Wednesday, April 22, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরছেলের পরিবর্তে মেয়ে দিল হাসপাতাল!

ছেলের পরিবর্তে মেয়ে দিল হাসপাতাল!

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে পুত্র সন্তান পরিবর্তন করে কন্যা সন্তান দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে প্রসূতি ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে ।

এ ঘটনায় গৃহবধূর বড় বোন শারমিন আক্তার বোনের পুত্রসন্তান ফিরে পেতে বৃহস্পতিবার রাতে মির্জাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

গৃহবধূর পরিবার, লিখিত অভিযোগ ও পুলিশ সূত্র জানায়, মির্জাপুর উপজেলার আজগানা ইউনিয়নের ঘাগরাই কুড়াতলি গ্রামের আরশাদুল ইসলামের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তারকে (১৯) প্রসবজনিত কারণে গত ২৬ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে কুমুদিনী হাসপাতালের প্রসূতি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।

এর আগে কুমুদিনী হাপাতালসহ আরও দুটি প্রাইভেট ক্লিনিকে সুমাইয়ার আল্ট্রাসনোগ্রাম করানো হয়। কুমুদিনী হাসপাতালের চিকিৎসক পবন কুমারসহ ক্লিনিকের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা আল্ট্রাসনোগ্রাম করে সুমাইয়ার পুত্র সন্তান হওয়ার বিষয়টি জানান।

গত বুধবার (২৭ অক্টোবর) বিকেল পৌনে চারটার দিকে সুমাইয়ার বাচ্চা প্রসবের জন্য ওটিতে নেওয়া হয়। ৪টা ২৫ মিনিটে কুমুদিনী হাসপাতালের চিকিৎসক তরুন ও সিনিয়র নার্স তৃপ্তি হালদারের সহযোগিতায় চিকিৎসক তমা অস্ত্রপচারের মাধ্যমে সন্তান প্রসব করান। পাঁচটার দিকে কর্তব্যরত নার্স হাসপাতালে অপেক্ষমান সুমাইয়ার স্বজনদের পুত্র সন্তান হয়েছে বলে দেখান এবং বাচ্চার অবস্থা ভালো নয় বলে রিকভারি ওয়ার্ডে রাখার জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে জানান।

খুশির খবরে সুমাইয়ার স্বজনরা হাসপাতালে মিষ্টিও বিতরণ করেন। রাতে মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানোর জন্য বাচ্চাটিকে সুমাইয়ার কাছে নেওয়া হয়। সুমাইয়া কন্যা সন্তান দেখতে পেয়ে নার্সদের বলেন, আমার পুত্র সন্তান হয়েছে, আমাকে কন্যা সন্তান দিলেন কেন? তখন নার্স তাকে জানান তার কন্যা সন্তান হয়েছে। বাচ্চার কান্না থামানোর জন্য ওই নবজাতক কন্যা শিশুকে সে তার বুকের দুধও পান করান।

এ খবর পেয়ে সুমাইয়ার পরিবার হাসপাতালে এসে নার্স ও কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেন। সংবাদটি হাসপাতালে ছড়িয়ে পড়লে নানা গুঞ্জন শুরু হয়। তবে হাসপাতালের সকল কাগজপত্রে সুমাইয়ার কন্যা সন্তান হওয়ার বিষয়টি লিপিবদ্ধ রয়েছে।

সুমাইয়ার খালা হালিমা বেগম জানান, হাসপাতালের নার্স সুমাইয়ার পুত্র সন্তান ওটির বাইরে এনে আমাদের দেখিয়েছেন। এখন বলছেন মেয়ে সন্তান হয়েছে। এছাড়া আমরা বাড়ি থেকে বাচ্চার জন্য যে কাঁথা দিয়েছি তা ওই কন্য সন্তানের পরনে নেই। আমরা আমাদের নাতি ভাইকে ফেরত চাই।

সুমাইয়ার মামা আজিজুর রহমান বলেন, আমাদের রোগীর অবস্থা ভালো না। এছাড়া সুমাইয়া দরিদ্র পরিবারের সদস্য হওয়ায় হাসপাতালের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী আমাদের বাচ্চা পরিবর্তন করেছেন।

এদিকে সুমাইয়ার পুত্র সন্তান ফিরে পেতে বড় বোন শারমিন আক্তার মির্জাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি বলেন, হাসপাতাল থেকে আমাদের পুত্র সন্তানের খবর জানানো হয়েছে। তবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর নিশ্চিত হয়ে সন্তান বুঝে নিতে চান তারা।

এ ব্যাপারে কুমুদিনী হাসপাতালের পরিচালক চিকিৎসক প্রদীপ কুমার রায় বলেন, প্রত্যেক গর্ভবতী মাকে বাচ্চা প্রসবের আগে একাধিক আল্ট্রাসনোগ্রাম করানো হয়। রিপোর্টে যদি চিকিৎসকরা পুত্র সন্তানের কথা বলে থাকেন এবং অস্ত্রপচারের পর নার্সরা পুত্র সন্তান সুমাইয়ার স্বজনদের দেখিয়ে থাকে তাহলে কোনো এক জায়গায় ভুল হয়েছে।

হাসপাতালে অনেক শিশুর জন্ম হয়েছে। এত শিশুর মধ্যে বাচ্চা চিহ্নিত করা সহজ কাজ নয়। তবে সুমাইয়ার পরিবার চাইলে নিশ্চিত হওয়ার জন্য ডিএনএ পরীক্ষা করানো যেতে পারে বলে তিনি জানান।

মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও পরিদর্শক তদন্তের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি।

তবে মির্জাপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. রুবেল হোসেন অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, কুমুদিনী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

4 + 18 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য