Sunday, April 19, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeনিবন্ধজ্ঞানার্জনের জন্য প্রায় সাড়ে ৪ বিলিয়ন ব্যয়

জ্ঞানার্জনের জন্য প্রায় সাড়ে ৪ বিলিয়ন ব্যয়

জ্ঞানার্জনের জন্য প্রায় সাড়ে ৪ বিলিয়ন ব্যয়!
.
একই হাদীস পঞ্চাশোর্ধ বার লিখেছেন, যিনি সবচেয়ে বেশি হাদীস লিখেছেন, যিনি হাদীস না চিনলে সে হাদীস হাদীসই নয়- এতো সব দুনিয়াজোড়া খ্যাতি যার নামের সাথে জুড়ে আছে তিনিই হলেন ইমাম ইয়াহইয়া ইবনু মা’ঈন (১৫৮-২৩৩ হি) রহিমাহুল্লাহ। এতো সব কৃতিত্ব তিনি কিভাবে অর্জন করলেন? ইমাম আবূ ইউসুফ (১১৩-১৮৫ হি) রহিমাহুল্লাহ বলেন,
الْعِلْمُ شَيْءٌ لَا يُعْطِيكَ بَعْضَهُ حَتَّى تُعْطِيَهُ كُلَّكَ وَأَنْتَ إِذَا أَعْطَيْتَهُ كُلَّكَ مِنْ إِعْطَائِهِ الْبَعْضَ عَلَى غَرَرٍ
“ইল্‌ম এমন বস্তু, যা তোমাকে তাঁর কানাকড়িও দিবে না, যতক্ষণ না তাঁকে তুমি তোমার পুরোটা দিবে। আর কিঞ্চিৎ ইল্‌ম পেতে তাঁকে যখন তোমার সবটুকু উজাড় করে দিবে তখনও তুমি (অজ্ঞতার) ঝুঁকিতে থাকবে।” [১]
.
ইমাম ইবনু মা’ঈন কি কিছু উজাড় করে দিয়েছিলেন? ইমাম ইবনু ‘আদী (২৭৭-৩৬৫ হি) রহিমাহুল্লাহ বলেন,
وَأَخْبَرَنِي شَيْخٌ كَاتِبٌ بِبَغْدَادَ فِي حَلْقَةِ أَبِي عِمْرَانَ بْنِ الأَشْيَبِ ذَكَرَ أَنَّهُ ابْنُ عَمٍّ لِيَحْيَى بْنِ مَعِين، قَال: كَانَ مَعِيْنُ عَلَى خَرَاجِ الرَّيِّ، فَمَاتَ فَخَلَفَ لابْنِهِ يَحْيى ‌أَلْفَ ‌أَلْفِ ‌دِرْهَمٍ وَخَمْسِينَ أَلْفَ دِرْهَمٍ، فَأَنْفَقَهُ كُلَّهُ عَلَى الْحَدِيثِ، حَتَّى لَمْ يَبْقَ لَهُ نَعْلٌ يَلْبِسُهُ
“বাগদাদের একজন লেখক শাইখ, নিজেকে যিনি ইয়াহইয়া ইবনু মা’ঈন (রহিমাহুল্লাহ)-র চাচাতো ভাই হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন, তিনি আবূ ইমরান ইবনুল আশইয়াব (৩৩৯ হি / রহিমাহুল্লাহ)-র হালাকায় আমাকে বলেন, “মা’ঈন রাই-অঞ্চলের খাজনা কালেকশনের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি মারা যান এবং তাঁর ছেলে ইয়াহইয়ার জন্য ১০ লক্ষ ৫০ হাজার দিরহাম রেখে যান। ইয়াহইয়া সবটুকু হাদীসের জ্ঞান অর্জনের পিছনে খরচ করেন এমনকি তার পরনে একপাটি জুতোও ছিলো না।” [২]
.
আজকের যুগে ১০ লক্ষ ৫০ হাজার দিরহামের মূল্যমান কতো? আমরা আনুমানিক একটি হিসাব বের করার চেষ্টা করছি ইন শা আল্লাহ।
দিরহাম
১ দিরহাম = ২.৯৭৫ গ্রাম রৌপ্য।
এটি হচ্ছে, আধুনিক গবেষকগণের মতামত, অধিকাংশ আলিম এ মতটিকে গ্রহণ করাই নিরাপদ মনে করেন, যদিও এ বিষয়ে সামান্য মতভেদ রয়েছে। আমি যখন লিখছি তখন দেশীয় বাজারে এক গ্রাম রৌপ্যের মূল্য আনুমানিক ১৮০ টাকা। সুতরাং,
২.৯৭৫ Х ১৮০ = ৫৩৬ টাকা (প্রায়)।
অতএব, ১০ লক্ষ ৫০ হাজার দিরহামের মূল্য:
৫৩৬ Х ১০৫০০০০ = ৫৬২৮০০০০০ (৫৬ কোটি ২৮ লক্ষ টাকা) !!
.
