সতের বছরের একটা ছেলে তার মায়ের পেনশনের টাকা তুলতে গিয়েছিল সরকারি কার্যালয়ে। কর্মকর্তাদের বাজে ব্যবহার আর ঘুষের কারবার দেখে সে আক্ষেপ থেকে ঘুষের একটি ওয়েবসাইট বানিয়ে ফেলেছে।
ছেলেটির এই অভিজ্ঞতা কি নতুন কিছু?
আপনি একটা সরকারি অফিসে গিয়ে দাঁড়ান। দেখবেন, চেয়ারটা আপনার দিকে ফেরানো না। ফাইল আছে, সিল আছে, নিয়ম আছে, লাল ফিতা আছে। শুধু আপনার কাজটা নেই। আপনি দাঁড়িয়ে থাকেন, ঘুরতে থাকেন, আবার আসেন।
এটা কি শুধুই বিচ্ছিন্ন ঘটনা? না।
এই ব্যবস্থাটা এভাবেই ডিজাইন করা হয়েছিল। ফিরিঙ্গিরা যে আমলাতন্ত্র রেখে গেছে, সেটা জনগণের সেবার জন্য বানানো হয়নি। বানানো হয়েছিল শাসনের জন্য। রাজস্ব আদায়ের জন্য। নিয়ন্ত্রণের জন্য। সেখানে জনগণ নাগরিক না। জনগণ প্রজা।
আর একটা প্রজার কাজ কী? লাইনে দাঁড়ানো, অপেক্ষা করা, আর যা দেওয়া হয় তাতেই সন্তুষ্ট থাকা। সেই পলাশী থেকেই এই ছক। সাহেবরা চলে গেছেন। কিন্তু তাঁদের বানানো টেবিল, চেয়ার আর নিয়মের বই রয়ে গেছে। আর যে চেয়ারটা একদিন লন্ডনের দিকে ফেরানো ছিল, সেটা আজ অন্য কোনো দিকে ফেরানো। শুধু আপনার দিকে না।
দ্বীন এই বিষয়ে কী বলে জানেন?
নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল, আর প্রত্যেককে তার অধীনদের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হবে। শাসক তার প্রজাদের রক্ষক, আর তাকে তাদের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হবে। (সহিহ বুখারি)
শব্দটা খেয়াল করুন। রক্ষক। মালিক না, প্রভু না। রক্ষক।
চৌদ্দশ বছর আগে ক্ষমতার সংজ্ঞাটাই উল্টে দেওয়া হয়েছিল। যে ওপরে বসে, তার কাজ নিচের মানুষকে রক্ষা করা। আর আজ আমরা এমন একটা ব্যবস্থার ভেতরে বাস করি, যেখানে ওপরের মানুষ নিচের মানুষকে দেখেই না।
তাই যখন কোনো অফিসে গিয়ে হয়রানি হন, নিজেকে দোষ দেবেন না। আপনি ব্যর্থ হননি। ব্যবস্থাটা ঠিক যেভাবে কাজ করার কথা, সেভাবেই কাজ করছে। আসল প্রশ্নটা হলো, আমরা কি এই ব্যবস্থাটাকেই স্বাভাবিক ভেবে নিয়েছি?
আল্লাহ আমাদের দৃষ্টি খুলে দিন। আর আমাদের এমন মানুষ বানিয়ে দিন, যারা প্রশ্ন করতে ভুলে যায় না।
আমীন।
