বারা তিনি পুরুষকে অনুগ্রহ করেছেন এবং নারী জাতি থেকে তাকে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত করেছেন। দাড়ি শুধুমাত্র মুখমন্ডলের উপর কয়েকটি কেশগুচ্ছই নয়; বরং এটি ইসলামের বাহ্যিক একটি নিদর্শন। দাড়ি যথাযথভাবে রেখে এবং তার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করার মাধ্যমে আমরা আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পারি। মহান আল্লাহ বলেন,যে ব্যক্তি আল্লাহর আদেশ সমূহকে সম্মান করে, নিশ্চয়ই সেটি হৃদয় নিঃসৃত আল্লাহভীতির প্রকাশ’ (হজ ২২/৩২)।

দাড়ি রাখার গুরুত্ব : দাড়ি রাখার নির্দেশ দিয়ে রাসূল (ছাঃ) থেকে বিশটিরও অধিক হাদীছ বর্ণিত হয়েছে। যে নির্দেশগুলো পালন করার ক্ষেত্রে দু’টি বিষয় লক্ষণীয়। প্রথমতঃ দাড়ি রাখা মানুষের স্বভাবজাত তথা সুনানুল ফিৎরাত, যার উপর আল্লাহ তা‘আলা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন।[1] সেজন্য সকল নবী-রাসূলের দাড়ি ছিল। এটি সকল নবী-রাসূল ও তাঁর উম্মতের জন্য স্বভাবজাত সুন্নাত। মুহাম্মাদ (ছাঃ) নবী-রাসূলগণের আকৃতির বর্ণনা দিতে গিয়ে যখন ইবরাহীম (আঃ)-এর আলোচনা আসল তখন তিনি বললেন,وَنَظَرْتُ إِلَى إِبْرَاهِيمَ فَلاَ أَنْظُرُ إِلَى إِرْبٍ مِنْ آرَابِهِ إِلاَّ نَظَرْتُ إِلَيْهِ مِنِّى كَأَنَّهُ صَاحِبُكُمْ، ‘আর আমি ইবরাহীম (আঃ)-এর দিকে দৃষ্টিপাত করলাম। আমি যখনই তার অঙ্গসমূহের কোন অঙ্গের দিকে তাকাচ্ছিলাম তখন মনে হচ্ছিল যেন আমারই অঙ্গের দিকে তাকাচ্ছি। যেন তিনি তোমাদেরই সাথী’।[2] অর্থাৎ মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর দেহের অবয়ব ইবরাহীম (আঃ)-এর অবয়বের মতই। তন্মধ্যে তাঁর দাড়িও ইবরাহীম (আঃ)-এর দাড়ির মত ছিল। সম্রাট হিরাক্লিয়াস এর নিকট মুসলিম দূত ইসলামের দাওয়াত নিয়ে গেলে তিনি তাকে পূর্ববর্তী নবী-রাসূলগণের ছবি প্রদর্শন করেন। সেখানে তিনি দেখেন যে, সকল নবীর দাড়ি ছিল। বিশেষ করে ইবরাহীম (আঃ)-এর সাদা ((أَبْيَضُ اللِّحْيَةِ দাড়ি ছিল।[3] হারূণ (আঃ)-এর উপস্থিতিতে সামেরী কর্তৃক গো-বাছুর পূজা শুরু হ’লে মূসা (আঃ) রেগে হারূণ (আঃ)-এর দাড়ি ধরে সতর্ক করেছিলেন। যেমন আল্লাহ বলেন,يَبْنَؤُمَّ لَا تَأْخُذْ بِلِحْيَتِي وَلَا بِرَأْسِي، ‘হারূণ বলল, হে আমার সহোদর ভাই! আমার দাড়ি ও মাথার চুল ধরে টেনো না’ (তোয়াহা ২০/৯৪)। আয়াত প্রমাণ করে যে, তাদের দাড়ি ছিল। মে‘রাজ রজনীতে পঞ্চম আকাশে যখন রাসূল (ছাঃ) হারূন (আঃ)-এর সাথে সাক্ষাৎ করলেন তখন তিনি তার দাড়ি দেখলেন যে, وَنِصْفُ لِحْيَتِهِ بَيْضَاءُ وَنِصْفُهَا سَوْدَاءُ تَكَادُ لِحْيَتُهُ تُصِيبُ سُرَّتَهُ مِنْ طُولِهَا، ‘তার অর্ধেক দাড়ি সাদা ও অর্ধেক কালো ছিল। আর এতটাই লম্বা ছিল যে সেটি তার নাভি পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল’।[4]