৫৬ কোটি ২৮ লক্ষ টাকা অর্থাৎ অর্ধ বিলিয়নেরও বেশি টাকাই তো পিলে চমকে যাওয়ার মতো একটা সংখ্যা। কিন্তু ইমাম ইয়াহইয়া ইবনু মা’ঈন রহিমাহুল্লাহ বর্তমানের হিসাবে হাদীসের জ্ঞান অর্জনের পেছনে ঠিক কতো টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন তা বুঝতে হলে অংকের খাতা-কলম নিয়ে আমাদের আরো একবার বসতে হবে।
কেন? কারণ হচ্ছে, এ হিসাবটাই আমরা স্বর্ণের সঙ্গে মিলিয়ে করলে বেশ গড়মিল দেখতে পাবো। ব্যাপারটা ব্যাখ্যা করে বুঝাতে হবে। হাদীস অনুযায়ী স্বর্ণের যাকাতের নিসাব ২০ দীনার এবং রৌপ্যের যাকাতের নিসাব ২০০ দিরহাম। [৩] তৎকালীন যুগে ২০ দীনার আর ২০০ দিরহামের বাজার মূল্য পুরোপুরি এক ছিলো। ১ দিরহামে ২.৯৭৫ গ্রাম রৌপ্য আমরা আগেই জেনে এসেছি। সে হিসেবে ২০০ দিরহামে রৌপ্যের পরিমাণ দাড়ায় ৫৯৫ গ্রাম। এদিকে,
১ দীনার = ৪.২৫ গ্রাম স্বর্ণ।
এটি হচ্ছে, আধুনিক গবেষকগণের মতামত, অধিকাংশ আলিম এ মতটিকে গ্রহণ করাই নিরাপদ মনে করেন, যদিও এ বিষয়ে সামান্য মতভেদ রয়েছে। এ হিসেবে ২০ দীনারে স্বর্ণের পরিমাণ দাড়ায় ৮৫ গ্রাম।
.
এখন তাহলে আমরা এ কথা বলতে পারি যে, সাহাবীদের যামানায় ৮৫ গ্রাম স্বর্ণ এবং ৫৯৫ গ্রাম রৌপ্যের মূল্যমান এক ছিলো (আনুমানিক)। হিসেব করলে আমরা দেখতে পাবো যে, ১ গ্রাম স্বর্ণ = ৭ গ্রাম রৌপ্য। কিন্তু পরবর্তীতে রৌপ্যের দাম কমতে কমতে ৮৫ গ্রাম স্বর্ণ সমপরিমাণ ৫৯৫ গ্রাম রৌপ্য- বাজারদর আর এমন থাকেনি, রৌপ্যের দাম কমতে কমতে আরো তলানীতে ঠেকেছে, ব্যবধান আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। আমি যখন লিখছি তখন দেশীয় বাজারে এক গ্রাম স্বর্ণের মূল্য আনুমানিক ৯৯২০ টাকা (প্রায়)। এবার ১ দিরহামকে ৭ দিয়ে ভাগ দিয়ে ৯৯২০ দিয়ে গুণ দিয়ে সাথে ১০ লক্ষ ৫০ হাজার দিরহামের ১০ লক্ষ ৫০ হাজারকে গুণ দিলে স্বর্ণের হিসাবে হাদীসের জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে ইমাম ইবনু মা’ঈন ঠিক কতো টাকা ভেঙেছিলেন তা আমরা সহজেই পেয়ে যাবো ইন শা আল্লাহ:
(২.৯৭৫ ÷ ৭) Х ৯৯২০ Х ১০৫০০০০ = ৪৪২৬৮০০০০০ (৪৪২ কোটি ৬৮ লক্ষ টাকা) !! [৪]
.
৪৪২ কোটি ৬৮ লক্ষ টাকা অর্থাৎ, প্রায় সাড়ে ৪ বিলিয়ন টাকা তিনি হাদীসে নববী শিখতে ব্যয় করেছেন!! ভাবা যায়? বর্তমান দুনিয়ায় কতো শতো মানুষ বিলিয়নিয়ার হওয়ার স্বপ্নে রাতে ঘুমোতে পারে না, কোনো রকমে বিলিয়ন অর্থাৎ, ১০০ কোটির সংখ্যাটা তারা ছুতে চায়! অথচ প্রায় সাড়ে ৪ বিলিয়ন টাকার পৈতৃক সম্পত্তি ইমাম ইবনু মা’ঈন রহিমাহুল্লাহ অবলীলায় বিলিয়ে দিলেন!? পায়ে পরার জন্য এক জোড়া জুতো পর্যন্ত রাখলেন না?? আল্লাহ তো বলেছেন,
وَإِنَّهُۥ لِحُبِّ ٱلۡخَيۡرِ لَشَدِيدٌ
“আর অবশ্যই অবশ্যই সে ধন-সম্পদের ভালোবাসায় বড়ই প্রবল।” [৫]
.
পৃথিবীতে জ্ঞানার্জনের উদ্দেশ্যে এককভাবে এবং একক উদ্যোগে এতো অর্থ ব্যয়ের নজীর আর দ্বিতীয়টি পাওয়া যাবে না। তাঁর এই ইতিহাসগড়া কীর্তি কুরআনের আরেকটি আয়াতকে মনে করিয়ে দেয়-
لَن تَنَالُواْ ٱلۡبِرَّ حَتَّىٰ تُنفِقُواْ مِمَّا تُحِبُّونَۚ وَمَا تُنفِقُواْ مِن شَيۡءٖ فَإِنَّ ٱللَّهَ بِهِۦ عَلِيمٞ
“তোমরা যা ভালবাসো তা থেকে ব্যয় না করা অবধি তোমরা কখনো পূণ্যের স্তরে পৌঁছাতে পারবে না। আর তোমরা যা কিছুই ব্যয় করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ সে সম্পর্কে সবিশেষ অবগত।” [৬]
.
