Wednesday, April 22, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরডেঙ্গুর প্রকোপ আরো চার-পাঁচ বছর থাকতে পারে

ডেঙ্গুর প্রকোপ আরো চার-পাঁচ বছর থাকতে পারে

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরো চার-পাঁচ বছর মানুষকে ভোগাবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলছেন, প্রতিবছর রোগের প্রকোপ ও মৃত্যু বাড়বে। চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যু বেশি হওয়ার পেছনে তিনটি কারণের কথা জানিয়েছেন গবেষকরা। প্রথমত, ডেঙ্গু ভাইরাসের ধরন ডেন-২ সেরোটাইপে বেশি আক্রান্ত হওয়া; দ্বিতীয়ত, একই ব্যক্তির একাধিকবার ডেঙ্গু হওয়া ও ডেঙ্গুর ভুল নেগেটিভ ফল বেশি আসা।

ডেঙ্গুগতকাল শনিবার বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের এক অনুষ্ঠানে গবেষকরা এসব তথ্য জানান।

সম্প্রতি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগ এবং বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে এবং আইসিডিডিআরবির সহযোগিতায় শিশুদের মধ্যে ডেঙ্গু ভাইরাস সংক্রমণের রোগতাত্ত্বিক সেরোটাইপ নির্ধারণের ওপর একটি গবেষণা করা হয়।

এ ব্যাপারে শিশু হাসপাতালটির পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, জানুয়ারি থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত শিশু হাসপাতালে এক হাজার ৬৪৯ ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী চিকিৎসা নেয়। এর মধ্যে ৭২২ জন ভর্তি রোগীর ওপর আমরা ছোট আকারে গবেষণা করে দেখেছি, ৩৯ জনের বা ৫.৪ শতাংশের দ্বিতীয়বার ডেঙ্গু হয়েছে।

এর মধ্যে এক বছরের নিচে রোগী পাঁচজন, এক থেকে পাঁচ বছরের রোগী ১৫ জন, পাঁচ থেকে ১০ বছরের রোগী ১২ জন, ১০ বছরের রোগী আটজন।
এসব রোগীর মধ্যে কমোরবিডিটি বা দীর্ঘদিনের রোগে ভোগা রোগী ছিল ১০ শতাংশ। এর মধ্যে স্থূলতা ছিল সবচেয়ে বেশি। এ ছাড়া হার্টের সমস্যা, থ্যালাসেমিয়া, ভিটামিন ডির অভাবে ভোগা রোগী ছিল উল্লেখযোগ্য।

তিনি বলেন, ঢাকা শিশু হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া ৭১ শতাংশ রোগীর ডেঙ্গুর বিভিন্ন উপসর্গ থাকলেও ২৯ শতাংশের উপসর্গ ছিল না। তবে এসব রোগীর ১১ শতাংশকে আইসিইউতে (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) রেখে চিকিৎসা দিতে হয়েছে। উপসর্গ থাকা ১৬ শতাংশ রোগী চিকিৎসা নিয়েছে আইসিইউতে। এর মধ্যে ৩.২ শতাংশ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বেশির ভাগ রোগী হাসপাতালে পাঁচ দিন চিকিৎসাধীন ছিল।

৩৮৮ জন বা ২৩ শতাংশ রোগী ঢাকার বাইরে থেকে এসে চিকিৎসা নিয়েছে। ভর্তি রোগীর ৪০ শতাংশ পুরুষ ও ৬০ শতাংশ নারী। এর মধ্যে এক থেকে পাঁচ বছরের শিশু ৩৪ শতাংশ ও পাঁচ থেকে ১০ বছরের শিশু ৩২ শতাংশ।

ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘গবেষণায় দেখেছি, শতভাগ রোগীর জ্বর ছিল। ৪৯ শতাংশের ছিল বমি, ২৭ শতাংশের পেট ব্যথা, ১৯ শতাংশের ডায়রিয়া, ৭ শতাংশের কাশি, ৪ শতাংশের মাথা ব্যথা, ৩ শতাংশ খাবারে অরুচি, ২ শতাংশের রক্তপাত, খিঁচুনি, শরীর ব্যথা ও র‌্যাশ ছিল। শ্বাসকষ্ট ছিল ১ শতাংশের।’ তিনি বলেন, ‘দিন দিন ডেঙ্গুর ধরন বদলে যাচ্ছে। একই সঙ্গে এর ভয়াবহতা বাড়ছে। সামনে আরো বাড়বে। সুতরাং আমাদের ভ্যাকসিন না আসা পর্যন্ত আমাদের আরো সচেতন হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে সারা বছর মশক নিধন কার্যক্রম চালাতে হবে।’

আইসিডিডিআরবির জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ডেঙ্গু ভাইরাসের ক্ষেত্রে এনএস-১ বা র‌্যাপিড টেস্ট দিয়ে যে পরীক্ষাগুলো করা হয়, এর মধ্যে ৩৪ শতাংশ নেগেটিভ রিপোর্ট আরটিপিসিআর টেস্টে পজিটিভ আসছে। তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি, এবার অনেক বেশি গুরুতর রোগী পাওয়া গেছে। এর প্রধান কারণ ডেঙ্গুর ডেন-২ সেরোটাইপ। গত পাঁচ বছরে বেশি ছিল সেরোটাইপ-৩। এটা কমে গিয়ে ১৩ শতাংশে নেমে এসেছে। একই সময়ে ৮৭ শতাংশ ডেন-২ শনাক্ত করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গুর একই ধরনে দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হলে গুরুতর পর্যায়ে যায় না। কিন্তু অন্য ধরন দ্বারা আক্রান্ত হলে গুরুতর অবস্থা হয়। যা এ বছর হয়েছে। সামনে আরো চার-পাঁচ বছর ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব থাকবে বলে মনে করছি। রোগীর সিভিয়ারিটিও বাড়বে। মৃত্যুর হারও বাড়তে পারে। কাজেই ডেঙ্গু নিয়ে আমাদের আরো বেশি কাজ করা দরকার।’

আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. তাহমিনা শিরিন বলেন, ‘এ বছর আমরা দেখছি এনএস-১ পজিটিভ না, কিন্তু ডেঙ্গুর উপসর্গ আছে। যেহেতু র‌্যাপিড কিটগুলো খুব বেশি সেনসেটিভ নয়, তাই অনেক ক্ষেত্রে এটি হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের অভিজ্ঞতা, তিন দিনের পর আর এনএস-১ পজিটিভ পাই না। কিন্তু আইজিএম পজিটিভ পাচ্ছি পাঁচ দিন পর থেকে। আমি মনে করি, রোগীর পজিটিভ ফলাফলের চেয়ে রোগীর উপসর্গকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।’

এক দিনে মৃত্যু ১০, হাসপাতালে ২০৪৭

দেশে গত এক দিনে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গুতে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে দুই হাজার ৪৭ জন। এর মধ্যে এক হাজার ৫৮৭ জনই ঢাকার বাইরের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। ঢাকায় ৪৬০ জন।

নতুন রোগীদের নিয়ে বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছে আট হাজার ৩৩৬ জন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগী সংখ্যা বেড়ে হয়েছে দুই লাখ ৩৭ হাজার ২৫১ জন। মৃতের সংখ্যা এক হাজার ১৫৮ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চলতি অক্টোবরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩৩ হাজার ৮৪৫ জন। মৃত্যু ১৬৯ জনের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

9 − seven =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য