দ্বিতীয়তঃ সেটি রাখার ব্যাপারে রাসূল (ছাঃ)-এর নির্দেশ থাকার কারণে বিধানটি পালন করা ওয়াজিব হয়ে গেছে। কারণ রাসূল (ছাঃ) তার উম্মতকে নির্দেশ দিয়েছেন এবং দাড়ি মুন্ডন করা অন্য ধর্মের শে‘আর হওয়ার কারণে তাদের বিরোধিতা করতে বলেছেন, যা পালন করা সকল মুসলিমের জন্য আবশ্যক। যেমন হাদীছে এসেছে,

عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : قُصُّوا الشَّوَارِبَ وَأَعْفُوا اللِّحَى

আবু হুরায়রা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘তোমরা গোঁফ অধিক ছোট করবে এবং দাড়ি ছেড়ে দিবে’।[5] অন্য একটি হাদীছে এসেছে,

عَنْ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَرَنَا بِإِحْفَاءِ الشَّوَارِبِ وَإِعْفَاءِ اللِّحَى

ইবনু ওমর (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আমাদেরকে গোঁফ খাটো করতে এবং দাড়ি লম্বা করতে আদেশ করেছেন’।[6]

দাড়ি মুন্ডন বা শেভ করা ইহুদী-নাছারাদের বৈশিষ্ট্য :

রাসূল (ছাঃ) ও ছাহাবায়ে কেরামের যুগে যে সকল ইহুদী-নাছারা ছিল তাদের অধিকাংশ দাড়ি মুন্ডন করত। আবার যে কয়জন দাড়ি রাখত তারা মেহেদী ব্যবহার করত না। সেজন্য রাসূল (ছাঃ) স্বীয় উম্মতকে তাদের দু’টি কর্মেরই বিরোধী আমল করার নির্দেশ দেন। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন,أَعْفُوا اللِّحَى وَخُذُوا الشَّوَارِبَ وَغَيِّرُوا شَيْبَكُمْ وَلَا تَشَبَّهُوا بِالْيَهُودِ وَالنَّصَارَى، ‘তোমরা দাড়ি ছেড়ে দাও, গোঁফ ছোট কর, পাকা চুলে (কালো ছাড়া অন্য) খেযাব (মেহেদী) লাগাও এবং ইহুদী ও নাছারাদের সাদৃশ্য অবলম্বন কর না’।[7] অন্য একটি হাদীছে এসেছে, ছাহাবায়ে কেরাম রাসূল (ছাঃ)-কে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)!إِنَّ أَهْلَ الْكِتَابِ يَقُصُّونَ عَثَانِينَهُمْ وَيُوَفِّرُونَ سِبَالَهُمْ فَقَالَ النَّبِىُّ صلى الله عليه وسلم قُصُّوا سِبَالَكُمْ وَوَفِّرُوا عَثَانِينَكُمْ وَخَالِفُوا أَهْلَ الْكِتَابِ ‘নিশ্চয়ই আহলে কিতাব তথা ইহুদী ও নাছারারা দাড়ি মুন্ডন করে এবং গোঁফ লম্বা করে। তখন রাসূল (ছাঃ) বললেন, তোমরা গোঁফসমূহ খাটো করে ফেল এবং দাড়িগুলো ছেড়ে দাও। আর আহলে কিতাবদের বিরোধিতা কর’।[8] অত্র হাদীছদ্বয় প্রমাণ করে যে, দাড়ি মুন্ডন করা ধর্মহীন ইহুদী-নাছারাদের বৈশিষ্ট্য, যা থেকে বেঁচে থাকা সকল মুসলিমের জন্য আবশ্যক। রাসূল (ছাঃ)-এর আমলে ধার্মিক ইহুদী-নাছারারাও দাড়ি রাখত। হাবশার বাদশাহ নাজাশী যখন জা‘ফর বিন আবী তালেবের কুরআন তেলাওয়াত শুনছিলেন তখন তার চোখের পানি দাড়িতে গড়িয়ে পড়ছিল।[9]

অন্য একটি হাদীছে এসেছে, আনাস বিন মালেক (রাঃ) বলেন,كُنَّا يَوْمًا عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَدَخَلَتْ عَلَيْهِ الْيَهُودُ، فَرَآهُمْ بِيضَ اللِّحَى، فَقَالَ: مَا لَكُمْ لَا تُغَيِّرُونَ؟ فَقِيلَ: إِنَّهُمْ يَكْرَهُونَ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَكِنَّكُمْ غَيِّرُوا، وَإِيَّايَ وَالسَّوَادَ ‘আমরা একদিন রাসূল (ছাঃ)-এর নিকটে বসা ছিলাম। এমন সময় একদল ইহুদী তার কাছে আগমন করল। তিনি তাদের সাদা পাকা দাড়ি দেখে বললেন, তোমরা একে পরিবর্তন কর না কেন? তাকে বলা হ’ল, তারা শুভ্রতা পরিবর্তন করাকে অপসন্দ করে। তখন নবী (ছাঃ) বললেন, কিন্তু তোমরা তোমাদের দাড়ির শুভ্রতাকে পরিবর্তন করবে। তবে অবশ্যই কালো রঙ থেকে বিরত থাকবে’।[10] উল্লেখ্য, বর্তমান মুসলমানরা যেমন দাড়ি কর্তন করে তৎকালীন ইহূদী ও নাছারারাও দাড়ি কর্তন করত।

