Thursday, April 18, 2024
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

হোমদৈনন্দিন খবরবিতর্কিত শ্রম আইনের প্রতিবাদে ইন্দোনেশিয়ায় শ্রমিক-নিরাপত্তা বাহিনী ব্যাপক সংঘর্ষ

বিতর্কিত শ্রম আইনের প্রতিবাদে ইন্দোনেশিয়ায় শ্রমিক-নিরাপত্তা বাহিনী ব্যাপক সংঘর্ষ

বিদেশী বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষে পাস হওয়া আইনটির প্রতিবাদে পুলিশের সাথে ব্যাপক সংঘর্ষ এবং অনেককে গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে।

মেদান, ইন্দোনেশিয়া- এই সপ্তাহের শুরুতে একটি বিতর্কিত “সর্বজনীন আইন” পাস হওয়ার পরে ইন্দোনেশিয়া জুড়ে উত্তেজনা বেড়েছে। ফলশ্রুতিতে, বৃহস্পতিবার এক হাজারেরও বেশি প্রতিবাদকারী উত্তর সুমাত্রার মেদানের রাস্তায় নেমেছিল। বিক্ষোভকারীরা আশঙ্কা করছেন যে, এটি চাকরির সুযোগ তৈরি করার চেয়ে তা ধ্বংস করবে বেশী।

বিক্ষোভকারীরা শহরজুড়ে বেশ কয়েকটি জায়গায় দাঙ্গা পুলিশের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। কর্তৃপক্ষ সংঘাত নিরসনের প্রয়াসে টিয়ার গ্যাস ও জল কামান মোতায়েন করেছিল। হাজার হাজার মানুষ দ্বীপপুঞ্জটি জুড়ে মিছিল করেছিল। রাজধানী জাকার্তার রাস্তায়ও সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।

” ইন্দোনেশিয়ার সংসদ ও সরকার জনগণ, শ্রমিক, শিক্ষার্থী এবং ইন্দোনেশিয়ার সামাজিক আন্দোলন কোন কিছুকেই পরোয়া না করায় ক্ষোভ ও হতাশায় এটি প্রতিবাদের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।”- প্রোটেকশন ইন্টারন্যাশনালের ইন্দোনেশিয়া প্রতিনিধি দমাই পাকপাহান বলেন। মানবাধিকার কর্মীদের প্রতিরক্ষা করতে কাজ করে প্রোটেকশন ইন্টারন্যাশনাল নামক এনজিওটি।

সর্বজনীন আইনটি ৩ অক্টোবর স্বাক্ষরিত হয়। এটি প্রথম প্রস্তাব হওয়ার পর থেকেই শ্রমিক ইউনিয়নের লক্ষ্যবস্তু ছিল। ইন্দোনেশিয়ার জটিল আইনী ব্যবস্থাকে সহজসাধ্য করা এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ সহজ করতে এটি স্বাক্ষরিত হয়। কেউ কেউ এটিকে অর্থনীতির জন্য আশীর্বাদ বলে প্রশংসিত করছেন। আইনটির সমালোচকরা বলেছেন, এটি শ্রমিকদের জন্যে শোষণজনক এবং পরিবেশের জন্যে সম্ভাব্য ধ্বংসাত্মক।

”সর্বজনীন আইনটি কর্পোরেশনগুলির জন্য দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণের এক সুবর্ণ সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে।”- অ্যামনেস্টি ইন্দোনেশিয়ার প্রধান উসমান হামিদ বলেছেন।

অনেকে বিশ্বাস করেন যে, এটি যৌন-সহিংসতা বিরোধী বিল এবং গার্হস্থ্য শ্রমিকদের সুরক্ষা আইনের মতো যেই বিলগুলো বছরের পর বছর এবং কখনও কখনও কয়েক দশক ধরে বিলীন থাকে এমন বিলের তুলনায় সংসদে উঠেছিল। নতুন বিলটির বিরুদ্ধে বিক্ষোভের ফলে প্রতিবাদকারী এবং পুলিশ উভয়ই আহত হয়েছেন।

