Thursday, April 30, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরইসলামী ফিকাহর পরিধি ও প্রয়োগ

ইসলামী ফিকাহর পরিধি ও প্রয়োগ

ইসলামী ফিকাহ মানবজীবনের তিনটি ক্ষেত্র শামিল করে। তা হলো, আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সম্পর্ক, ব্যক্তির নিজের সঙ্গে নিজের সম্পর্ক এবং সমাজের সঙ্গে তার সম্পর্ক। কেননা ইসলামী ফিকাহ দুনিয়া ও আখিরাতের, দ্বিন ও রাষ্ট্রের, গোটা মানব জাতির এবং কিয়ামত পর্যন্ত স্থায়ী। অতএব, এর সব বিধান আকিদা, ইবাদত, আখলাক ও লেনদেন ইত্যাদি সব কিছু পরিবেষ্টন করে রাখে। যাতে মানুষ তার অন্তরকে জাগ্রত করতে পারে, নিজের কর্তব্যের অনুভূতিকে সজাগ করতে পারে এবং প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে আল্লাহর তত্ত্বাবধান অনুধাবন করতে পারে। সন্তুষ্ট ও প্রশান্তচিত্তে অন্যের অধিকারকে সম্মান করতে পারে। ঈমান, সৌভাগ্য, স্থিতিশীলতা, ব্যক্তিগত ও সাধারণ জীবন সুগঠিত করতে পারে এবং গোটা পৃথিবীকে সুখী ও সমৃদ্ধ করতে পারে।

এসব লক্ষ্য-উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে ইসলামের ব্যবহারিক বিধি-বিধান (ফিকাহ) অর্থাৎ মানুষের কথা, কাজ, চুক্তি ও লেনদেনের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিধি-বিধানকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে—

প্রথমত, ইবাদত সম্পর্কিত বিধি-বিধান। যেমন—পবিত্রতা, সালাত, সিয়াম, হজ, জাকাত, মানত ইত্যাদি, যা আল্লাহর সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক সুসংগঠিত করে।

দ্বিতীয়ত, লেনদেন সম্পর্কিত বিধি-বিধান। যেমন—বেচাকেনা, লেনদেন, শাস্তি, অপরাধ, জমানত ইত্যাদি, যা মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক সুদৃঢ় করে, চাই তারা ব্যক্তি হোক বা সমষ্টি। এ ধরনের বিধি-বিধান নিম্নোক্ত কয়েক প্রকারে বিভক্ত—

ক. ব্যক্তিগত ও পারিবারিক আইন : সেগুলো হচ্ছে পারিবারিক আইন। মানুষের পারিবারিক জীবনের শুরু থেকে শেষ বিদায় পর্যন্ত যা কিছু দরকার যেমন—বিয়ে-শাদি, তালাক, বংশ, ভরণ-পোষণ, মিরাস ইত্যাদি। এই আইনের উদ্দেশ্য হলো দাম্পত্য জীবন ও আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সম্পর্ক গঠন।

খ. নাগরিক আইন : এই আইন মানুষের একজনের সঙ্গে অন্যের লেনদেন ও আদান-প্রদানের সঙ্গে সম্পর্কিত। যেমন—বেচাকেনা, ধার, বন্ধক, জামিন, অংশীদারিত্ব, ঋণ প্রদান ও গ্রহণ, অঙ্গীকার পূরণ ইত্যাদি। এই আইনের লক্ষ্য হচ্ছে মানুষের অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন ও অধিকার সংরক্ষণ।

গ. ফৌজদারি আইন : মানুষের অপরাধ এবং এর সাজা সম্পর্কিত আইন। এই আইনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষের জীবন, সম্পদ, সম্মান ও অধিকার সংরক্ষণ করা। এ ছাড়া অপরাধীকে অপরাধের শাস্তির ভীতি প্রদর্শন এবং এর দ্বারা সমস্ত মানুষকে অপরাধের শাস্তির পরিণতির ভীতি দেখানো, সমাজে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখা এই আইনের অন্যতম লক্ষ্য।

