Tuesday, September 15, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeনিবেদনফেইসবুক পেইজ থেকে২০৩০ সালের মধ্যে AI মানুষকে ধ্বংস করতে পারে, সাবেক কর্মীর সতর্কবার্তা

২০৩০ সালের মধ্যে AI মানুষকে ধ্বংস করতে পারে, সাবেক কর্মীর সতর্কবার্তা

ছবির বাম দিকে যাকে দেখছেন। সে সিএনএন -এর সাংবাদিক এন্ডারসন কুপার। আর ডান দিকে যাকে দেখছেন। তাঁর নাম হচ্ছে জ্যাকব কক্সন। সে আগে ‘ওপেন এ-আই’তে (চ্যাট জিপিটিতে)’ চাকরি করতো। এরপর ওই চাকরি ছেড়ে দিয়ে আরেক নামরা এ-আই কোম্পানি অ্যানথ্রপিকে চাকরি করছিল। দিন তিনেক আগে সে টুইটারে একটা পোস্ট করে চাকরি ছেড়ে দিয়েছে। ওই পোস্টে সে লিখেছে – AI could kill all humans by 2030 ( ২০৩০ সালের মধ্যে AI সব মানুষকে হত্যা করতে পারে।) এরপর সিএনএন ওর ইন্টার্ভিউ নিয়েছে। ওই ইন্টার্ভিউতে সে বলেছে – আগামী ছয় মাস থেকে এক বছরের মাঝে এমন প্রযুক্তি চলে আসতে পারে; যেটা পুরো পৃথিবী বদলে দেবে। কক্সনের ওই টুইটের পর এখন দেখতে পাচ্ছি ইলন মাস্ক সহ অন্যরাও বলছে – এই প্রযুক্তির অগ্রগতিকে এখনই স্লো করতে হবে। একে নিয়মের মাঝে নিয়ে আসতে হবে। অ্যামেরিকান সকল সংবাদ মাধ্যম গত দুই দিন ধরে এ নিয়ে রীতিমত সংবাদ শিরোনাম করেছে। ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমগুলোও এটা নিয়ে কথাবার্তা বলছে। কক্সন এই কথাও বলেছে – ছয় মাসের মাঝে এমন এ-আই চলে আসবে। যে নিজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারবে এবং নিজেই নিজেকে ডেভলপ (প্রগ্রেস) করতে পারবে। যদিও ট্রাম্পকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল এই ব্যাপারে। ট্রাম্প বলেছে – আমি মনে করি না স্লো করার কোন দরকার আছে। কারন চীন এই প্রযুক্তিতে এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদেরও আগাতে হবে। আমার ঠিক জানা নেই, অ্যামেরিকান কোম্পানিগুলো ঠিক এই মুহূর্তে কেন এ-আই প্রযুক্তিকে স্লো করতে বলছে। চীন কি তাহলে এমন কিছু বানিয়ে ফেলেছে? যেটা অ্যামেরিকার জন্য হুমকি হতে পারে কিংবা এমন কিছু? হতেও পারে আবার নাও হতে পারে। তবে আগামী এক থেকে দুই বছরের মাঝে আমরা সম্পূর্ণ ভাবে এ-আই-এর যুগে প্রবেশ করবো বলেই আমার মনে হচ্ছে। আমার এ-আই ভালো লাগে না। কিন্তু মনে হচ্ছে এটাই আগামীর পৃথিবী। মানুষ বিলীন হয়ে যাবে কিনা জানি না। তবে এটা নিশ্চিত ভাবে বলতে পারি- মানুষের পেশার পরিবর্তন হবে। অনেক ক্ষেত্রে আর মানুষের দরকারই হবে না। এমনকি পড়াশুনার ব্যাপারটা সম্পূর্ণ ভিন্ন হয়ে যাবে। এই যে কক্সনের ছবি দেখছেন। যে চাকরি ছেড়ে দিয়েছে। কত হবে এই ছেলেটার বয়স? দেখলাম ২৭/২৮। ওকে কিন্তু মাস্টার্স-পিএইচডি করতে হয় নাই। ক্যামব্রিজ থেকে গণিতে অনার্স করেই সে ওপেন এ-আইতে চাকরি করতে শুরু করেছে। তাও আবার চার বছর আগে থেকে। ইন-ফ্যাক্ট আমাদের এখানে এখন যারা চাকরি দেয়। ওরা ডিগ্রী দেখতেও চায় না। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অনেক শিক্ষার্থী পড়াশুনা ফেলে দিয়ে ভালো ভালো চাকরিতে চলে যাচ্ছে। কারন ওদের ওই বিষয়ে স্কিল আছে। আমার এখানে এক ব্রিটিশ ছাত্র এস্তোনিয়ায় এসেই এক আইটি ফার্মে চাকরি পেয়ে গেছে। ও পড়াশুনা ছেড়ে চলে গেছে! চাকরি করছে এখন। আমি ঠিক জানি না এ-আই কীভাবে মানব সভ্যতা ধ্বংস করতে পারে। তবে আমি এটা জানি- মানব সভ্যতা সম্পূর্ণ নতুন এক পথে হাঁটা ধরেছে। যেখানে মানুষের আর দরকার নাও হতে পারে। সবার প্রথমে এ-আই শিক্ষিত মানুষগুলোর চাকরি খেয়ে ফেলবে। শিক্ষিত মানুষরা যে কাজ করে। মানে কাজের যেই সেক্টর , এর প্রায় ৭০ ভাগ এ-আই দখল করে নেবে আগামী পাঁচ থেকে সাত বছরের মাঝে। বাংলাদেশে যেভাবে আপনারা বিশ্ববিদ্যালয় বানাচ্ছেন। এইসব বন্ধ করুন। আমাদের এখন আর ওই সব গতানুগতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের দরকার নেই। শিক্ষক হিসেবে আমি এই কথা বলছি। আমার নিজেরই খারাপ লাগছে। আমি এ-আই চাই না। এ-আই আমার ভালো লাগে না। এ-আই ছাড়াও তো পৃথিবী চলছিল। কিন্তু এটাই এখন ভবিষ্যৎ। এটা মেনে নিতে হবে আমাদের। অ্যামেরিকা, চীন কারও পক্ষে এই প্রযুক্তি বন্ধ করা সম্ভব না। কারন অন্য যে কোন দেশ এমন সুপার এ-আই বানিয়ে বসে থাকতে পারে। ইরান বানিয়ে ফেলতে পারে। উত্তর কোরিয়া বানিয়ে ফেলতে পারে। অন্য যে কোন দেশ বানিয়ে ফেলতে পারে। পৃথিবী কোথায় যাচ্ছে, আমি বলতে পারছি না। তবে আমি এটা জানি- তিন বছর আগে এ-আই ছাড়া পৃথিবী আর বর্তমান পৃথিবী এক না। আগে আমরা গুগল করতাম। কোন কিছু জানতে হলে গুগল করতাম না? এখন কী করি? এখন করি এ-আই! ঠিক তেমনি ভাবে- পাঁচ বছর পরের পৃথিবী আমরা হয়ত কল্পনাও করতে পারছি না। যেটা কক্সন হয়ত বুঝতে পেরেছে। নইলে তো আর লাখ লাখ টাকা দামের চাকরিটা ছেড়ে দিত না। ওকে জিজ্ঞেস করা হয়েছে – এমন দামি চাকরি তুমি ছেড়ে দিলে? সে বলেছে – অন্যরা কেউ ছাড়ছিল না। কিন্তু ওরাও আমার কথা বিশ্বাস করে। বাংলাদেশের সরকারের উচিত ভবিষ্যৎ শিক্ষা, চাকরি, সমাজ, সামরিক কিংবা অন্য সকল কিছুর ক্ষেত্রে যখন পরিকল্পনা করবেন। এ-আই-এর কথা মাথায় রাখবেন। নইলে আপনাদেরকে একটা সময় পস্তাতে হবে। এখনই অনেক শিক্ষিত বেকার তরুণ বাংলাদেশে। পাঁচ বছর পর এদের পাঁচ ভাগের চার ভাগের কাউকে আর চাকরি ক্ষেত্রে দরকার হবে না। সমাজ তখন কোথায় যাবে, সেটা ভেবে দেখবেন। ইলন মাস্ক কিন্তু বলেছে- এ-আই পারমাণবিক বোমার চাইতেও ভয়ংকর হতে চলেছে। হায় মানুষ! নিজেকে ধংস করার প্রযুক্তি নিজেরাই আবিষ্কার করছে।

-আমিনুল ইসলাম

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

1 × one =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য