দাড়ি মুন্ডন করা মুশরিকদের বৈশিষ্ট্য :

রাসূল (ছাঃ) ও ছাহাবায়ে কেরামের আমলে মক্কাসহ তৎকালীন ভারতীয় উপমহাদেশের মুশরিকদের বৈশিষ্ট্য ছিল দাড়ি মুন্ডন বা শেভ করা এবং লম্বা গোঁফ রেখে মুখ আবৃত করা। রাসূল (ছাঃ) এই ধরনের ফিৎরাত বিরোধী আমলের কথা জানার পর এর চরম বিরোধিতা করেন এবং তাঁর উম্মতকে দাড়ি রাখার নির্দেশ প্রদান করেন। আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, خَالِفُوا الْمُشْرِكِيْنَ أَحْفُوا الشَّوَارِبَ وَأَوْفُوا اللِّحَى ‘তোমরা মুশরিকদের বিরুদ্ধাচরণ কর। তোমরা গোঁফ ছেঁটে ফেল এবং দাড়ি ছেড়ে দাও’।[11]

অন্যত্র রাসূল (ছাঃ) আরো স্পষ্ট করে বলেন, إِنَّ أَهْلَ الشِّرْكِ يُعْفُوْنَ شَوَارِبَهُمْ، وَيُحْفُوْنَ لِحَاهُمْ، فَخَالِفُوهُمْ، فَأَعْفُوْا اللِّحَى، وَحُفُّوا الشَّوَارِبَ- ‘নিশ্চয়ই মুশরিকেরা গোঁফ লম্বা করে এবং দাড়ি ছেঁটে ফেলে। তোমরা তাদের বিরোধিতা করতঃ দাড়ি লম্বা কর এবং গোঁফ ছেঁটে ফেল’।[12]

দাড়ি মুন্ডন করা অগ্নিপূজকদের বৈশিষ্ট্য :

রাসূল (ছাঃ) ও ছাহাবায়ে কেরামের যুগে তৎকালীন পারস্যের লোকেরা আগুনের পূজা করত। তাদের অন্যতম শারীরিক বৈশিষ্ট্য ছিল দাড়ি মুন্ডন করা এবং গোঁফ লম্বা করা। তারা কখনো দূত হিসাবে রাসূল (ছাঃ)-এর নিকট আগমন করলে তাদের দাড়ি মুন্ডন করা দেখে তিনি মুখ ফিরিয়ে নিতেন। আর তাদেরকে এর কারণ জিজ্ঞেস করতেন। তিনি ছাহাবায়ে কেরামকে তাদের বিরোধিতা করতে বলতেন। আবু হুরায়রা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, جُزُّوا الشَّوَارِبَ وَأَرْخُوا اللِّحَى خَالِفُوا الْمَجُوسَ-

‘তোমরা গোঁফ ছেঁটে ও দাড়ি রেখে অগ্নিপূজকদের বিপরীত কর’।[13] আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর (রাঃ) বলেন, ذَكَرَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم الْمَجُوسَ فَقَالَ: إِنَّهُمْ يُوَفِّرُونَ سِبَالَهُمْ وَيَحْلِقُونَ لِحَاهُمْ فَخَالِفُوهُمْ– ‘একদা রাসূল (ছাঃ) অগ্নিপূজকদের সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বললেন, তারা নিজেদের গোঁফ লম্বা করে এবং দাড়ি মুন্ডন করে। অতএব তোমরা তাদের বিপরীত আমল কর’।[14] অন্যত্র রাসূল (ছাঃ) বলেন,إِنَّ فِطْرَةَ الْإِسْلَامِ الْغُسْلُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ، وَالِاسْتِنَانُ، وَأَخْذُ الشَّارِبِ، وَإِعْفَاءُ اللِّحَى، فَإِنَّ الْمَجُوسَ تُعْفِي شَوَارِبَهَا، وَتُحْفِي لِحَاهَا، فَخَالِفُوهُمْ، خُذُوا شَوَارِبَكُمْ، وَاعْفُوا لِحَاكُمْ، ‘ইসলামের ফিৎরাত হ’ল, জুম‘আর দিনে গোসল করা, মেসওয়াক করা, গোঁফ ছেঁটে ফেলা ও দাড়ি লম্বা করা। কেননা অগ্নিপূজকরা গোঁফ লম্বা করে ও দাড়ি ছেঁটে ফেলে। অতএব তোমরা তাদের বিরোধিতা

