Tuesday, April 28, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeনিবেদনপুরনো কাসুন্দি! ২০২৪ আমাদেরকে আবারও তটস্থ করছে?

পুরনো কাসুন্দি! ২০২৪ আমাদেরকে আবারও তটস্থ করছে?

ছোটবেলায় আমার একটা অভ্যাস ছিল বড় ভাই যেটাই করে আমিও সেটাই করতে চেষ্টা করতাম। বড় ভাইয়ের পছন্দের বিষয় ছিল গণিত। প্রথম আলোর আয়োজনে গণিত অলিম্পিয়াডে নিয়মিত অংশগ্রহণ করতো। সেখানে চ্যাম্পিয়ন-ট্যাম্পিয়ন হয়ে জাতীয় পর্যায়ে গণিত অলিম্পিয়াড টিমের সাথেও থাকতো। গণিত বিষয়টা আমার একদমই পছন্দ ছিল না, তবু পিচ্চি অবস্থায় বড় ভাইয়ের দেখাদেখি আমিও যেতাম গণিত অলিম্পিয়াডে। একবার নটরডেম কলেজে গণিত অলিম্পিয়াডে গেলাম। শুনলাম সেখানে নাকি Muhammed Zafar Iqbal স্যারও আসবেন। সে সময়ে আমার চরম প্রিয় লেখক। অটোগ্রাফ নেবার জন্য ওনার মোটা একটা কিশোর উপন্যাস সমগ্র নিয়ে গেলাম। সেখানে দেখি প্রিয় লেখক হেঁটে বেড়াচ্ছেন। অটোগ্রাফ শিকারের সুবর্ণ সুযোগ! কিন্তু সমস্যা হল, আমি এমনই লাজুক ছিলাম যে ওনার কাছে গিয়ে “অটোগ্রাফ দিন” বলতেও লজ্জা পাচ্ছিলাম। ওনার আশপাশে গিয়ে বইটা হাঁতে লাজুকভাবে মাথা নিচু করে ঘুরঘুর করছিলাম। খুবই বিব্রতকর অবস্থা!
[কারো সামনে মুখ ফুটে দরকারী জিনিস বলতে না পারার এই অভ্যাসটা এখনও আছে।]
.
মাথা নিচু করে হাঁটছি আর হাঁটছি। মনে মনে ভাবছি, দূর ছাই, অযথাই এই ঢাউস বইটা নিয়ে এলাম। অটোগ্রাফ তো আর নিতে পারলাম না! এমন সময় হঠাৎ করে একটা কণ্ঠ বলে উঠলোঃ “আমার বই নিয়ে হাঁটাহাঁটি করছো, অটোগ্রাফ নিবা নাকি?” 
মাথা তুলে দেখি Muhammed Zafar Iqbal স্যার!! আমার একদম পাশে দাঁড়িয়ে! খুব মজা পাচ্ছেন এমন ভঙ্গিতে আমার দিকে তাঁকিয়ে আছেন। লজ্জায় আমার মাথা কাটা যাচ্ছিল। কিছু বলতেও পারছিলাম না। বিড়বিড় করে কিছু একটা বলতে যাবো এমন সময়ে তিনি নিজেই হাত বাড়িয়ে আমার হাত থেকে বইটা নিয়ে নিলেন। এরপর জিজ্ঞেস করলেনঃ “তোমার নাম কী?”
আমি নাম বললাম। উনিও ঝটপট অটোগ্রাফ দিয়ে দিলেন। আমি ‘বিশ্বজয়ের’ খুশী নিয়ে চলে এলাম! যেতে যেতে পেছনে ফিরে দেখি আমার অটোগ্রাফপ্রাপ্তি দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে অনেকগুলো ছেলেমেয়ে অটোগ্রাফের জন্য ওনার উপর প্রায় ঝাঁপিয়ে পড়েছে…
.
ছোটবেলায় যার বইগুলো রীতিমত গোগ্রাসে গিলতাম তিনি হচ্ছেন ড. Muhammed Zafar Iqbal। ২০১২ সাল পর্যন্ত ওনার প্রায় সব বইই আমার পড়া। কিন্তু এরপর থেকে আস্তে আস্তে আমার প্রিয়র জায়গা থেকে ওনার পতন। কেননা সুখপাঠ্য বইগুলোর মাঝে মাঝে ইসলামের বিভিন্ন নিদর্শনের বিরুদ্ধে সূক্ষ্ম সব বিষ ঢোকানো থাকতো। তার কিশোর উপন্যাসগুলোর ভিলেন থাকতো দাড়ি-টুপিওয়ালা ধার্মিক ব্যক্তিরা। ছোটবেলায় সেগুলো ধরতে পারতাম না তা নয়। কিন্তু প্রিয় লেখকের ব্যাপারে সুধারণা রাখার চেষ্টা করতাম। কিন্তু আস্তে আস্তে সুধারনা রাখাটাও বোকামী বলে মনে হতে লাগলো। এতো প্রিয় একজন লেখকের ব্যাপারে ধারণা পরিবর্তন হওয়া সহজ বিষয় না। ওনার এতগুলো বইতে এতো পরিমাণে সূক্ষ্ম ইসলামবিদ্বেষ আছে যার তালিকা নেহায়েত ছোট নয়। মানুষ যার ভক্ত হয়, তার মনোজগতে সেই ব্যক্তির মতাদর্শের প্রভাব পড়া অসম্ভব কিছু না। আমার প্রজন্মের বহু ছেলেমেয়ে ওনার বই পড়ে বড় হয়েছে। এদের যারা আজ ইসলামবিদ্বেষীতে পরিনত হয়েছে, এর পেছনে কি ছোটবেলায় পড়া বই-পুস্তকের কোনো ভূমিকাই নেই? আল্লাহ তা’আলাই সর্বজ্ঞানী।
