Tuesday, April 21, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeনিবন্ধওসলো অ্যাকর্ড

ওসলো অ্যাকর্ড

ওসলো অ্যাকর্ড নামে প্যালেস্টাইন ও ইসরায়েলের মধ্যে স্বাক্ষরিত শান্তি চুক্তির কথা মনে আছে?

ওসলো অ্যাকর্ড বলা হলেও, স্বাক্ষরিত হয়েছিল ওয়াশিংটনে (আোলচনা হয়ে ঐকমত্য হয়েছিল ওসলো তে)। ওসলো শান্তি চুক্তির ভিত্তি ছিল জাতিসংঘ সিকিউরিটি কাউন্সিলের রেজুল্যিউশন ২৪২ ও ৩৩৮। রেজুল্যিউশন ২৪২ হচ্ছে ‘৬৭ যুদ্ধে অধিকৃত ভূমি ছেড়ে দেয়ার জন্যে ইসরায়েলের প্রতি জাতিসংঘের আহবান।

‘৯৩ সালের ঐ চুক্তিতে প্যালেস্টাইন স্টেট প্রতিষ্ঠা মেনে নিয়ে, গাজা পুরোটা ও ওয়েস্ট ব্যাংকের পাঁচটি শহর থেকে ইসরায়েল ইহুদী বসতি সরিয়ে নেয়। বসতি সরানোর মতো সংবেদনশীল কাজটি করার পর, ইসরায়েল অধিকৃত ভূমি থেকে সরে যেতে শুরু করে।

শান্তি চুক্তিতে প্যালেস্টাইনকে ইসরায়েলের অস্তিত্ব স্বীকার করে নিতে হয়, এবং ইসরায়েলিদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ত্যাগ করার অঙ্গীকার করতে হয়। ইয়াসির আরাফেত অফিশিয়ালি চিঠি দিয়ে সহিংসতা অবসানের কথা ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দফতরে জানান। একই দিনে (৯ সেপ্টেম্বর) ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকেও পিএলও কে স্বীকৃতির চিঠি দেয়া হয়। এর পর, ১৩ সেপ্টেম্বর ১৯৯৩ হোয়াইট হাউজে উভয় পক্ষ চুক্তি স্বাক্ষর করে।

চুক্তি স্বাক্ষর করে প্যালেস্টাইন রাষ্ট্র মেনে নেয়ার অঙ্গীকার করায়, ইহুদী বসতি সরিয়ে নেয়া শুরু করায়, অধিকৃত ভূমি ছেড়ে দিতে শুরু করায়, ইসরায়লের প্রধানমন্ত্রী আইজাক রবিনকে দেশদ্রোহীতার অভিযোগে অভিযুক্ত করতে থাকে ইসরায়েলের নাগরিকদের বড় একটি অংশ। এমনকি চুক্তি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া চলমান থাকা কালে, চুক্তি স্বাক্ষরের দুই বছরের মধ্যে উগ্রপন্থী ইহুদীরা তাকে গুলি করে হত্যা করে (নভেম্বর ১৯৯৫)।

পর্যায়ক্রমে রাষ্ট্র গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রথমেই প্যালেস্টাইন ন্যাশনাল অথরিটি (PA) গঠন করা হয়। প্যালেস্টাইন অথরিটি ইসরায়েলের কাছ থেকে গাজা ও ওয়েস্ট ব্যাঙ্কের ভূমি বুঝে নিতে শুরু করে।

ওদিকে যেমন উগ্র ইসরায়েলিরা, এদিকে প্যালেস্টাইনিদের মধ্যে উগ্রবাদী হামাস, ইসলামিক জিহাদ এর মতো সংগঠনগুলো এর বিরোধীতা করতে থাকে। হামাস এর মতো সংগঠনগুলো ইসরায়েল রাষ্ট্রের অস্তিত্ব মেনে নিতে রাজী নয় জানিয়ে এভাবে প্যালেস্টাইন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিরোধীতা করতে থাকে।