কর, গোঁফ মুন্ডন কর এবং দাড়িকে লম্বা কর’।[15]

আব্দুল্লাহ বিন ওৎবা বলেন,جَاءَ رَجُلٌ مِنَ الْمَجُوسِ إلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم : قد حَلَقَ لِحْيَتَهُ، وَأَطَالَ شَارِبَهُ، فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : مَا هَذَا؟ قَالَ : هَذَا فِي دِينِنَا، قَالَ : فِي دِينِنَا أَنْ نَجُزَّ الشَّارِبَ، وَأَنْ نُعْفِيَ اللِّحْيَةَ- ‘জনৈক অগ্নিপূজক রাসূল (ছাঃ)-এর নিকট আগমন করল। যে তার দাড়িকে মুন্ডন করেছিল এবং গোঁফকে লম্বা করেছিল। নবী করীম (ছাঃ) তার মুখের অবস্থা দেখে বললেন, এটা কী? সে বলল, আমাদের দ্বীনে এটাই বিধান রয়েছে। তখন নবী করীম (ছাঃ) বললেন, ‘আমাদের দ্বীনে রয়েছে যে, আমরা গোঁফ ছেঁটে ফেলব এবং দাড়িকে ক্ষমা করে দিব’।[16] অত্র হাদীছ স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, দাড়ি মুন্ডন করা অগ্নিপূজকদের ধর্মীয় নিদর্শন। আর তাদের ধমীর্য় শে‘আর বা নিদর্শন কোন মুসলমান পালন করতে পারে না।

দাড়ি মুন্ডন বা শেভ করা অনারব কাফেরদের বৈশিষ্ট্য :

দাড়ি মুন্ডন করা কেবল ইহুদী-নাছারা, মুশরিক বা অগ্নিপূজকদের বৈশিষ্ট্য নয়। বরং এটি ছিল ইসলাম বিরোধী সকল কাফেরের বৈশিষ্ট্য। সেজন্য রাসূল (ছাঃ) দাড়ি শেভ করার বা কাটার ব্যাপারে কোন ছাড় দেননি।

ইয়াহইয়া ইবনু কাছীর বলেন, أَتَى رَجُلٌ مِنَ الْعَجَمِ الْمَسْجِدَ وَقَدْ وَفَّرَ شَارِبَهُ وَجَزَّ لِحْيَتَهُ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم مَا حَمَلَكَ عَلَى هَذَا قَالَ إِنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ أَمَرَنَا بِهَذَا فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : إِنَّ اللهَ أَمَرَنِي أَنْ أُوَفِّرَ لِحْيَتِي وَأُحْفِيَ شَارِبِي- ‘জনৈক অনারব মসজিদে প্রবেশ করল। যে তার গোঁফকে লম্বা করেছিল এবং দাড়ি কেটে ফেলেছিল। রাসূল (ছাঃ) তাকে বললেন, কীসে তোমাকে এই কাজ করতে উৎসাহিত করল? সে বলল, মহান আল্লাহ আমাকে এ কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। তখন রাসূল (ছাঃ) বললেন, আল্লাহ তা‘আলা আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যাতে আমরা দাড়ি ছেড়ে দেই এবং গোঁফ ছেঁটে ফেলি’।[17] সুতরাং দাড়ি রাখা কেবল নবীর নির্দেশ নয় বরং আল্লাহরও নির্দেশ। একদা পারস্য থেকে দু’জন দূত রাসূল (ছাঃ)-এর নিকট প্রবেশ করল। যারা তাদের গোঁফ লম্বা করেছিল এবং দাড়ি কেটে ফেলেছিল। রাসূল (ছাঃ) তাদের দিকে দৃষ্টিপাত করতে ঘৃণা পোষণ করলেন। পরে তাদের নিকট এসে বললেন, তোমাদের ধ্বংস হৌক, কে তোমাদেরকে এই কাজ করতে নির্দেশ দিয়েছে? তারা বলল, আমাদের রব তথা পারস্য সম্রাট কেসরা। তখন রাসূল (ছাঃ) বললেন, কিন্তু আমার রব আল্লাহ তা‘আলা আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যাতে আমি দাড়ি ছেড়ে দেই এবং গোঁফ ছেঁটে ফেলি।[18]

