Tuesday, April 28, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরকমোরোসে যেভাবে ইসলামের বিস্তার ঘটে

কমোরোসে যেভাবে ইসলামের বিস্তার ঘটে

কমোরোস ভারত মহাসাগরের একটি আফ্রিকান দ্বীপরাষ্ট্র। দাপ্তরিক নাম ‘দ্য ইউনিয়ন অব দ্য কমোরোস’। দেশটির জলসীমা মিলেছে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে মাদাগাস্কার ও মায়ত্তির সঙ্গে, উত্তর-পশ্চিমে তানজানিয়ার সঙ্গে, পশ্চিমে মোজাম্বিকের সঙ্গে, উত্তর-পূর্ব দিকে সিসিলিসের সঙ্গে। মোরোনি দেশটির সর্ববৃহৎ শহর ও রাজধানী। দেশটির বেশির ভাগ মানুষ মুসলিম এবং ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম। কমোরিয়ান, ফ্রেন্স ও আরবি দাপ্তরিক ভাষা। কমোরোস জাতিসংঘ, আরব লীগ, আফ্রিকান ইউনিয়ন, ওআইসি ও ইন্ডিয়ান ওশান কমিশনসহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংগঠন ও সংস্থার সদস্য। ৬ জুলাই ১৯৭৫ ফ্রান্সের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করে।

কমোরোসের মোট আয়তন এক হাজার ৮৬১ বর্গকিলোমিটার। ২০১৯ সালের জরিপ অনুসারে জনসংখ্যা আট লাখ ৫০ হাজার ৮৮৬। তাদের ৯৮ শতাংশই মুসলিম। কমোরোস আফ্রিকার ক্ষুদ্র দেশগুলোর ভেতর চতুর্থতম। গণভোটে ফ্রান্সের সঙ্গে থাকা মায়ত্তি দ্বীপকে কমোরোস নিজ ভূখণ্ড মনে করে। কেননা গণভোটের আগে মায়ত্তি কমোরোসের অধীন ছিল। বিতর্কিত মায়ত্তি ছাড়াও কমোরোসের প্রধান দ্বীপের সংখ্যা তিনটি। কমোরোসে ঠিক কখন জনবসতি গড়ে উঠেছিল তা জানা যায় না। তবে ধারণা করা হয়, উত্তর আফ্রিকার ‘বান্তু’ভাষীরা কমোরোসে প্রথম বসতি স্থাপন করে। তাদের পর সেখানে আরব ও অস্ট্রেয়েশিয়ান জাতিভুক্ত মানুষের আগমন ঘটে।

স্থানীয় কিংবদন্তি অনুসারে মহানবী (সা.)-এর জীবদ্দশায় কমোরোসের কোনো কোনো অঞ্চলে ইসলাম পৌঁছে ছিল। কেননা এই অঞ্চলের মহান দুই ব্যক্তি ফি বিদজা মুওয়াম্বা ও মিতসওয়া মুওয়ান্ডজি সে সময় মক্কা সফর করেন। তবে এ বিষয়ে কোনো ঐতিহাসিক প্রমাণ পাওয়া যায় না। ঐতিহাসিক তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, আরব ব্যবসায়ী ও পারস্যের সিরাজ অঞ্চলের নির্বাসিত রাজপুত্ররাই এই অঞ্চলে ইসলাম প্রচারে মুখ্য ভূমিকা রাখে। দীর্ঘকাল ধরে ইসলাম কমোরোসের সমাজ ও রাজনীতিতে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে আসছে। ফলে শাসক পরিবারের সদস্যরা আরবি শিখত এবং হজ আদায় করত। অন্যান্য মুসলিম অঞ্চল ও সম্প্রদায়ের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখত। এখনো কমোরোসের রাজনীতিতে ইসলাম গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর। সাধিলি, কাদেরিয়া, রিফায়িসহ একাধিক সুফি তরিকার প্রচলন আছে দেশটিতে। খ্রিস্টীয় ১৬ শতকে হাসসান বিন ঈসা—যিনি নিজেকে নবীজি (সা.)-এর বংশধর হিসেবে দাবি করতেন তিনি কমোরোসে ইসলাম প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং কয়েকটি ঐতিহাসিক মসজিদ নির্মাণ করেন। এ ছাড়া ১৯ শতকে শেখ আবদুল্লাহ দরবেশ, যিনি সাধিলিয়া তরিকার পীর ছিলেন তিনিও ইসলাম প্রসারে ভূমিকা রাখেন।

বর্তমানে কয়েক শ মসজিদ, মাদরাসা ও ইসলামী স্কুল আছে। কমোরোসের সব শিশু শিক্ষাজীবনের প্রথম দুই-তিন বছর কোরআনিক স্কুল (মক্তবে) পড়ে। সেখানে তারা প্রধানত আরবি ভাষা ও ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলো শেখে। কমোরোসের শিশুরা সাধারণত পাঁচ বছর বয়সে লেখাপড়া শুরু করে। ১৯৯৮ সালে শারজার আমিরের অর্থায়নে দেশটির সর্ববৃহৎ মসজিদ নির্মিত হয়।

প্রায় ৫০ বছর আগে স্বাধীন হলেও কমোরোস অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভর হতে পারেনি। কৃষি ও মাছ ধরাই দেশটির প্রধান চালিকাশক্তি। ফ্রান্সসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশ, সৌদি আরব, জাপান ও কুয়েত দেশটিকে নিয়মিত আর্থিক সহায়তা করে থাকে।

তথ্যসূত্র : এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা, আলজাজিরা ও উইকিপিডিয়া

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

eleven + 4 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য