আসুন, আজ কুরআনুল কারীমের একটি আয়াত শিখি।

0
357

তাফসীর সূরা “আল ফালাক”
আয়াত নং ০৪(وَ مِنْ شَرِّ النَّفّٰثٰتِ فِی الْعُقَدِ)”আর গিরায় ফুঁৎকারদানকারীদের (বা কারিনীদের) অনিষ্টকারিতা থেকে”।

   ‘উকাদ’ (عُقَدِ) শব্দটি “উকদাতুন” (عقدة) শব্দের বহুবচন। এর মানে হচ্ছে গিরা। যেমন সূতা বা রশিতে যে গিরা দেয়া হয়। 
নাফস (نفث) মানে ফুঁক দেয়া। নাফফাসাত (نَفَّاثَاتِ) হচ্ছে নাফফাসাহ (نفاثه) এর বহুবচন। অর্থ হবে খুব বেশী ফুঁকদানকারী। আর স্ত্রীলিংগে এর অর্থ করলে দাঁড়ায় খুব বেশী ফুঁকদানকারিনীরা অথবা ফুঁকদানকারী ব্যক্তিবর্গ বা দলেরা। 
অধিকাংশ মুফাসসিরের মতে গিরায় ফুঁক দেয়া শব্দটি যাদুর জন্য রূপক অর্থে ব্যবহার করা হয়। কারণ যাদুকর সাধারণত কোন সূতায় বা ডোরে গিরা দিতে এবং তাতে ফুঁক দিতে থাকে। কাজেই আয়াতের অর্থ হচ্ছে, আমি পুরুষ যাদুকর বা মহিলা যাদুকরদের অনিষ্ট থেকে বাঁচার জন্য প্রভাতের রবের আশ্রয় চাচ্ছি। 
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর যখন যাদু করা হয়েছিল, তখন জিব্রীল আলাইহিস সালাম এসে তাঁকে সূরা আল ফালাক ও আন নাস পড়তে বলেছিলেন। 
যাদু বিদ্যা কুফরি বিদ্যা। এর মাধ্যমে অন্য লোকের ওপর খারাপ প্রভাব ফেলার জন্য শয়তান, প্রেতাত্মা বা নক্ষত্রসমূহের সাহায্য চাওয়া হয়। এজন্য কুরআনে একে কুফরী বলা হয়েছে। 
وَمَا كَفَرَ سُلَيْمَانُ وَلَكِنَّ الشَّيَاطِينَ كَفَرُوا يُعَلِّمُونَ النَّاسَ السِّحْرَ “
“সুলাইমান কুফরী করেনি। বরং শয়তানরা কুফরী করেছিল। তারা লোকদেরকে যাদু শেখাতো।” ( আল বাকারা, ১০২ ) 
 রাসূল (সঃ) সাতটি কবীরা গোনাহ হতে বেঁচে থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন। যা মানুষের আখেরাত বরবাদ করে দেয়। এ প্রসঙ্গে বুখারী ও মুসলিমে হযরত আবু হুরাইরা (রা.) বর্ণিত হাদীসে বলা হয়েছে-

((اجتنبوا السبْعَ الموبقات))، قالوا: يارسول الله، وما هن؟ قال: ((الشِّرك بالله، والسِّحر، وقتل النفس التي حرَّم الله إلا بالحق، وأكْلُالربا، وأكل مال اليتيم، والتولِّي يوم الزَّحْف، وقذْف المحْصَناتالمؤمنات الغافلات))
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:- ” সাতটি ধ্বংসকর জিনিস থেকে দূরে থাকো। লোকেরা জিজ্ঞেস করলো, হে আল্লাহর রসূল! সেগুলো কি? বললেন, আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করা, যাদু, আল্লাহ‌ যে প্রাণ নাশ হারাম করেছেন ন্যায়সঙ্গত কারণ ছাড়া সেই প্রাণ নাশ করা, সুদ খাওয়া, এতিমের সম্পত্তি গ্রাস করা, জিহাদে দুশমনের মোকাবিলায় পালিয়ে যাওয়া এবং সরল সতীসাধ্বী মু’মিন মেয়েদের বিরুদ্ধে ব্যভিচারের দোষারোপ করা। বুখারী ও মুসলিম।
শিক্ষা ও প্রায়োগিক ক্ষেত্র:
যাদুবিদ্যা একটি কুফরি বিদ্যা, তাই  বিদ্যা শিক্ষা করা বা এই বিদ্যার মাধ্যমে চিকিৎসা করা দুটোই কুফরি। এর মাধ্যমে গাইরুল্লাহর নিকট সাহায্য চাওয়া হয়। শয়তানের নিকটবর্তী হয়। ক্ষতি ব্যতীত এই বিদ্যার কোন উপকারিতা নেই। কাজেই যারা দড়ি বা সুতায় গিট্টু দেওয়ার মাধ্যমে যাদু বিদ্যায় জড়িত অথবা চিকিৎসায় জড়িত সবাই কুফরির মধ্যে লিপ্ত। আমাদেরকে এ সমস্ত কুফুরি কাজ থেকে বেঁচে থাকতে হবে সে জন্য আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

thirteen − eight =