ইমাম খাত্ত্বাবী (রহঃ) বলেন, وأما إعفاء اللحية فهو إرسالها وتوفيرها كره لنا أن نقصها كفعل بعض الأعاجم وكان من زي آل كسرى قص اللحى وتوفير الشوارب فندب صلى الله عليه وسلم أمته إلى مخالفتهم في الزي والهيئة. ‘ইহফাউল লিহ্ইয়া হ’ল একে ছেড়ে দেওয়া ও বৃদ্ধি করা। অনারবদের কর্মের মত দাড়ি কর্তন করতে আমাদের জন্য ঘৃর্নিত করা হয়েছে। কিসরাদের বেশ-ভূসা ছিল দাড়ি কর্তন করা ও গোঁফ লম্বা করা। ফলে নবী করীম (ছাঃ) তার উম্মতকে বেশ-ভূষা ও ব্যক্তিত্বের ক্ষেত্রে তাদের বিরোধিতা করার নির্দেশনা দিয়েছেন’।[19]

সম্মানিত পাঠকমন্ডলী! উপরোক্ত হাদীছগুলোতে রাসূল (ছাঃ) ইহুদী-নাছারা, মুশরিক ও অগ্নিপূজকদের সাদৃশ্য অবলম্বন করতে নিষেধ করলেন এবং দাড়ি রাখার মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধাচরণ করতে বলেছেন। কারণ তারা দাড়ি রাখে না। সাথে সাথে মুসলমানদের নির্দেশ দিলেন যেন তারা অবশ্যই দাড়ি রাখে। আর কোন বিষয়ে রাসূল (ছাঃ)-এর নির্দেশ সেই বিধানটি ওয়াজিব হওয়ার দলীল। এ ব্যাপারে হানাফী, শাফেঈ, মালেকী ও হাম্বলী মাযহাবের সকল ইমামের ঐক্যমত রয়েছে যে, দাড়ি রাখা ওয়াজিব এবং দাড়ি মুন্ডন বা শেভ করা হারাম।[20]

কারণ আল্লাহ তা‘আলা তাঁর রাসূলের আদেশ অমান্যকারীর শাস্তির ব্যাপারে বলেন,فَلْيَحْذَرِ الَّذِيْنَ يُخَالِفُوْنَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيْبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيْبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيْمٌ، ‘অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা এ বিষয়ে সাবধান হৌক যে, ফিৎনা তাদেরকে গ্রাস করবে অথবা মর্মন্তুদ শাস্তি তাদের উপর আপতিত হবে (নূর ২৪/৬৩)। তিনি আরো বলেন,وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوْهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوْا وَاتَّقُوا اللهَ إِنَّ اللهَ شَدِيْدُ الْعِقَابِ، ‘আর রাসূল তোমাদেরকে যা দেন, তা গ্রহণ কর এবং যা নিষেধ করেন, তা হ’তে বিরত থাক। আর আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ কঠিন শাস্তিদাতা’ (হাশর ৫৯/৭)। অত্র আয়াতের শেষেও আল্লাহ কঠিন শাস্তির কথা উল্লেখ করে রাসূলের নির্দেশ অমান্যকারীদের সতর্ক করেছেন।

দাড়ি শেভ বা মুন্ডন করা ইহুদী-নাছারা ও মুশরিকদের সাদৃশ্যপূর্ণ আমল :

দাড়ি মুন্ডন করাতে ইহুদী-নাছারা, মুশরিক ও অগ্নিপূজকদের সাথে সাদৃশ্য রয়েছে। যে সাদৃশ্য অবলম্বন করতে রাসূল (ছাঃ) কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। কারণ কেউ কোন ধর্মের সাথে সাদৃশ্য পোষণ করলে সে তাদেরই অর্ন্তভুক্ত হয়ে যায়। স্বয়ং আল্লাহ তা‘আলা তাদের ধর্মীয় নিদর্শন পালন করতে নিষেধ করেছেন। এমনকি তাদের সাথে বন্ধুত্ব করতেও নিষেধ করেছেন। আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে যারা তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে, তারা তাদের মধ্যে গণ্য হবে’ (মায়েদাহ ৫/৫১)। রাসূল (ছাঃ) বলেন,مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ، ‘যে ব্যক্তি অন্য জাতির সাথে সাদৃশ্য রাখে সে তাদের অন্তর্ভুক্ত’।[21]

