ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নতুন ভবনে করোনা ইউনিটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) অগ্নিকাণ্ডে মোমেনা বেগম (৪৫) নামের আরেক রোগী মারা গেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে পুরনো বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল চার। মোমেনার বাড়ি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের মাছিমপুরে।
গত বুধবার আইসিইউয়ে আগুন লাগে। গতকাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছে ফায়ার সার্ভিস ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গঠিত তদন্ত কমিটি। তাত্ক্ষণিকভাবে আগুন লাগার কারণ এবং গাফিলতি সম্পর্কে সুস্পষ্ট কোনো মন্তব্য করেননি তদন্ত কমিটির সদস্যরা।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের উপপরিচালক ও তদন্ত কমিটির প্রধান নূর হাসান সাংবাদিকদের বলেন, ‘তদন্তের কাজ চলছে। এখন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছি। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছি। এ ছাড়া বিভিন্ন লোকের সাক্ষ্য নিচ্ছি। আশা করছি, শিগগিরই প্রতিবেদন দাখিল করতে পারব।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আগুন কিভাবে লেগেছে তা প্রাথমিকভাবে ধারণা করে বলার মতো কিছু নেই। হাসপাতালে অগ্নিনির্বাপণব্যবস্থা ছিল কি না, তা-ও তদন্ত করে দেখছি। এখনই ঢালাওভাবে কিছু বলা যাবে না।’
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজমুল হক জানান, সকালে পিডাব্লিউডির ইলেকট্রিক ইঞ্জিনিয়াররা ক্ষতিগ্রস্ত আইসিইউ পরিদর্শন করেছেন। এ ছাড়া সেটি মেরামতের জন্য টেকনিশিয়ানরা পরিদর্শন করবেন।
এক প্রশ্নের জবাবে পরিচালক বলেন, ঢাকা মেডিক্যালে দুটি করোনা ইউনিট রয়েছে। একটি নতুন ভবনে, আরেকটি পুরনো বার্ন ইউনিটে। পুরনো বার্ন ইউনিটে ১০ বেডের একটি কভিড আইসিইউ ছিল। সেখানে পাশেই একটি পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ড ছিল। সেখানে দুটি বিভাগ মিলে এখন মোট ২০ বেডের আইসিইউ চালু করা হয়েছে। কভিড রোগীদের চিকিৎসায় কোনো সমস্যা হচ্ছে না। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আরো ১০টি আইসিইউ বেড চালু করা হবে।