ঐতিহাসিকগণ সমস্বরে সাক্ষ্য দিয়েছেন,,
« كَانَ يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ إِمَامًا يُقْتَدَى بِهِ، كَانَ مِنْ أَهْلِ الدِّينِ، وَالْفَضْلِ، وَالزُّهْدِ، وَتَرْكِ الدُّنْيَا»
“ইয়াহইয়া ইবনু মা’ঈন (রহিমাহুল্লাহ) ছিলেন অনুসরণীয় ইমাম, দীনের ধারক-বাহক, মর্যাদাসম্পন্ন মানুষ, যাহিদ (দুনিয়াবিমুখ) এবং ঐ মানুষ যিনি দুনিয়াকে ছেড়ে দিয়েছিলেন।” [৭]
.
ইমাম ইবনু মা’ঈন রহিমাহুল্লাহর পিতার সম্পদ দিয়েই এই ইতিহাস গড়েছিলেন। তাঁর পিতা সম্পর্কেও আরেকটু জেনে নেয়া যাক। তাঁর পিতা শুধু খাজনা সংগ্রাহকই ছিলেন না। লেখক হিসেবেও তাঁর প্রসিদ্ধি ছিলো। ইমাম আল-’আজলী (১৮২-২৬১ হি) রহিমাহুল্লাহ বলছেন,
«كَانَ أَبُوْهُ مَعِيْنٌ كَاتِباً لِعَبْدِ اللهِ بنِ مَالِكٍ»
“”তাঁর পিতা মা’ঈন ছিলেন আবদুল্লাহ ইবনু মালিকের লিপিকার।” [৮]
.
ইমাম ইবনু আব্দিল হাদী (৭০৫-৭৪৪ হি) রহিমাহুল্লাহ বলেন,
وكان أبوه من نبلاء الكتَّاب
“আর তাঁর পিতা ছিলেন নামী লেখকদের একজন।” [৯]
.
আমাদের যুগে মনে করা হয় আলিমদের অতো টাকা-পয়সা লাগে না। কিন্তু একজন ব্যক্তি যোগ্যতাসম্পন্ন আলিম হতে এবং তাঁর অর্জিত ইল্‌ম প্রচারে লাখ লাখ টাকার প্রয়োজন। এই টাকার সিংহভাগ খরচা হয় ইল্‌ম সফরে এবং বইপত্র সংগ্রহে। ইমাম ইয়াহইয়া ইবনু মা’ঈন রহিমাহুল্লাহও এর ব্যতিক্রম ছিলেন না। তাঁর সফর ও বইপত্র সংগ্রহ সম্পর্কে আমরা জানতে চাই।
.
সফরের প্রতি ইবনু মা’ঈন রহিমাহুল্লাহর ছিলো অদম্য আগ্রহ। ইমাম যাহাবী (৬৭৩-৭৪৮ হি) রহিমাহুল্লাহ বলেন,
«قُلْتُ: وَقَدِ ارْتَحَلَ وَهُوَ ابْنُ سِتٍّ وَخَمْسِيْنَ سَنَةً إِلَى مِصْرَ وَالشَّامِ،
“আমি বলবো- তিনি ৫৬ বছর বয়সী মানুষ- তখন তিনি মিসর ও শামের উদ্দেশে সফর করেছিলেন।” [১০]
.
সফর করতে করতে এতো এতো অর্থও তিনি ফুরিয়ে ফেলেছিলেন। ইয়াহইয়া ইবনু মা’ঈন রহিমাহুল্লাহ নিজেই বলেন,
«وقال عبّاس الدوريّ، فيما رواهُ عَنْهُ الأصم: سمعتُ يَحْيَى بْن مَعِينٍ يَقُولُ: كُنَّا فِي قرية بِمصر، ولم يكن معنا شيء، ولا ثَمَّ شيئًا نشتريه، فلما أصبحنا إذا نحنُ بزنْبيلٍ مليء بسمك مشويّ وليس عنده أحد، فسألوني عَنْهُ، فقلتُ: اقتسموهُ فكُلُوه قَالَ يحيى: أظنّ أَنَّهُ رزقُ رزقهم اللَّه»
“আমরা মিসরের একটি গ্রামে ছিলাম। আমাদের সাথে কিছুই ছিলো না। অর্থও ছিলো না যা দিয়ে আমরা কিছু কিনে খেতে পারি। এরপর যখন আমরা সকালে জাগলাম তখন আমাদের সামনে একটি ঝুড়ি পেলাম যা ভাজা মাছে পরিপূর্ণ। এটা সেখানের কারোরই নয়। এটা সম্পর্কে সবাই আমাকে জিজ্ঞেস করলো। আমি বললাম, “তোমরা এটাকে ভাগ করে নাও এবং খেয়ে নাও। আমি মনে করি এটি এমন এক রিযিক যা আল্লাহ আমাদের জন্য রিযিক হিসেবে পাঠিয়েছেন।” [১১]
.