তিনি আরো বলেন,لَيْسَ مِنَّا مَنْ تَشَبَّهَ بِغَيْرِنَا، لَا تَشَبَّهُوْا بِاليَهُوْدِ وَلَا بِالنَّصَارَى، ‘যে অন্য সম্প্রদায়ের সাথে সাদৃশ্য বা মিল রেখে চলে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়। তোমরা ইহূদী ও নাছারাদের সাথে সাদৃশ্য রেখো না’।[22] অন্যত্র রাসূল (ছাঃ) বলেন, وَتَشَبَّهَ بِهِمْ حَتَّى يَمُوْتَ وَهُوَ كَذَلِكَ حُشِرَ مَعَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ‘যে ব্যক্তি মৃত্যু অবধি কাফের-মুশরিকদের সাথে সাদৃশ্য পোষণ করল সে ক্বিয়ামতের দিন তাদের সাথে হাশর করবে’।[23] ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) বলেন, কাফেরদের সাথে সাদৃশ্য অবলম্বন করা হারাম।[24] যেখানেই ইহুদী-নাছারা বা মুশরিকদের আমলের কথা এসেছে, সেখানেই রাসূল তাদের বিপরীত আমল করার আদেশ দিয়েছেন।[25]

দাড়ি শেভ বা মুন্ডন করা নারীদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ : দাড়ি মুন্ডন করাতে নারীদের সাথে সাদৃশ্য রয়েছে, যা করতেও রাসূল (ছাঃ) কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। রাসূল (ছাঃ) বলেন, لَعَنَ اللهُ الْمُتَشَبِّهِينَ مِنَ الرِّجَالِ بِالنِّسَاءِ وَالْمُتَشَبِّهَاتِ مِنَ النِّسَاءِ بِالرِّجَالِ، ‘আল্লাহর লা‘নত সেই পুরুষদের উপর যারা নারীদের সাদৃশ্য অবলম্বন করে এবং সেই সকল নারীদের উপর যারা পুরুষদের সাদৃশ্য অবলম্বন করে’।[26] শায়খ আলবানী (রহঃ) বলেন, ولا يخفى أن في حلق الرجل لحيته التي ميزه الله بها على المرأة أكبر تشبه بها ‘এটি গোপন নয় যে, পুরুষদের দাড়ি মুন্ডন করা, যার মাধ্যমে আল্লাহ তা‘আলা তাকে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত করেছেন, নারীদের সাথে বড়ই সাদৃশ্যপূর্ণ’।[27] তিনি আরো বলেন,حرم تشبه الرجال بالنساء وحلق الرجل لحيته فيه تشبه بالنساء فيما هو من أظهر مظاهر أنوثتهن فثبت حرمة حلقها ولزم وجوب إعفائها. ‘নারীদের সাথে পুরুষদের সাদৃশ্য অবলম্বন হারাম করা হয়েছে। আর পুরুষদের জন্য দাড়ি মুন্ডন করা নারীদের সাথে সাদৃশ্য রয়েছে, যেটি তাদের প্রকাশ্য নারীত্বের পরিচায়ক। ফলে দাড়ি মুন্ডন করা হারাম ও দাড়ি ছেড়ে দেওয়া ওয়াজিব সাব্যস্ত হ’ল’।[28]

দাড়ি মুন্ডন বা শেভ করা পুরুষ হিজড়াদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ :

দাড়ি মুন্ডন করাতে পুরুষ হিজড়াদের সাথে সাদৃশ্য রয়েছে। কারণ তারা নিজেদের পরিচয় লুকাতে দাড়ি শেভ বা মুন্ডন করে থাকে। তাদের সাথেও সাদৃশ্য পোষণ করতে রাসূল (ছাঃ) নিষেধ করেছেন। ইবনু আববাস (রাঃ) বলেন,لَعَنَ النَّبِىُّ صلى الله عليه وسلم الْمُخَنَّثِيْنَ مِنَ الرِّجَالِ، وَالْمُتَرَجِّلاَتِ مِنَ النِّسَاءِ وَقَالَ أَخْرِجُوْهُمْ مِنْ بُيُوْتِكُمْ. قَالَ فَأَخْرَجَ النَّبِىُّ صلى الله عليه وسلم فُلاَنًا، وَأَخْرَجَ عُمَرُ فُلاَنًا، ‘নবী করীম (ছাঃ) পুরুষ হিজড়াদের উপর এবং পুরুষের বেশধারী মহিলাদের উপর লা‘নত করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘ওদেরকে ঘর থেকে বের করে দাও’। ইবনু আববাস (রাঃ) বলেন, নবী করীম (ছাঃ) অমুককে বের করেছেন এবং ওমর (রাঃ) অমুককে বের করে দিয়েছেন’।[29] সেজন্য কোন কোন বিদ্বান দাড়ি মুন্ডন করাকে পুরুষ হিজড়াদের বৈশিষ্ট্য বলে উল্লেখ করেছেন।

