আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহারে হতদরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য প্রতি মাসে নগদ ৫ হাজার টাকা সহায়তাসহ ১২টি বিশেষ কর্মসূচিসহ ৩০ দফা ঘোষণা করেছে ইসলামী আন্দোলন ।
গতকাল বিকালে রাজধানীর পুরানা পল্টনের আইএবি মিলনায়তনে দলটির নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন ইসলামী আন্দোলন আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম।
দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য আধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, মাওলানা ফজলে বারী মাসুদ, মাওলানা আহমদ আবদুল কাউয়ুম, মাওলানা লোকমান হোসেন জাফরী, শেখ ফজলুল করীম মারুফ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ইশতেহারে ঘোষিত ১২টি বিশেষ কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- প্রাথমিক স্তরের সব শিক্ষার্থীর জন্য প্রতিদিন এক বেলা করে পুষ্টিকর খাবার; ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী যুবকদের জন্য সুদমুক্ত ও জামানতবিহীন এককালীন ঋণের ব্যবস্থা করা; সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্মসূচি বা স্বাস্থ্যকার্ড; ভর্তুকি মূল্যে কৃষি উপকরণ দেয়া ও বিভিন্ন সেবা সহজে পৌঁছাতে কৃষিকার্ড চালু করা; ন্যাশনাল জব পোর্টাল (যেখানে সব পেশার চাকরিপ্রার্থীদের জন্য দেশে ও বিদেশে চাকরি খোঁজা, পরামর্শ প্রদান ও প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুবিধা থাকবে); কর্মজীবী মায়েদের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক দিবাযত্ন কেন্দ্র গড়ে তোলা এবং ঢাকাসহ সব নগরে সরকার নিয়ন্ত্রিত ও ফ্র্যাঞ্চাইজ ভিত্তিক বাস ব্যবস্থাপনা।
এছাড়া বিশেষ কর্মসূচিতে রাখা হয়েছে- সেবাকেন্দ্রিক কর ব্যবস্থা; সবার জন্য নির্বিঘ্ন নাগরিক সেবা; নারী পোশাক কর্মীদের জন্য আবাসন ব্যবস্থা; দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে অবৈধ সিন্ডিকেট ভেঙে দেয়া এবং কওমি সনদের স্বীকৃতির পূর্ণ বাস্তবায়ন ও রাষ্ট্রীয় পদে ওলামায়ে ক্বেরামের পদায়ন।
ইশতেহার ঘোষণায় চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা পুরোমাত্রায় বাস্তবায়ন করা হবে। ইসলামী আন্দোলন সংস্কারে যেসব বিষয় উত্থাপন করেছিল, যেমন পিআর পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করা। সেগুলোও রাষ্ট্রের স্বার্থে প্রয়োজনীয় ধারাক্রম অনুসরণ করে বাস্তবায়ন করা হবে। বিশ্বের বহু দেশের অনুসৃত বাস্তবতা, বাংলাদেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক অস্থিরতা দূর করতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনে করে পিআর পদ্ধতি একটি কার্যকর সমাধান। সেজন্য আমরা ক্ষমতায় গেলে পিআর পদ্ধতি প্রবর্তন করব।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিগত ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদ দেশের বিদ্যমান সংবিধান মেনেই ফ্যাসিবাদী হয়ে উঠেছিল। আমাদের সংবিধানে এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সেই সুযোগ করে দেয়া আছে। রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট করে একক ব্যক্তিকে অতিমাত্রায় ক্ষমতায়িত করা আছে। আমরা ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করব। বাংলাদেশ উপনিবেশ থেকে দুই-দুইবার স্বাধীনতা অর্জন করেছে। কিন্তু তিক্ত বাস্তবতা হলো, আমাদের জনপ্রশাসন এখনো ব্রিটিশ আইন, আচার-প্রথা ও রীতি-নীতিতে পরিচালিত হয়। ফলে জনপ্রশাসনে কর্তব্যরতরা নিজেদের জনতার সেবক না ভেবে প্রভু ভাবেন। আমরা এর আমূল পরিবর্তন আনব।
ইসলামী আন্দোলনের আমীর আরও বলেন, আমরা একটি স্বাধীন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় স্বাধীনতা টিকিয়ে রাখা দুষ্কর। মতাদর্শগত ভিন্নতার কারণে অন্য দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করার ঘটনা খুবই সাধারণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। সেজন্য আমরা স্বনির্ভর ও শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলব। আকাশ, নৌ ও স্থল বাহিনীর সক্ষমতা বিশ্বমানের করে তুলবো।