প্রখ্যাত ঐতিহাসিক সাবত ইবনুল জাওযী (৫৮১-৬৫৪ হি) রহিমাহুল্লাহ বলেন,
«سافر ابنُ معين إلى الآفاق، ودخل الأمصار، وسمع خلقًا لا يحصون، منهم ابنُ عيينة، وابن المبارك، ويحيى بن سعيد القطَّان، وغيرهم. وروى عنه زهيرُ بن حرب، والبخاريُّ، ومسلم في آخرين»
“ইবনু মা’ঈন (রহিমাহুল্লাহ) দিগ-দিগন্তে ভ্রমণ করেছিলেন, শহর-নগর চষে বেড়িছিলেন এবং এতো এতো মানুষদের কাছ থেকে হাদীস শ্রবণ করেছিলেন যাঁদের গুনে শেষ করা যাবে না। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: ইবনু উয়াইনা (১০৭-১৯৮ হি / রহিমাহুল্লাহ), ইবনুল মুবারক (১১৮-১৮১ হি / রহিমাহুল্লাহ), ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আল-কাত্তান (১২০-১৯৮ হি / রহিমাহুল্লাহ) সহ আরো অনেকেই। তাঁর কাছ থেকে যাঁরা হাদীস বর্ণনা করেছেন তাঁদের কয়েকজনের মধ্যে যুহাইর ইবনু হার্‌ব (১৬০-২৩৪ হি / রহিমাহুল্লাহ), বুখারী (১৯৪-২৫৬ হি / রহিমাহুল্লাহ) ও মুসলিম (২০৬-২৬১ হি / রহিমাহুল্লাহ) অন্যতম।” [১২]
.
ইমাম ইয়াহইয়া ইবনু মা’ঈন রহিমাহুল্লাহর অদম্য মনোবলের কথা জানা যাবে নিম্নোক্ত ঘটনা থেকে। তিনি তাঁর উস্তাদ ইমাম আব্দুর রাযযাক সান’আনী (১২৬-২১১ হি) রহিমাহুল্লাহর কাছ থেকে শিক্ষাগ্রহণের কারগুজারি শোনাচ্ছেন এভাবে,
«فأردته على الحديث فأبى وكان يصلي بهم في المسجد الصلوات كلها فجئت إلى مسجده فقعدت فيه [فكنت فيه – 2] ثلاثين يوما لا أسأله شيئا إلا أنه إذا دخل وخرج سلمت عليه فلما كان بعد ثلاثين يوما بعث إلى فقال لي يا هذا انما منعتك لانظرأ أنت من أصحاب الحديث أو لست من أصحاب الحديث؟ قال يحيى فقلت (159 م) والله أصلحك الله هذا موضعي إلى قابل أو تحدثني أولا يبقى معي شئ أتبلغ به، فقال يا جارية هاتي الزبل فكانت تخرجها إلى فأقعد في المسجد فاكتب منها حاجتي ثم يقرأ»
“আমি তাঁর কাছ থেকে হাদীস গ্রহণ করতে চাইলাম। তিনি অস্বীকৃতি জানালেন। তিনি সকলকে নিয়ে প্রতিটা সলাত মাসজিদে আদায় করতেন। আমি তাঁর মাসজিদে এলাম এবং বসে রইলাম। এভাবে ত্রিশ দিন। তিনি যখন ঢুকেন এবং বের হন তখন তাঁকে সালাম দেই, এর বাইরে আর কিছুই জিজ্ঞেস করি না। এরপর ত্রিশ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর তিনি আমার কাছে এলেন। তারপর আমাকে বললেন, “ওহে, আমাকে তো তোমার বিষয়ে শুধু এটাই আটকে রেখেছে যে, আমি দেখতে চাই- তুমি কি সত্যিই হাদীসের ধারক-বাহক নাকি নও।”
(ইয়াহইয়া বললেন-) আমি বললাম, “আল্লাহর শপথ, আল্লাহ আপনাকে সংশোধন করুন, আমার এই অবস্থান সাক্ষাতের প্রত্যাশায় অথবা আপনি আমাকে হাদীস বর্ণনা করবেন অথবা আমার কাছে পৌঁছে দেয়ার মতো কিছু বাকী থাকবে না।”
এবার তিনি বললেন, “ওহে বালিকা, খেজুর পাতার পাত্রটা নিয়ে এসো।”
আদেশ পাওয়া মাত্রই বালিকা সেটি আমার কাছে বের করে দিলো। তারপর আমি মাসজিদে গিয়ে বসলাম এবং তাঁর কাছ থেকে আমার জরূরী বিষয় লিখে নিলাম। এরপর তিনি পড়া শুরু করলেন। [১৩]
.
এবার আসি তাঁর বইপত্রের আলোচনায়। ইমাম ইয়াহইয়া ইবনু মা’ঈন রহিমাহুল্লাহর পিতা তাঁর জন্য প্রায় সাড়ে ৪ বিলিয়ন টাকা রেখে গেলেও তিনি তাঁর ওয়ারিসদের জন্য কিছুই রেখে যেতে পারেননি, শুধুমাত্র কিছু কিতাবপত্র ছাড়া। আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল্লাহ রহিমাহুল্লাহ বলেন,
«سمعتُ أبي، يَقُولُ: خَلَّفَ يَحْيَى من الكتب مائة قِمَطر وأربعة عشر قِمَطْرًا، وأربعة حِباب شرابيّة مملوءة كُتبًا»
“আমি আমার আব্বাকে বলতে শুনেছি, ইয়াহইয়া (রহিমাহুল্লাহ) রেখে গিয়েছেন ১১৪ তাকভর্তি বইপুস্তক এবং ৪টি এমন পানপাত্র- যেগুলো বইয়ে ঠাসা ছিলো।” [১৪]
.
