ইস|রায়েল যদি মধ্যপ্রাচ্যের ক্যান্সার হয়, ইরান হলো এইডস। এই দুইটা যদি একটা আরেকটার সাথে মারামারি করে একটা শেষ হয়ে যেতো, তাহলে বাকিটার বিরুদ্ধে আমরা লড়াই করতাম। কিন্তু বাস্তবে এমনটা হবে না। এই যুদ্ধ যুদ্ধ নাটক চলবে কিন্তু ফল হবে অন্যটা।
সাদ্দমের তিনশ জঙ্গি বিমান আছে, ইরাকে পরমাণু বোমা রয়েছে মিডিয়ার মাধ্যমে আপনি এ জাতীয় মুখরোচক অনেক সংবাদ পাবেন। কারণ আপনি তাদের কাস্টমার। কাস্টমার কি ধরনের সংবাদ পছন্দ করে সেটা মিডিয়া ভালো করেই জানে।
দেশ বা বিশ্ব স্থিতিশীল থাকলে, মানুষ সুখে শান্তিতে থাকলে কেউ তেমন একটা মিডিয়ামুখী হয় না৷ যখন দেশ বা বিশ্বে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় তখন মিডিয়ার টিআরপি, জিআরপি বেড়ে যায়৷ মিডিয়ার কাটতি ভালো থাকে৷
শুধুমাত্র ইরাক যুদ্ধের খবর বিক্রি করেই রয়টার্স আয় করেছে ২০ মিলিয়ন পাউন্ড৷ বাংলাদেশের মিডিয়া ঠিক কি রকম আয় করেছে তার কোন হিসেব নেই৷ তবে “প্রথম আলো” “আক্রান্ত ইরাক” নামে কখনো তিন পাতা, কখনো চার পাতার সংবাদও প্রকাশ করেছিল৷ সেই প্রথম আলোতে বর্তমানে আপনি ইরাক নিয়ে দুই লাইনের একটি লেখাও পাবেন না৷
তার মানে কি ইরাক নামক দেশটা পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে? মোটেই না, কারণ ইরাকের সংবাদ এখন তাদের কাছে বর্জ্য পদার্থ, তাই এর প্রয়োজন নেই৷ আফগানিস্তান, লিবিয়া, সিরিয়া যুদ্ধের ক্ষেত্রেও এমনটা দেখা গেছে। প্রথম কোন দেশ আক্রান্ত হলে তারা সে দেশের খবর নিয়ে পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা সংবাদ প্রকাশ করে জনগণের উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয়। এটা এক ধরনের ব্যবসায়িক কৌশল৷ সাংবাদিকতার ভাষায় ধরনের কৌশলকে বলে “সেলিং এলিমেন্ট”৷
মিডিয়ার সংবাদে উত্তেজিত না হয়ে ইরাক, ইয়েমেন, সিরিয়া, লেবানন, লিবিয়ায় মত দেশগুলোর অতীত বর্তমান নিয়ে পর্যালোচনা করলে দেখবেন সেগুলোতে এক সময় সুন্নীদের রাজত্ব ছিলো, এখন শিয়ারা রাজত্ব করছে বা করার চেষ্টা করছে। অর্থাৎ মধ্যপ্রাচ্যের গোলযোগে আমেরিকা যতটুকু ফায়দা হয়েছে তার চেয়ে বেশি ফায়দা লুট করছে বা করার চেষ্টা করছে শিয়ারা। আর শিয়াদের সর্বোচ্চ নেতা হচ্ছে আয়াতুল্লাহ খোমেনি।
বাংলাদেশ সহ বিশ্বের অনেক বড়ো বড়ো ইসলামী স্কলাররা ইরান বিপ্লবের সময় খোমেনির প্রেমে হাবুডুবু খেয়েছিলো। মাঝখানে কিছু দিন ভাটা ছিলো। ইরান-ইসরাঈল দ্বন্ধ সে প্রেমে নতুন জোয়ার নিয়ে এসেছে। অনেক আদর্শহীন মুসলমানের কাছে খোমেনি এখন আদর্শ। তার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ভবিষ্যতে যুব সমাজ খারেজীদের মতো দলে দলে শিয়া মতবাদ গ্রহণ করার সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ এক্ষেত্রেও ইরানেরই ফায়দা।
যারা বলেন, ইসলামে শিয়া-সুন্নী বিভাজন নেই, হতে পারে বিভিন্ন ক্ষেত্রে তারা জ্ঞানী, গুণী কিন্তু ইসলামের ক্ষেত্রে তাদের ইলম এখনো শূন্য, অথবা তারা জেনে বোঝে স্বার্থে আঘাত লাগার ভয়ে সত্য এড়িয়ে যায়।
আপনি যখন ক্যান্সারে আক্রান্ত হবেন, কেউ আপনার চরিত্র নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করবে না। কিন্তু আপনি যেভাবেই এইডসে আক্রান্ত হোন না কেন দোষ কিন্তু আপনার চরিত্রের উপরই পড়বে। ইয়াহুদীরা কখনোই আপনাকে ঈমানহারা করে কবরে পাঠাতে পারবে না কিন্তু শিয়ারা প্রথমে আপনার ঈমান কেড়ে নিবে তারপর কবরে পাঠাবে।
মধ্যপ্রাচ্যের সুন্নীদের দুইটার বিষয়েই সজাগ থাকতে হচ্ছে। তাদের বাচ্চারাও এসব নিয়ে সচেতন, তাই এসব নিয়ে তাদের মাঝে ততটা উত্তেজনা কাজ করে না যতটা উত্তেজনা আমাদের জ্ঞানী, গুণী, ইসলামী চিন্তাবিদদের মাঝে কাজ করে।
🖋️ প্রিয় সায়েদুর রহমান ভাই।