ঘ. নাগরিকের কাজকর্ম ও অপরাধ উপস্থাপন সম্পর্কিত আইন : এটি বিচার ও আইন, বাদী বা বিবাদীর দাবি, সাক্ষ্য-প্রমাণ, শপথ ও আলামত ইত্যাদির মাধ্যমে তা প্রমাণ সম্পর্কিত আইন-কানুন। এই আইনের লক্ষ্য হচ্ছে মানুষের মধ্যে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা।

ঙ. সাংবিধানিক আইন : রাষ্ট্র পরিচালনা ও এর নিয়মনীতি সম্পর্কিত আইন। এ আইনের লক্ষ্য হচ্ছে শাসকের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক, জনগণের অধিকার ও কর্তব্য এবং শাসকের দায়িত্ব ও কর্তব্য নির্ধারণ করা।

চ. আন্তর্জাতিক আইন : স্থিতিশীল ও যুদ্ধাবস্থায় ইসলামী রাষ্ট্রের সঙ্গে অন্য রাষ্ট্রের কী ধরনের সম্পর্ক হবে, মুসলিম রাষ্ট্রে বসবাসরত অমুসলিমের সঙ্গে সম্পর্ক, জিহাদ, সন্ধিচুক্তি ইত্যাদি সম্পর্ক সুবিন্যাস করা। এ আইনের লক্ষ্য হলো রাষ্ট্রসমূহের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ক, সহযোগিতা ও সম্মানবোধ নির্ধারণ করা।

ছ. অর্থনীতি ও সম্পদ সম্পর্কিত আইন : এই আইনে মানুষের অর্থনৈতিক লেনদেন ও অধিকার, রাষ্ট্রের অধিকার ও এর সম্পদ নিয়ে করণীয়, রাষ্ট্রীয় কোষাগার ও এর বণ্টননীতি ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করা হয়। এই আইনের উদ্দেশ্য হলো ধনী, গরিব, রাষ্ট্র ও এর জনগণের মধ্যকার অর্থনৈতিক সম্পর্ক সুসংগঠিত করা।

এই আইন রাষ্ট্রের সাধারণ ও বিশেষ সব ধরনের সম্পদ শামিল করে। যেমন—গনিমত, পণ্যকর, (যেমন কাস্টমস), খাজনা (ভূমির ট্যাক্স), কঠিন ও তরল খনিজ, প্রাকৃতিক সম্পদ। এ ছাড়া এতে আছে সমাজের সমষ্টিগত সম্পদ। যেমন—জাকাত, সদকা, মানত, ঋণ। আরো শামিল করে পারিবারিক সম্পদ। যেমন—পরিবারের ভরণ-পোষণ, উত্তরাধিকারী সম্পদ, অসিয়ত। এ ছাড়া একত্র করে ব্যক্তিগত সম্পদ। যেমন—ব্যবসায়ের লাভ, ভাড়া, অংশীদারি কারবার, সব ধরনের প্রকল্প ও উৎপাদনের ব্যয়। পাশাপাশি অর্থনৈতিক দণ্ড (জরিমানার অর্থ), যেমন—কাফফারা, দিয়ত ও ফিদিয়া ইত্যাদি।

জ. শিষ্টাচার ও রীতিনীতি : এই আইন মানুষের খামখেয়ালিপনা সীমিত করে, ভালো গুণাবলি বিকশিত করে, মানুষের মধ্যে পরস্পর সহযোগিতা ও দয়ার্দ্রতা ইত্যাদিকে উৎসাহিত করে।

ফিকাহ শাস্ত্র এত প্রশস্ত ও বিস্তৃত হওয়ার কারণ হলো, রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহের প্রতিটি অধ্যায় সম্পর্কে অসংখ্য হাদিস বর্ণিত হয়েছে। আর ইসলামী ফিকাহ মূলত হাদিসের নির্যাস।

ড. সালিহ ইবন গানিম আস-সাদলান   

     ভাষান্তর : সাখাওয়াত উল্লাহ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

three − 2 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য