ইমাম আবূ আলী সলিহ ইবনু মুহাম্মাদ (২০৫-২৯৩ হি) রহিমাহুল্লাহ বলেন,
«ذُكِرَ لي أنَّ يَحْيَى بْن معين خَلَّف من الكتب لَمَّا مات ثلاثين قِمطرًا، وعشرين حبا، وطلب يَحْيَى بْن أكثم كتبه بمائتي دينار، فلم يدع أَبُو خيثمة أن تُباع»
“আমাকে বর্ণনা করা হয়েছে যে, ইয়াহইয়া ইবনু মা’ঈন (রহিমাহুল্লাহ) যখন ইন্তেকাল করেন তখন ৩০ তাকভর্তি বই এবং আরো ২০ পাত্র বই রেখে গিয়েছিলেন। ইয়াহইয়া ইবনু আকসাম (১৬০-২৪২ হি / রহিমাহুল্লাহ) তাঁর বইগুলো ২০০ দীনারের বিনিময়ে কিনে নিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু আবূ খাইসামাহ (১৬০-২৩৪ হি / রহিমাহুল্লাহ) তা বিক্রি করতে দেননি।” [১৫]
.
ইয়াহইয়া ইবনু মা’ঈন রহিমাহুল্লাহর উচ্ছ্বাসিত প্রশংসা আমরা আগেও শুনেছি। দীনের জন্য তাঁর এমন আত্মত্যাগ তাঁকে কোন চূড়ায় আরোহণ করিয়েছিলো সে সম্পর্কে আমরা আরো জানার চেষ্টা করবো ইন শা আল্লাহ। ইমাম আলী ইবনুল মাদীনী (১৬১-২৩৪ হি) রহিমাহুল্লাহ বলেন,
«انتهى العلم إلى يَحْيَى بْن آدم، وبعده إلى يَحْيَى بْن معين»
“ইল্‌ম এসে ঠেকেছে ইয়াহইয়া ইবনু আদাম (প্রায় ১৪০-২০৩ হি / রহিমাহুল্লাহ)-র নিকট আর তাঁর পরবর্তীকালে ইয়াহইয়া ইবনু মা’ঈন (১৫৮-২৩৩ হি/ রহিমাহুল্লাহ) এর নিকট।” [১৬]
.
অন্যত্র আলী ইবনু মাদীনী রহিমাহুল্লাহ বলেছেন,
«سمعت علي بن المديني يقول انتهى العلم إلى رجلين إلى ابن المبارك وبعده إلى يحيى بن معين»
“ইল্‌ম দু’জন ব্যক্তির নিকট এসে শেষ হয়েছে: ইবনুল মুবারক (১১৮-১৮১ হি / রহিমাহুল্লাহ) এবং তারপর ইয়াহইয়া ইবনু মা’ঈন (রহিমাহুল্লাহ)।” [১৭]
.
অন্য বর্ণনায় আলী ইবনুল মাদীনী রহিমাহুল্লাহ বলেন,
«انتهى علم الناس إلى يَحْيَى بْن معين»
“মানুষের ইল্‌ম এসে শেষ হয়েছে ইয়াহইয়া ইবনু মা’ঈন (রহিমাহুল্লাহ) এর নিকট।” [১৮]
.
হাদীসশাস্ত্রের মহান ইমাম ইবনুল মাদীনী আরো বলেন,
«دار حديث الثقات على ستة فذكرهم ثم قال ما شذ عن هؤلاء يصير إلى اثني عشر فذكرهم ثم صار حديث هؤلاء كلهم إلى يحيى بن معين»
“হাদীসশাস্ত্রের নির্ভরতা টিকে আছে ছয় জন ব্যক্তির উপর।” অতঃপর তিনি তাঁদের নাম উল্লেখ করেন।
এরপর বলেন, “যা তাদের কাছ থেকে গিয়ে বারো জনের দ্বারে পৌঁছেছে।” অতঃপর তিনি তাঁদেরও নাম উল্লেখ করেন।
(এরপর বলেন-) “এরপর তাঁদের প্রত্যেকের হাদীস এসে জমা হয়েছে ইয়াহইয়া ইবনু মা’ঈনের নিকট।” [১৯]
.
ইমাম ইয়াহইয়া আল-কাত্তান (১২০-১৯৮ হি) রহিমাহুল্লাহ তাঁর সেরা ছাত্রদ্বয় সম্পর্কে বলেন,
«ما قدم علينا مثلُ هذين: أحمد بن حنبل، ويحيى بن مَعين»
“আমাদের নিকট দু’জন ব্যক্তির মতো কারো আগমন ঘটেনি: একজন আহমাদ ইবনু হাম্বাল এবং অপরজন ইয়াহইয়া ইবনু মা’ঈন।” [২০]
.
ইমাম ইবনু আব্দিল হাদী (৭০৫-৭৪৪ হি) রহিমাহুল্লাহ ইমাম ইয়াহইয়ার সম্পর্কে বলেন,
«الإمامُ العلَم، سيِّد الحفّاظ، أبو زكريا المرِّي مولاهم البغدادي»
“ ইল্‌মের ইমাম, হাফেযে হাদীসদের নেতা, আবু যাকারিয়া আল-মাররী বাগদাদবাসীদের অভিভাবক।” [২১]
.