ইসলামের দ্বিতীয় খলীফা ওমর ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ), ৫ম খলীফা খ্যাত ওমর ইবনে আব্দুল আযীয, বিচারক ইবনু আবী লায়লাসহ অন্যান্য সালাফগণ দাড়ি মুন্ডনকারীর সাক্ষ্য গ্রহণ করতেন না।[30] দাড়ি একজন মুসলিমের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলেই তারা দাড়ি মুন্ডনকারীর সাক্ষ্য গ্রহণ করতেন না। তাছাড়াও দাড়ির ব্যাপারে ছাহাবায়ে কেরাম এবং সালাফে ছালেহীন তথা আমাদের নেককার উত্তরসূরীরাও আমাদেরকে সঠিক নির্দেশনা দিয়েছেন। তাদের কেউই দাড়ি শেভ করতেন না।

ছাহাবী ক্বায়েস ইবনে সা‘দ (রাঃ)-এর দাড়ি গজায়নি। ছোট থেকে তিনি গোত্রের নেতৃত্ব দিতেন। কিন্তু দাড়ি না থাকার কারণে তাকে নেতা মানাত না। সেজন্য তার কওম আনছার ছাহাবীগণ বলতেন, ‘বীরত্ব ও সাহসিকতায় কতইনা সেরা মানুষ হ’লেন আমাদের নেতা ক্বায়েস ইবনে সা‘দ। কিন্তু কষ্টের বিষয় হ’ল, তার কোন দাড়ি নেই। সেজন্য আনছারগণ আফসোস করে বলতেন,لو استطعنا أن نشتري لقيس لحية بأموالنا لفعلنا، ‘ধন-সম্পদ দিয়ে ক্বায়েসের জন্য যদি আমাদের পক্ষে দাড়ি কেনা সম্ভব হ’ত, তাহ’লে আমরা তার জন্য দাড়ি ক্রয় করতাম!![31]

ইবনুল আছীর বলেন,وكان ليس فِي وجهه لحية ولا شعرة، فكانت الأنصار تَقُولُ: وددنا أن نشتري لقيس لحية بأموالنا، وكان مَعَ ذَلِكَ جميلًا. ‘তার মুখে কোন চুল-দাড়ি ছিল না। আনছারগণ বলতেন, আমাদের কামনা হয় ধন-সম্পদ দিয়ে ক্বায়েসের জন্য যদি দাড়ি ক্রয় করা যেত, তাই করতাম। এরপরেও তিনি খুব সুন্দর ছিলেন’।[32]

তদ্রূপ তাবেঈ আহনাফ ইবনু ক্বায়েসেরও কোন দাড়ি ছিল না, তিনিও তার গোত্রের নেতা ছিলেন। তার গোত্রের লোকেরা বলতেন,وددنا أنا اشترينا للأحنف اللحية بعشرين ألفاً ‘আমরা কামনা করতাম, যদি দাড়ি কিনতে ২০ হাযার দিরহামও লাগে, তা দিয়ে তার জন্য দাড়ি কিনতাম’।[33] তিনি টেরা এবং লেংড়া ছিলেন অথচ তারা সেগুলোকে দোষ হিসাবে

 গণ্য করেননি। কিন্তু দাড়ি না থাকাটাকে তারা আফসোসের কারণ হিসাবে গণ্য করেছেন। কাযী শুরাইহ বলতেন, وددت أن لي لحية بعشرة آلاف ‘দশ হাযার মুদ্রার বিনিময়ে আমার দাড়ি থাকলে সেটি আমার নিকট প্রিয় হ’ত’।[34] আফসোসের বিষয় হ’ল যেখানে আমাদের সালাফ বা পূর্বসূরিগণ দাড়ি কেনার জন্য হাযার হাযার দিরহাম ব্যয় করার ইচ্ছে পোষণ করেছিলেন সেখানে আজকের মুসলমানরা লক্ষ লক্ষ টাকা অপচয় করে দাড়ি শেভ করে ফেলে দেয়। তাদের থেকে আমরা কত দূরে অবস্থান করছি? তাদের ঈমান এবং আমাদের ঈমানের মধ্যে যোজন যোজন ব্যবধান।

[চলবে]