পুলিশের অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন

তবে কেউ কেউ স্থানীয় কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি প্রতিবাদকারীদের কর্তৃক শক্তি প্রয়োগের সমালোচনা করেছেন। পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ও অন্যান্য বস্তু  নিক্ষেপ করা, মলোটোভ ককটেল বিস্ফোরণ এবং টায়ার, আসবাব এবং বাস স্টপগুলিতে আগুন লাগানো এমন ধরনের ছবিগুলি বিক্ষোভকারীদের সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারিত হয়েছে।

মেদানে বিক্ষোভকারীরা বিধানসভা ভবনে পাথর নিক্ষেপ করে এবং এক্ষেত্রে কিছু পুলিশ কর্মকর্তা সরাসরি আঘাতপ্রাপ্ত হয়। ”আমরা [জনসাধারণকে] তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরার ক্ষেত্রে সুশৃঙ্খল থাকতে বলি। সকলকে পর্যবেক্ষণ করা হবে, যে নৈরাজ্যবাদী পদক্ষেপ নিবে তার বিরুদ্ধে দৃঢ় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আপনাদের সবাইকে সিসিটিভি থেকে দেখে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।”- রাইদো সানার্কো, মেডানের পুলিশ প্রধান লাউড স্পিকারের মাধ্যমে বলেছিলেন।

”পুলিশের টিয়ার গ্যাস ব্যবহার এবং সহিংসতা যেমন বিক্ষোভকারীদের মারধর এবং লাথি মারা এ সকল ঘটনাগুলো খুব উদ্বেগজনক এবং হতাশাজনক। পুলিশকে অতিরিক্ত বাহিনীর ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। আমাদের রেকর্ডে, পশ্চিম জাভার বান্দুঙে কমপক্ষে ১৮০ জন বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন এবং সেরং, বান্টেনের ২৪ জন শিক্ষার্থী অজ্ঞান হওয়ার পাশাপাশি আহতও হয়েছিলেন। এসব ঘটনা ন্যায়সঙ্গত নয়।”- অ্যামনেস্টির হামিদ আল জাজিরাকে বলেছিলেন।

ইন্দোনেশিয়ায় রাজপথে আন্দোলনের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। যেগুলো প্রায়শই সহিংসতায় পরিণত হয়েছিল। এর কারণ হিসেবে, সরকারী নীতিগুলি সম্পর্কে সমালোচনা করার খুব কম সংখ্যক উপায় রয়েছে বলে ধারণা করা যায়।

”রাজনৈতিক দলগুলির তৃণমূলে শক্তিশালী নির্বাচনী এলাকা না থাকা, কোনও স্থিতিশীল উপায়ে অভিযোগ জানানোর ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগের স্বল্পতা এই সকল অবস্থার প্রেক্ষিতে শ্রমজীবী ​​ইন্দোনেশীয়দের জন্য রাস্তাঘাটে বিক্ষোভ, সমাবেশ এবং দাঙ্গা দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক যোগাযোগ ও প্রতিবাদের মূল উপায় হয়ে আসছে।”- মারডোক বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি ও সুরক্ষা অধ্যয়নের সিনিয়র প্রভাষক ইয়ান উইলসন আল জাজিরাকে জানিয়েছেন।

বিক্ষোভকারীদের মধ্যে যে ক্ষোভ অনুভূত হয়েছে, তা ইন্দোনেশিয়ার বর্তমান অনিশ্চিত অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সাথে জড়িত, কারণ সর্বজনীন আইনটি বিদেশী বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল। মেদানে, একিউকুলেশন অফ দা এঙ্গার অফ দা পিপলস ওয়ার্কার্স (একেবিএআর) ট্রেড ইউনিয়ন শহরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করেছে। এর প্রতিনিধি মার্টিন লুইস জনতাকে বলছেন যে, ”সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে বিদেশীদের সাথে আমাদের সম্পদ লুট করার ষড়যন্ত্র করছে।”