ইমাম হারুন ইবনু মা’রুফ (১৫৭-২৩১) রহিমাহুল্লাহ বলেন,
«قدمَ علينا بعضُ الشيوخ من الشام، وكنتُ أول من بكرَ عَلَيْهِ، فدخلتُ عَلَيْهِ فسألته أن يُملي عليَّ شيئًا، فأخذ الكتاب يُملي عليَّ فإذا بإنسان يدق الباب، فقال الشيخ: من هذا؟ قَالَ: أَحْمَد بْن حنبل، فأذنَ لَهُ، والشيخ عَلَى حالته، والكتابُ فِي يده لا يتحرك، فإذا بآخر يدق الباب، فقال الشيخ: من هذا؟ قَالَ: أَحْمَد الدورقي، فأذن لَهُ، والشيخ عَلَى حالته، والكتاب فِي يده لا يتحرك، فإذا بآخر يدق الباب، فقال الشيخ: من هذا؟ قَالَ: عَبْد الله ابْن الرومي، فأذن لَهُ، والشيخ عَلَى حالته، والكتاب فِي يده لا يتحرك، فإذا بآخر يدق الباب، فقال الشيخ: من هذا؟ قَالَ: أَبُو خيثمة زُهير بْن حرب، فأذنَ لَهُ والشيخ عَلَى حالته، والكتاب فِي يده لا يتحرك، فإذا بآخر يدق الباب، فقال الشيخ: من هذا؟ قَالَ: يَحْيَى بْن معين، قَالَ: فرأيتُ الشيخ ارتعدت يده وسقط الكتاب من يده»
“শামের কিছু শাইখ আমাদের কাছে এলেন। আমিই প্রথম এক শাইখের কাছে গেলাম। এরপর আমি প্রবেশ করলাম এবং তাঁকে আমাকে কিছু লিখিয়ে দেয়ার জন্য বললাম। তিনি কিতাব হাতে নিয়ে আমাকে লেখানো শুরু করলেন। তখন একজন ব্যক্তি দরজায় টোকা দিলো।
শাইখ বললেন, “কে এটা?”
তিনি বললেন, “আহমাদ ইবনু হাম্বাল (১৬৪-২৪১ হি)।”
তাঁর কথা শোনার পর তিনি তাঁকে অনুমতি দিয়ে দিলেন। শাইখ তাঁর আপন অবস্থায় রইলেন। তাঁর হাতে কিতাবটি নড়ছিলো না। তখন আরেকজন দরজায় টোকা দিলো।
শাইখ বললেন, “কে এটা?”
তিনি বললেন, “আহমদ আল-দাওরকী (১৬৮-২৪৬ হি)।”
তাঁর কথা শোনার পর তিনি তাঁকেও অনুমতি দিয়ে দিলেন। শাইখ তাঁর আপন অবস্থাতেই রইলেন। তাঁর হাতে কিতাবটিও নড়ছিলো না। ঠিক তখন আরেকজন দরজায় টোকা দিলো।
শাইখ বললেন, “কে এটা?”
তিনি বললেন, “আব্দুল্লাহ ইবনুর রূমী (২৩৬ হি)।”
তাঁর কথা শোনার পর তিনি তাঁকেও অনুমতি দিয়ে দিলেন। শাইখ তাঁর আপন অবস্থাতেই রইলেন। তাঁর হাতে কিতাবটিও নড়ছিলো না। ঠিক তখন আরেকজন দরজায় টোকা দিলো।
শাইখ বললেন, “কে এটা?”
তিনি বললেন, “আবূ খাইসামাহ যুহাইর ইবনু হারব (১৬০-২৩৪ হি)।”
তাঁর কথা শোনার পর তিনি তাঁকেও অনুমতি দিয়ে দিলেন। শাইখ তাঁর আপন অবস্থাতেই রইলেন। তাঁর হাতে কিতাবটিও নড়ছিলো না। তখন আরেকজন দরজায় টোকা দিলো।
শাইখ বললেন, “কে এটা?”
তিনি বললেন, “ইয়াহইয়া ইবনু মা’ঈন (১৫৮-২৩৩ হি)।”
(হারুন ইবনু মারুফ বলেন-) “আমি লক্ষ্য করলাম- শাইখের হাত কাঁপছে এবং এবার কিতাবটিও তাঁর হাত থেকে পড়ে গেলো।” [২২]
.
আব্দুল খালিক্ব ইবনু মানসূর (২৪৬ হি) রহিমাহুল্লাহ বলেন,
قلتُ لابن الرومي سمعتُ بعض أصحاب الحديث يُحدث بأحاديث يَحْيَى، ويقول: حدَّثَنِي من لم تطلع الشمس عَلَى أكبر منه، فقال: وما تعجب؟ سمعتُ عَلِيّ ابْن الْمَدِينِيّ، يَقُولُ: ما رأيتُ فِي الناس مثله»
“ইবনুর রূমি (২৩৬ হি / রহিমাহুল্লাহ)-কে আমি বলেছিলাম, “আমি কিছু হাদীস বিশারদকে ইয়াহইয়া (রহিমাহুল্লাহ)-র হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছি এবং বলতে শুনেছি, “এমন একজন ব্যক্তি আমাকে হাদীস বর্ণনা করেছেন যাঁর চেয়ে বড় কারো উপর সূর্য উদিত হয়নি।”
তিনি বললেন, “এতে আর অবাক হওয়ার কী আছে? আমি আলী ইবনুল মাদীনী (রহিমাহুল্লাহ)-কে বলতে শুনেছি, “মানুষের মাঝে আমি তাঁর মতো কাউকে দেখিনি।” [২৩]
.