 মুহাম্মাদ আব্দুর রহীম
নিয়ামতপুর, নওগাঁ।

[1]. মুসলিম হা/২৬১; মিশকাত হা/৩৭৯।

[2]. আহমাদ হা/৩৫৪৬; আলবানী, আল-ইসরা ওয়াল মে‘রাজ ৭৬ পৃ.।

[3]. বায়হাকী, দালায়েলুন নবুয়ত ১/৩৮৬-৯০।

[4]. বায়হাকী, দালায়েলুন নবুয়ত ২/৩৯৩।

[5]. মুসনাদে আহমাদ হা/৭১৩২; ছহীহুল জামে‘ হা/৪৩৯২।

[6]. মুসলিম হা/২৫৯; তিরমিযী হা/২৪৬৪; আবুদাউদ হা/৪১৯৯।

[7]. মুসনাদে আহমাদ হা/৮৬৫৭; ছহীহুল জামে‘ হা/১০৬৭।

[8]. আহমাদ হা/২২৩৩৭; মাজমা‘উয যাওয়ায়েদ হা/৮৫৭৬; ছহীহুল জামে‘ হা/৭১১৪।

[9]. আহমাদ হা/১৭৪০; মাজমা‘উয যাওয়ায়েদ হা/৯৮৪২।

[10]. তাবারাণী আওসাত্ব হা/১৪২; আলবানী, তামামুল মিন্নাহ ৮৬ পৃ:, সনদ হাসান।

[11]. বুখারী হা/৫৮৯২; মুসলিম হা/২৫৯; মিশকাত হা/৪৪২১।

[12]. মুসনাদে বাযযার হা/৮১২৩; কাশফুল আসতার হা/২৯৭০; মাজমা‘উয যাওয়ায়েদ হা/৮৮৪৫, সনদ হাসান।

[13]. মুসলিম হা/২৬০; মুসনাদে আহমাদ হা/৮৭৭১।

[14]. ছহীহ ইবনু হিববান হা/৫৪৭৬; শু‘আবুল ঈমান হা/৬০২৭; ছহীহাহ হা/২৮৩৪।

[15]. ছহীহ ইবনু হিববান হা/১২২১; ছহীহাহ হা/৩১২৩।

[16]. ইবনু আবী শায়বাহ হা/২৬০১৩, সনদ মুরসাল ছহীহ, আল-আমালী ওয়াল কেরাত, তাহকীক মাস‘আদ আব্দুল হামীদ হা/৩৪।

[17]. মুসনাদুল হারেছ হা/৫৮৩,৫৯২; ইবনু হাজার আসক্বালানী, আল-মাতালিবুল আলিয়া হা/২৩০৮।

[18]. তারীখে তাবারী ২/৬৫৬; তাহরীমু হালকিল লিহা ১/১১।

[19]. মু‘আলিমুস সুনান ১/৩১।

[20]. আলী মাহফূয, ‘আল-ইবদা‘ ফী মুযার্রিল ইবদা‘ই’ কিতাব দ্রষ্টব্য।

[21]. আবূদাঊদ হা/৪৩৪৭; ছহীহুল জামে‘ হা/৬১৪৯; মিশকাত হা/৪৩৪৭।

[22]. তিরমিযী হা/২৬৯৫; মিশকাত হা/৪৬৪৯; ছহীহুত তারগীব হা/২৭২৩।

[23]. বায়হাকী, সুনানুল কুবরা হা/১৮৮৬৩; শু‘আবুল ঈমান হা/৮৯৪১; আলবানী, জিলবাব ২০৪ পৃ:।

[24]. ইক্বতিযাউ ছিরাতিল মুস্তাক্বীম ১/২৭১।

[25]. আলবানী, হিজাবুল মারাতিল মুসলিমাহ ১৬১-২১২ পৃ:।

[26]. মুত্তাফাক্ব আলাইহ, আহমাদ হা/৩১৫১; মিশকাত হা/৪৪২৯।

[27]. আদাবুয যিফাফ ২১২পৃ:।

[28]. তামামুল মিন্নাহ ৮২ পৃ:।

[29]. বুখারী হা/৫৮৮৬; মিশকাত হা/৪৪২৮।

[30]. জাছছাস, আহকামুল কুরআন ২/২৩৬, ১/৬১৬; গাযালী, ইহইয়াউ উলুমিদ্দীন ১/১৪৪।

[31]. তাহযীবুল কামাল ২৪/৪২; যাহাবী, সিয়ারু আ‘লামিন-নুবালা ৩/১০৩, ৫/৯৮।

[32]. উসদুল গাবাহ ৪/৪০৪; মোল্লা আলী ক্বারী, শারহুশ শেফা ১/২৭৩।

[33]. কুতুল কুলূব ২/২৪০; ইত্তেহাফু সাদাতিল মুত্তাকীন ২/৪৬২; ইয়াহইয়াউ উলূমিদ্দীন ১/২৮০।

[34]. ইত্তেহাফু সাদাতিল মুত্তাকীন ২/৪৬২।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

18 − 3 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য