.
২০২৩ শিক্ষাবর্ষের স্কুলের পাঠ্যবই নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। বহু রকমের ভুল তথ্য, ইসলামবিদ্বেষ এবং নকল করাসহ অনেক অভিযোগ রয়েছে পাঠ্যবই নিয়ে। নকল করার অভিযোগ উঠেছে ড. Muhammed Zafar Iqbal এবং আরো কিছু লেখকের সম্মিলিতভাবে লেখা একটি বইয়ের ব্যাপারে। Muhammed Zafar Iqbal স্যার অভিযোগের যথার্থতা স্বীকার করেছেন এবং সংশোধণের ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন। সে জন্য ওনাকে সাধুবাদ। কিন্তু ওনার প্রতি আমাদের মূল অভিযোগের জায়গাটা ভিন্ন। যেটা উপরেই উল্লেখ করেছি। আজকে পাঠ্যবইতে যে ইসলামবিদ্বেষের অভিযোগ উঠছে, এই জাতীয় অনেক জিনিসের Lite version বহুকাল আগে থেকেই Muhammed Zafar Iqbal স্যারের বইতে পাওয়া যেতো। 
*** উদাহরণঃ https://drive.google.com/file/d/1oi7m2iuDRv80S_708RvhMvgHoJB5yoUH/view?usp=share_link
.
আমাদের নিকট যে কারো চেয়ে প্রিয় হচ্ছেন আল্লাহ তা’আলা এবং তাঁর রাসুল(ﷺ)। দ্বীন ইসলামের কোনো নিদর্শনের প্রতি যারা বিদ্বেষ ছড়ায় তাদেরকে কখনো আমরা আন্তরিকভাবে ভালোবাসতে পারি না। ওনার বিভিন্ন বইতে ইসলামের নিদর্শনগুলো নিয়ে নানা বিদ্বেষপূর্ণ জিনিসের জন্য আস্তে আস্তে ওনার প্রতি বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠা। যার ফলশ্রুতিতে হয়তো ওনার পেইজের বিভিন্ন পোস্টে ‘হাহা রিএকশন’ দিয়েছি। বিভিন্ন স্থানে শ্লেষাত্মক মন্তব্যও করেছি। কিন্তু মনের কোণে একটা দুঃখ ঠিকই জমে ছিল। এখনও আছে। যার সুখপাঠ্য বইগুলো পড়ে ছোটবেলায় অনেক সুন্দর কিছু সময় পার করেছি, তার ব্যাপারে এমন মনোভাবে আমি রাখতে চাই না। আন্তরিকভাবেই চাই Muhammed Zafar Iqbalকে যেন আল্লাহ হেদায়েত দান করেন। যদি কখনো সম্ভব হয় আমি ওনার সাথে কথা বলবো, ইন শা আল্লাহ। ওনার নিকটজন যারা আছেন তাঁদের প্রতি অনুরোধ Muhammed Zafar Iqbal স্যারকে দ্বীন ইসলামের ব্যাপারে ভ্রান্ত ধারণাগুলো দূর করে দ্বীনের পথে দাওয়াহ দেয়ার জন্য। আর যদি তিনি হেদায়েতের পথে না আসেন; তাহলে ইসলামের নিদর্শনের প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারীদের প্রতি আমারও বিদ্বেষ আছে এবং রয়ে যাবে ইন শা আল্লাহ।
.
আমি চাই আগের মতো আবারও Muhammed Zafar Iqbal স্যারের ভক্ত হতে। আবারও অটোগ্রাফ নিতে। আল্লাহ আমার সে ইচ্ছা পূরণ করুন, স্যারকে হেদায়েত দান করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

4 + 2 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য