আচ্ছা মনে করুন গণতান্ত্রিক সেক্যুলার কারণে না হয়ে এই সহিংসতা ইসলামের জন্য হয়েছে। একবার ভাবুন তো এই সমাজের প্রতিক্রিয়া কি হতো?
গণতন্ত্রের জন্য করলে তা কেন উগ্রবাদী জঙ্গীবাদী নয়?
আসলে গণতন্ত্র নিজেই তো মিনিমাম দুই দলে দেশের মানুষকে ভাগ করে, যারা একে অপরের খারাপ চায়। একে অপরের পরাজয় এবং ধ্বংস কামনা করে থাকে, শত্রুতা সৃষ্টি করে। গণতন্ত্র নিজেই তো এসবের কারণ। এতো সহিংসতার পরও গণতন্ত্র কেন পুত-পবিত্র? কারণটা কি?
২০১৪ সালের নিউজ: “রাজনৈতিক সহিংসতায় ছয় বছরে প্রাণ হারিয়েছেন রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, শিশু, জনপ্রতিনিধি, পুলিশ, পথচারীসহ মোট ৯০৮ জন। এঁদের মধ্যে ১৫১ জনের প্রাণ গেছে প্রধান দুই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আ.লীগ-বিএনপির সংঘর্ষে।
নব্বই-পরবর্তী গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার দুই যুগ পার হতে যাচ্ছে। এর মধ্যে প্রায় ২১ বছর রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে রাজনৈতিক সহিংসতায় খুনের সংখ্যা ২ হাজার ৮৫৫। মাঝখানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৭ ও ২০০৮ সালে দুই বছরে মারা গেছেন ১১ জন।”
আমেরিকা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য কত লাখ মানুষ হত্যা করেছে জানেন? আচ্ছা বাইরের আলাপ বাদ দেন। আমাদের দেশেই প্রতিবার নির্বাচনে কতগুলো খুন হয়? কত রক্তপাত হয়? কত জেল জুলুম হয়? নির্বাচন সিস্টেম কি কম রক্ত, ঘাম নিচ্ছে? প্রতিবার নির্বাচনের আগে পরে কি হয়? একপার্টি এসে আরেক পার্টিকে বাঁশ দিতে থাকে। রাষ্ট্রকে বিপরীতদিকে চালিত করে। মাঝখান থেকে অর্থনীতি এবং জনগণের অবস্থা খারাপ হয়।
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয়েছে কি এর পরেও? — হয়নি।
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য এতো রক্তারক্তি আপনার কিন্তু সমস্যা মনে হয় না। একবার বলেনও না যে এই সিস্টেমে বহু মানুষ প্রতিবার খুন হয়, তাই এটা খারাপ! কিন্তু শরীয়াহ প্রতিষ্ঠার জন্য শহীদ হওয়া লাগবে, তাগুতের বিরুদ্ধে লড়াই করা লাগবে এটা বললে আপনাদের খুব কষ্ট লাগে।
আর গণতন্ত্রে যেরকম প্রতি নির্বাচনে রক্তারক্তি হয় শরীয়াহ সিষ্টেমে তো তেমন না। সেখানে এরকম গণভোটের নির্বাচনই নেই। আজীবন ধরে শুরার মাধ্যমে চলতে থাকবে। অরাজগতার সিস্টেম নেই। আফগানে এখন আপনারা খেয়াল করতে পারেন। তাই একবার শরীয়াহ প্রতিষ্টা করলে পরে নিশ্চিন্তে আল্লাহর বিধান, ইনসাফ অনুযায়ী চলতে থাকবে। রাষ্ট্র নিজেও আল্লাহর আনুগত্য করবে। গণতন্ত্রের মতো প্রতি নির্বাচনে অরাজগতা হতে থাকবে না।
গণতন্ত্র ২ বছর পর পর এদেশে অরাজগতা ফিরিয়ে আনে। একবার স্থানীয় নির্বাচনে আরেকবার জাতীয় নির্বাচনে।
এছাড়াও গণতান্ত্রিক সেক্যুলার দলগুলো এবং দলের অংগ সংগঠনগুলোর দিকে তাকান। তারা কতটা উগ্রবাদী খেয়াল করেন! তারা জণগনকে ভয় দেখিয়ে, ধর্ষন করে, মেরে দমিয়ে রাখে। ভয় দেখিয়ে দল এবং দলের ব্যক্তিদের নামে চাঁদাবাজি করে একেকজন কোটিপতি হয়। পাবলিকের হক মেরে সরকারি টাকা চুরি করে ফুলে ফেঁপে বড় হয়। এগুলো কিন্তু ঐ গণতান্ত্রিক পাওয়ারের ফলেই করে থাকে। দলের কর্মীরা গণতান্ত্রিক দলীয় পাওয়ারের নামেই এসব করে।
এগুলো গণতান্ত্রিক রাজনীতির ফল। সেদিনও সন্ত্রাসী কার্যক্রম হলো। স্লোগান দিচ্ছে একটা একটা শিবির ধর, ধইরা ধইরা জবাই কর। এগুলো কি? সেক্যুলারিজম গণতন্ত্র না থাকলে এই সন্ত্রাসী দলগুলো থাকতো? এতো পাওয়ার নেতা খেতারা পেতো? এতো জুলুম হতো?