ইমাম শামসুদ্দীন যাহাবী (৬৭৩-৭৪৮ হি) রহিমাহুল্লাহ বলেন,
«قُلْتُ: فَحَاصِلُ الأَمْرِ: أَنَّ يَحْيَى بنَ مَعِيْنٍ مَعَ إِمَامَتِهِ لَمْ يَنْفَرِدْ بِالحَدِيْثِ – وَللهِ الحَمْدُ»
“আমি বলবো, সারকথা হলো, ইয়াহইয়া ইবনু মা’ঈন (রহিমাহুল্লাহ) ইমাম হওয়া সত্ত্বেও কোনো হাদীস একাকী বর্ণনা করেননি। আর প্রশংসা সব আল্লাহর জন্যই।” [২৪]
.
তাঁর মৃত্যুর আগে-পরের ঘটনাবলীও তাঁর অতুলনীয় মর্যাদার কথা প্রকাশ করে। ইমাম আব্দুল্লাহ ইবনু আহমাদ ইবনু হাম্বাল (২১৩-২৯০ হি) রহিমাহুল্লাহ বলেন,
«حجَّ ابنُ معين، فزار قبرَ النبيِّ – صلى الله عليه وسلم -، ثمّ خرجَ فبات بظاهر المدينة، فرأى النبي – صلى الله عليه وسلم – في المنام وهو يقول: يا أبا زكريا، أرغبت عن جواري (2)؟ فقال لرفقائه: اذهبوا فإنِّي راجعٌ إلى المدينة»
“ইবনু মা’ঈন (রহিমাহুল্লাহ) হজ্ব থেকে ফিরে নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবর যিয়ারত করেন। এরপর তিনি মদীনা থেকে বের হন এবং মদীনার উপকণ্ঠে রাত্রি যাপন করেন। এরপর ঘুমের মধ্যে নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখতে পেলেন, তিনি বলছেন, “হে আবু যাকারিয়া, তুমি আমার প্রতিবেশিত্ব ছেড়ে পালাচ্ছো?”
স্বপ্ন দেখা শেষ হলে তিনি তার সঙ্গীসাথীদের বললেন, “তোমরা যাও, আমি মদীনায় ফিরে যাচ্ছি।” [২৫]
.
ইমাম বুখারী রহিমাহুল্লাহর উস্তাদ হাফিয মুহাম্মাদ ইবনু ইউসুফ আল-বুখারী রহিমাহুল্লাহ বলেন,
«كُنَّا فِي الحَجِّ مَعَ يَحْيَى بنِ مَعِيْنٍ، فَدَخَلْنَا المَدِيْنَةَ لَيْلَةَ الجُمُعَةِ، وَمَاتَ مِنْ لَيلَتِهِ، فَلَمَّا أَصبَحْنَا، تَسَامَعَ النَّاسُ بِقُدُوْمِهِ وَبِمَوْتِهِ، فَاجْتَمَعَ العَامَّةُ، وَجَاءَتْ بَنُو هَاشِمٍ، فَقَالُوا: نُخْرِجُ لَهُ الأَعوَادَ التِي غُسِّلَ عَلَيْهَا رَسُوْلُ اللهِ -صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ-.
فَكَرِهَ العَامَّةُ ذَلِكَ، وَكَثُرَ الكَلَامُ، فَقَالَتْ بَنُو هَاشِمٍ: نَحْنُ أَوْلَى بِالنَّبِيِّ -صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ- وَهُوَ أَهْلٌ أنْ يُغسَلَ عَلَيْهَا.
فَغُسِلَ عَلَيْهَا، وَدُفِنَ يَوْمَ الجُمُعَةِ، فِي ذِي القَعْدَةِ»
“আমরা ইয়াহইয়া ইবনু মা’ঈনের সাথে হজ্বে ছিলাম। জুম’আর রাতে আমরা মদীনায় প্রবেশ করলাম আর সে রাতেই তিনি মারা গেলেন। সকাল হওয়ার পর তার আগমন ও তিরোধানের সংবাদে কানে কানে পৌঁছে গেলো। নানাশ্রেণীর মানুষের সমাগম ঘটলো। (নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গোত্র) বনু হাশিমও বসে রইলো না। তাঁরা এসে বললো, “আমরা তাঁর জন্য সেই কাঠের আটি বের করছি যাতে আল্লাহর রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গোসল দেয়া হয়েছিলো।”
এটা সাধারণ মানুষ অপছন্দ করে। তারা নানান আপত্তি তুলতে থাকে। সবশেষে বনু হাশিম বললো, “নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ব্যাপারে আমরাই সবার চেয়ে বেশি অধিকার রাখি। এখানে গোসল দেয়ার ব্যাপারে তিনি উপযুক্ত ব্যক্তি।”
এরপর তাঁকে এই আটির উপরেই গোসল দেয়া হয় এবং যুলক্বাদাহর এক জুম’আর দিনে তাঁকে দাফন করা হয়। [২৬]
.
হাফিয ইবনু আবী খাইসামাহ (২৭৯ হি) রহিমাহুল্লাহ বলেন,
«وصلى عليه صاحب الشرطة»
“পুলিশ অফিসারও তার জন্য প্রার্থনা করেছিলেন।” [২৭]
.
ইমাম ইবনু মা’ঈন রহিমাহুল্লাহকে আজকের যুগের মানুষ হয়তো বোকা হিসেবেই ভেবে নিবে! লোকে হয়তো ভাববে বিলিয়ন টাকা খরচা করে আজকাল চন্দ্রবিজয় করা যায়! কিন্তু তাঁরা জানে না হাদীসের ইমাম হয়ে এবং আলিম হয়ে তাঁর মর্যাদা চাঁদের উচ্চতায় পৌঁছে গেছে। আল্লাহর রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
وَفَضْلُ العَالِمِ عَلَى العَابِدِ، كَفَضْلِ القَمَرِ عَلَى سَائِرِ الكَوَاكِبِ
“আবিদের (ইবাদাতগুজারের) উপর আলিমের মর্যাদা সমস্ত নক্ষত্ররাজির উপর পূর্ণিমার চাঁদের মর্যাদার ন্যায়।” [২৮]
.