দুঃখের বিষয়, এডওয়ার্ড সাইদের মতো একাডেমিশিয়ানও এই চুক্তির সমালোচনা করে এটাকে “প্যালেস্টাইনিয়ান ভার্সাইল” বলেন। সাইদের কারণে এই সমালোচনা গুরুত্ব পেয়ে যায় যে, প্যালেস্টাইনের তরফে এতে ছাড় বেশী দেয়া হয়েছে।

একই কাজে বিভিন্ন ফ্রন্ট বিভিন্ন রকম প্রতিক্রিয়া দেখানো খুবই স্বাভাবিক, অনেক ক্ষেত্রে এটা পরস্পরের কাজের পরিপুরক হিসেবেও ভূমিকা রাখে। সাইদ কী উদ্দেশ্যে বলেছিলেন (লিখেছিলেন) তিনি জানেন, তবে তার এই সমালোচনা একাডেমিয়ার অনেককে হামাসের মতো টেরোরিস্টদের কাতারে নামিয়েছে।

চুক্তির দিক নির্দেশনা অনুযায়ী ইসরায়েলের তরফে ধাপে ধাপে ভূমি হস্তান্তর ও প্যালেস্টাইন সরকার গঠনের পর্যায়গুলো সম্পন্ন করার প্রতিটি পর্যায়ে হামাস ইসরায়েলের ভিতরে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। হামাস এতো এতো আত্মঘাতী বোমা হামলা করে যে, ইসরায়েলে এই শান্তি চুক্তির পক্ষে নাগরিকদের অবস্থান দূর্বল হয়ে যায়।

চুক্তি স্বাক্ষরকারী প্রধানমন্ত্রী গুলিতে নিহত হলে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিমন পেরেজ প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ পেয়ে এই চুক্তি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু হামাসের আত্মঘাতী হামলার মাত্রা এমন ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছায় যে, শিমন পেরেজ সরকার নির্বাচনে হেরে যায়। এবং, হ্যাঁ, হামাসের টেরোরিজমের উপহার পেয়ে ইসরায়েলের রাজনীতিতে উত্থান ঘটে উগ্রবাদী নেতানিয়াহুর।

হ্যাঁ, নেতানিয়াহুর রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠা হামাসের অবদান।

নেতানিয়াহুর মতো উগ্র একজনকে ক্ষমতার মসনদে বসানোর মতো সন্ত্রাস করে হামাস থামে নাই, শান্তিচুক্তিকে শেষ পর্যন্ত পরিত্যাক্ত করিয়ে ছেড়েছে।

এডওয়ার্ড সাইদ বিরোধীতা করেছিলেন এই বলে যে, চুক্তিতে প্যালেস্টাইনের তরফে বেশী ছাড় দেয়া হয়ে গেছে। হামাসের মতো টেরোরিস্টদের আপত্তির অজুহাত ছিল, তারা ইসরায়েলের অস্তিত্ব স্বীকার করবে না।

এখন স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘের ভোটাভোটিতে ইসরায়েলের জন্ম হয় যখন, তখন যেটুকু ভূমি নিয়ে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তা মেনে নিয়ে, বাকীটুকু ভূমিতে প্যালেস্টাইনিরা রাষ্ট্র গঠন করে ফেললে তো ১৯৪৮, ১৯৫৬, ১৯৬৭, ১৯৭৩ এর যুদ্ধ করা লাগতো না, এতো সম্পদ ও প্রানহানি হয় না।

যে কোনো চুক্তিকেই সমালোচনা করা সম্ভব; কোন চুক্তিই পারফেক্ট হয় না। কিন্তু, ভেবে দেখুন, তিরিশ বছর আগে প্যালেস্টাইন স্টেট প্রতিষ্ঠা করে ফেললে, ফিলিস্তিনিরা আজ কতোটা স্বস্তিতে থাকতেন, কতটা সমৃদ্ধির পথে এগুতেন! কতোটুকু ছাড় দিয়ে ঐ চুক্তি হয়েছিল, আজ কেউ সেসব নিয়ে মাথাই ঘামাতেন না। গাজায়, পশ্চিম তীরে আজ ফিলিস্তিনিদের যে অসহায় অবস্থা, তার মুখোমুখি হতে হয় না! হায়!