করোনভাইরাস মহামারী, পরিস্থিতিকে আরো বেগতিক করে তুলেছে।

”সর্বজনীন আইনের প্রতিক্রিয়ায় দেশব্যাপী বিক্ষোভের পরিধি, মাত্রা এবং বর্বরতা ইন্দোনেশিয়ান সমাজের বিস্তৃত অংশগুলির মধ্যে উদ্বেগ ও ক্রোধের প্রতিচ্ছবি প্রতিফলিত করে। মহামারী সংঘটিত হওয়ার ফলস্বরূপ দেশজুড়ে বহু লোক ইতিমধ্যে উল্লেখযোগ্য আর্থিক কষ্ট এবং অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হচ্ছে “।- বলেন উইলসন।

এ আইনটির প্রকৃত সম্ভাবনার পাশাপাশি এবং শ্রমিকদের কষ্টার্জিত পরিস্থিতি এবং সুরক্ষাগুলিকে হ্রাস করার বাস্তব সম্ভাবনা নিয়ে ক্ষোভকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

শান্তির ডাক

আইনজীবিরা বেশ কয়েকদিন নাগরিক অস্থিরতার পরে পরিস্থিতি শান্ত করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

আল-জাজিরাকে মেদানভিত্তিক মানবাধিকার আইনজীবী রেন্টো সিবারানী জানিয়েছেন, নতুন সর্বজনীন আইনকে চ্যালেঞ্জ করতে হলে উপযুক্ত আইনী চ্যানেলের মাধ্যমে তা করতে হবে। প্রতিবাদকারীদের আইনের ভুল দিকে গমন থেকে নিজেকে এড়ানো উচিত।

তিনি বলেন, ”প্রতিবাদ করা একটি গণতন্ত্রাতিক অধিকার। ইন্দোনেশিয়া একটি গণতন্ত্রাতিক দেশ। সুতরাং এটি কোনও অপরাধ নয়। কিন্তু পুলিশকে আক্রমণ করা এবং সম্পত্তি ধ্বংস করা স্পষ্টতই একটি অপরাধ।”

তিনি আরও যোগ করেছেন যে, শিশু এবং কিশোর-কিশোরীদের প্রতিবাদে অংশ নেওয়া উচিত নয়, বিশেষত যদি তারা পুলিশকে আক্রমণে অংশ নিয়ে থাকে। মেদানের রাস্তায়, প্রতিবাদকারীদের মধ্যে অধিকাংশই তরুণ-কিশোর উপস্থিত হয়েছিল। যাদের বেশিরভাগকেই কর্তৃপক্ষ আটক করেছিল।

”আমাদের কাছে সাংবিধানিক আদালতে বিচারিক পর্যালোচনার আবেদন করার উপায় রয়েছে। এমন আইনী নজির রয়েছে যে যদি লোকেরা এটিকে নিপীড়নমূলক মনে করে তবে সর্বজনীন আইনকে চ্যালেঞ্জ করার সেরা সুযোগ রয়েছে।”-বলেন সিবারানী।

শুক্রবার আরও সমাবেশ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে তিন দিনের বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের পরে ইন্দোনেশিয়ান সরকারের মধ্যেও পরিবর্তনের লক্ষণ দেখা গেছে।

রিদওয়ান কামিল (পশ্চিম জাভা), সুলতান হামেংকুবুউনো এক্স (যোগকার্তা) এবং সুতারমিদজি (পশ্চিম কালিমন্থান) সহ একাধিক আঞ্চলিক গভর্নর এই বিলটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সুতারমিদজি তার ফেসবুক পেজে ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রপতি জোকো উইদোডোকে আরও অস্থিরতা তৈরি হওয়ার পূর্বেই আইনটি প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।

”একটি ভাল আইন ন্যায়বিচারের সংজ্ঞা অনুসারে হওয়া উচিত। যা সমাজে বেড়ে ওঠে এবং প্রস্ফুটিত হয়।”-তিনি বলেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

three × 3 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য