যেখান থেকে শুরু করেছিলাম সেখানে ফিরে আসি, ইমাম আবূ ইউসুফ রহিমাহুল্লাহর সেই কথায় ফিরি-
“”ইল্‌ম এমন বস্তু, যা তোমাকে তাঁর কানাকড়িও দিবে না, যতক্ষণ না তাঁকে তুমি তোমার পুরোটা দিবে।”
.
প্রিয় নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
طَلَبُ الْعِلْمِ فَرِيضَةٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ
“ইল্‌ম অনুষন্ধান করা প্রত্যেক মুসলিমের উপর ফরয।” [২৯]
.
ইমাম ইয়াহইয়া ইবনু মা’ঈন রহিমাহুল্লাহ ইল্‌মের জন্য প্রায় সাড়ে ৪ বিলিয়ন বিলিয়েছেন। আমরা কতোটুকু করতে পেরেছি??
.

দুনিয়ারযতআজবরেকর্ড(৪১)

.
[১] আল-জামিউল আখলাক, খতীব আল-বাগদাদী, ১৫২৩
[২] আল-কামিল ফী দ্বুয়াফায়ির রিজাল, ইবনু ‘আদী, ১/২১৯
[৩] আস-সহীহ, বুখারী, ১৪৪৭; আস-সুনান, ইবনু মাজাহ, ১৭৯১; ইবনু মাজাহর হাদীস আলবানীর মতে সহীহ; বাংলাদেশে উশর বা ফসলের যাকাত, আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর, পৃঃ ৩১
[৪] মূল্যমানের সম্পূর্ণ ফলাফল প্রাপ্তির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো হিসাব কষাকষিতে নিম্নোক্ত বইয়ের সহায়তা নেয়া হয়েছেঃ বাংলাদেশে উশর বা ফসলের যাকাত, আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর, পৃঃ ৩১-৩৩
[৫] সূরাতুল আদিয়াতঃ ৮
[৬] সূরা আলু ইমরানঃ ৯২
[৭] সিয়ারুস সালাফিস সলিহীন, ইসমাঈল আল-আসবাহানী, ৩/১১৯৯
[৮] সিয়ারু আ’লামিন নুবালা (রিসালাহ), যাহাবী, ১১/৭৭
[৯] ত্ববাকাতু উলামায়িল হাদীস, ইবনু আব্দিল হাদী, ২/৭৯
[১০] সিয়ারু আ’লামিন নুবালা (রিসালাহ), যাহাবী, ১১/৯৫
[১১] তারীখুল ইসলাম (বাশশার তাহকীককৃত), যাহাবী, ৫/৯৬৭
[১২] মিরআতুয যামান ফী তাওয়ারীখিল আ’য়ান, সাবত ইবনুল জাওযী, ১৪/৪৬৯
[১৩] আল-জারহু ওয়াত তা’দীল, ইবনু আবী হাতিম, ১/৩১৬
[১৪] তারীখু বাগদাদ (বাশশার তাহকীককৃত), খতীব আল-বাগদাদী, ১৬/২৬৩
[১৫] তারীখু বাগদাদ (বাশশার তাহকীককৃত), খতীব আল-বাগদাদী, ১৬/২৬৩
[১৬] তারীখু বাগদাদ (বাশশার তাহকীককৃত), খতীব আল-বাগদাদী, ১৬/২৬৩
[১৭] তারীখু দিমাশ্‌ক, ইবনু আসাকির, ৬৫/১৬
[১৮] তারীখু বাগদাদ (বাশশার তাহকীককৃত), খতীব আল-বাগদাদী, ১৬/২৬৩
[১৯] তারীখু দিমাশ্‌ক, ইবনু আসাকির, ৬৫/১৬
[২০] ত্ববাকাতু উলামায়িল হাদীস, ইবনু আব্দিল হাদী, ২/৮০
[২১] ত্ববাকাতু উলামায়িল হাদীস, ইবনু আব্দিল হাদী, ২/৭৯
[২২] তারীখু বাগদাদ (বাশশার তাহকীককৃত), খতীব আল-বাগদাদী, ১৬/২৬৩
[২৩] তারীখু বাগদাদ (বাশশার তাহকীককৃত), খতীব আল-বাগদাদী, ১৬/২৬৩
[২৪] সিয়ারু আ’লামিন নুবালা (রিসালাহ), যাহাবী, ১১/৭৬
[২৫] মিরআতুয যামান ফী তাওয়ারীখিল আ’য়ান, সাবত ইবনুল জাওযী, ১৪/৪৬৮
[২৬] সিয়ারু আ’লামিন নুবালা (রিসালাহ), যাহাবী, ১১/৯০-৯১
[২৭] তারীখু দিমাশ্‌ক, ইবনু আসাকির, ৬৫/৪০
[২৮] আস-সুনান, তিরমিযী, ২৬৮২; তিরমিযী এবং আলবানীর মতে সহীহ
[২৯] আস-সুনান, ইবনু মাজাহ, ২২৪; শুয়াইব আরনাঊত্বের মতে হাসান এবং আলবানীর মতে সহীহ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

8 + eighteen =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য