মহাত্মা ছফা স্মরণে আসেন – “বুদ্ধিজীবীরা যা বলতেন, শুনলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না।”

সাইদ বুদ্ধিজীবি, তাঁর অরিয়েন্টালিজমের মাস্টারি প্রণম্য বটে; কিন্তু উনি তো রাষ্ট্রনায়ক নন, উনি প্যালেস্টাইন রাষ্ট প্রতিষ্ঠায় ইয়াসির আরাফাতের পথটিকে সমস্যাসঙ্কুল করা ছাড়া আর কিছু করতে পারেন নাই।

কিন্তু, হামাস শিয়া ইরানের পারপাজ সার্ভ করতে, নিজ জাতির সাথে গাদ্দারি করেছে। মনে রাখতে হবে, হামাসের জন্ম গাদ্দারহুডের বীজে! গাদ্দারহুড নিজ দেশেতো বটেই, আরবে, আফ্রিকায়, যেখানে সুযোগ পেয়েছে, সেখানেই গাদ্দারি করে যাচ্ছে।

হামাস ‘৯৩ সালের অসলো অ্যাকর্ড ভন্ডুল করেছে। হামাস আরব-ইসরায়েল নরমালাইজেশন পন্ড করেছে বলে, সাত অক্টোবরের টেরোরিস্ট হামলার পর প্রথম বিবৃতিতে কৃতিত্ব দাবী করেছে।

গাজায় ইসরায়েল যে মানবতা বিরোধী অপরাধ করছে, তার দায় হামাসেরও। এবং, যারা হামাসকে সমর্থন করছে, তাদেরও। দুঃখের বিষয়, এই দায়ীদের মধ্যে অনেকেই আমার ফেইসবুক ফ্রেন্ডলিস্টেও আছেন। তাদের অনেককে “সম্মান” করতাম!

I must be cruel to be kind,

ফিলিস্তিনিদের সংগ্রামের ইতিহাস না জেনে হামাসের পাছায় চুমা খায় অজ্ঞ স্টূপিডরা। ফিলিস্তিন রাষ্ট্র সংগ্রামের ইতিহাস জানলে, কেউ হামাসকে সাপোর্ট করতে পারে না। পিরিয়ড!!

যারা অক্টোবরের সাত তারিখে হামাসকে চিনেছে, তারা পরনের লুঙ্গি খুলে মাথায় বেঁধে কোপা শামসু বলে নেচেছে। কিন্তু এর পরে ইসরায়েল যা শুরু করেছে, এবং এসবেও যাদের হামাস-মোহ ভঙ্গ হয় নাই, এগুলো স্রেফ গর্দভ মাত্র।

“ইতিহাস” বলতে অনেক দূরের ব্যাপার মনে হয়, একারণে ইতিহাস বলছি না, ফিলিস্তিনের “ঘটনাবলী” বলি, ঘেঁটে দেখে তো কথা বলা উচিত। ‘৯৩ সালের অসলো শান্তি চুক্তি তো প্যালেস্টাইন স্টেট প্রতিষ্ঠার পথে অনেক বড় লীপ (উল্লম্ফন) ছিল। প্যালেস্টাইন স্টেট প্রতিষ্ঠায় আরব পীস ইনিশিয়েটিভের ধারাবাহিকতায় “নরমালাইজেশন” অনেক বড় সুযোগ ছিল।

প্যালেস্টাইন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় বিঘ্ন সৃষ্টিকারী সবাইকে আমি অভিশাপ দিই। আর এমনিতেও, অজ্ঞতা ইটসেলফ হলো অভিশাপ!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

5 × two =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য