উপরেই বলেছি, গণতন্ত্রের কাজ হলো ভাগ করা। মুসলিম সমাজে মুসলিমদেরকে ভাগ করে আলাদা করা। একদল পক্ষ, আরেকদল বিপক্ষ৷ গণতন্ত্রে মিনিমাম দুটি দল লাগে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যারা একে অপরকে পছন্দ করে না। একে অপরের ক্ষতি করতে চায়।
আর সন্ত্রাসের কারখানা হলো সেকুলার রাজনীতি। উপরোক্ত সব উদাহরণ সেক্যুলার নৈতিকতাহীন শাসনের ফলেই হচ্ছে। সেক্যুলার ব্যবস্থার শাসন টুলস হলো গণতন্ত্র। সেক্যুলারিজম ধর্ম হতে রাষ্টকে আলাদা করে আর শিরকি এই গণতন্ত্র সেখানে শাসন করে। সেকুলারিজমে নৈতিকতা থাকে না। এই সেক্যুলাররা বিশ্বযুদ্ধ লাগিয়েছে, দেশে দেশে গণহত্যা চালিয়েছে। এদেশের সন্ত্রাসী সব সংগঠনই সেকুলার।
যেমন লীগ বা বিএনপি। এদেশে চাঁদাবাজি, গুম, খুন, নির্যাতন, ধর্ষণ, গণধর্ষণ কারা করে? কারা করে আসতেছে চিন্তা করলেই পাবেন। এরপরেও তারা গণতান্ত্রিক এবং সেকুলার হবার কারণে তাদেরকে উগ্রবাদী জঙ্গী সন্ত্রাসী বলা হয় না।
এতো কিছুর পরেও আপনি কিন্তু এদের কাওকে জঙ্গি বলছেন না, সন্ত্রাসী বলছেন না, গণতন্ত্র আর সেক্যুলারিজমকে কোন দোষ দিচ্ছেন না। যেন এগুলো পুত পবিত্র। অথচ সকল নষ্টের মূল হলো এগুলো। দুটোই কুফর শিরক। অপরদিকে ইসলাম কায়েমের জন্য আজকে কয়েকটা মুরতাদকে সাইজ দিলে কান্না শুরু করে দিয়ে বলবেন…
গেলো রে গেলো…
মোল্লারা উগ্র আর ইসলামের নামে মানুষ মারা হচ্ছে…
অথচ মানুষ মারলে তা ইসলামি উপায়েই কেবল জায়েজ হতে পারে। বোমাবাজি করা বা গুলি করা কেবল মাত্র ইসলামি নির্দেশনা মোতাবেগই জায়েজ হতে পারে। সেগুলো জিহাদ। বাকি সব ইসলামের চোখে সন্ত্রাসী কার্যক্রম। বাকি সবের জন্য নিহত হলে তা জাহেলিয়াতের মৃত্যু, শহীদ নয়। দুনিয়া আখিরাত বরবাদ।
