Wednesday, April 22, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeকুরআন ও হাদীসপ্রতিদিন অতীব প্রয়োজনীয় একটি হাদিস জেনে নেই!!

প্রতিদিন অতীব প্রয়োজনীয় একটি হাদিস জেনে নেই!!

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَأَقَامَ الصَّلَاةَ وَصَامَ رَمَضَانَ كَانَ حَقًّا عَلَى اللَّهِ أَنْ يُدْخِلَهُ الْجَنَّةَ جَاهَدَ فِي سهل اللَّهِ أَوْ جَلَسَ فِي أَرْضِهِ الَّتِي وُلِدَ فِيهَا» . قَالُوا: أفَلا نُبشِّرُ النَّاسَ؟ قَالَ: «إِنَّ فِي الْجَنَّةِ مِائَةَ دَرَجَةٍ أَعَدَّهَا اللَّهُ لِلْمُجَاهِدِينَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ مَا بَيْنَ الدَّرَجَتَيْنِ كَمَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ فَإِذَا سَأَلْتُمُ اللَّهَ فَاسْأَلُوهُ الْفِرْدَوْسَ فَإِنَّهُ أَوْسَطُ الْجَنَّةِ وَأَعْلَى الْجَنَّةِ وَفَوْقَهُ عَرْشُ الرَّحْمَنِ وَمِنْهُ تُفَجَّرُ أنهارُ الجنَّةِ» . رَوَاهُ البُخَارِيّ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ এবং তার রসূলের প্রতি ঈমান আনে, সালাত কায়িম করবে, রমাযানের সিয়াম পালন করবে, আল্লাহর পথে জিহাদ করবে বা স্বীয় জন্মভূমিতে অবস্থান করে- তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো আল্লাহর ওপর হক ও দায়িত্ব হয়ে যায়। অতঃপর লোকেরা (সাহাবায়ে কিরাম) বললেন, আমরা কি জনগণের মাঝে এ সুসংবাদ জানিয়ে দিব না? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, আল্লাহর পথে জিহাদকারীদের জন্য আল্লাহ তা’আলা জান্নাতে একশ’ মর্যাদা প্রস্তুত করে রেখেছে। প্রতি দু’ শ্রেণীর মর্যাদার মাঝে দূরত্বের পরিমাণ আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর মধ্যবর্তী দূরত্বের সমান। সুতরাং তোমরা যখন আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করবে, তখন তার নিকট (জান্নাতুল) ফিরদাওস প্রার্থনা করবে। কেননা তা জান্নাতের মধ্যম ও সর্বোত্তম জান্নাত। তার উপরিভাগে আল্লাহর ’আরশ এবং সেখান থেকে জান্নাতের ঝর্ণাসমূহ প্রবাহিত হয়। (বুখারী)[1]

[1] সহীহ : সহীহুল বুখারী ২৭৯০, মুসনাদ আহমাদ ৮৪৭৪।

ব্যাখ্যা: ‘‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি ঈমান আনবে, সালাত কায়িম করবে এবং সিয়াম পালন করবে, আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন’’ এ বাক্যে ইসলামের রুকন ও সালাত এবং সিয়ামের মতো বাহ্যিক ‘আমল হওয়া সত্ত্বেও হজ্জ/হজ ও যাকাতের কথা আলোচনা না করার কারণ :

ইবনু বাত্ত্বল বলেনঃ ‘‘যাকাত ও হজে/হজ্জের আলোচনা না করার কারণ হচ্ছে তা তখনও ফরয হয়নি’’। ইমাম ইবনু হাজার আল ‘আস্ক্বালানী বলেনঃ বরং বর্ণনাকারীদের কোনো একজনের কাছ থেকে এর উল্লেখ বাদ পড়ে গেছে। কেননা তিরমিযীতে মু‘আয বিন জাবাল -এর হাদীসে হজে/হজ্জের কথা উল্লেখ রয়েছে এবং তিনি উক্ত হাদীসে বলেছেনঃ ‘‘আমি জানি না (আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যাকাতের উল্লেখ করেছেন কিনা’’। তাছাড়া উক্ত হাদীসটি ইসলামের রুকনসমূহ বর্ণনা প্রসঙ্গে নয়। সুতরাং যদি তা সংরক্ষিত হয়ে থাকে তাহলে হাদীসে যা উল্লেখ রয়েছে (সালাত ও সিয়াম) তাতেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত, যেহেতু এ ‘আমল অধিকাংশ সময় বার বার করা হয়ে থাকে। আর যাকাত তো কেবল তার ওপরই ফরয, যে শর্তানুসারে নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদের মালিক। আর হজ্জ/হজ তো বিলম্ব করার অবকাশের সাথে জীবনে মাত্র একবার আদায় করা ওয়াজিব।

(ফাতহুল বারী ৬ষ্ঠ খন্ড, হাঃ ২৭৯০)

(جَاهَدَ فِي سَبِيلِ اللّٰهِ أَوْ جَلَسَ فِي أَرْضِهِ الَّتِي وُلِدَ فِيهَا) ‘‘(আল্লাহ তা‘আলা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন) চাই সে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করুক কিংবা তার মাতৃভূমিতে বসে থাকুক, যেখানে সে জন্মলাভ করেছে’’ এ বাক্যে ঐ ব্যক্তির জন্য সান্তনা ও আশার বাণী রয়েছে যে জিহাদ থেকে বঞ্চিত হয়েছে, এই মর্মে যে, সে তার ‘আমলের প্রতিদান থেকে বঞ্চিত হবে না। বরং তার ঈমান ও অন্যান্য আবশ্যকীয় ফরযসমূহ দৃঢ়ভাবে পালনের সাওয়াব তাকে জান্নাতে পৌঁছে দিবে, যদিও জান্নাতে মুজাহিদদের মর্যাদার তুলনায় তার মর্যাদা কম হবে। (ফাতহুল বারী ৬ষ্ঠ খন্ড, হাঃ ২৭৯০)

‘‘তারা বললঃ আমরা কি মানুষকে সুসংবাদ দিব না?’’ তিরমিযীর বর্ণনামতে মু‘আয বিন জাবাল এবং ত্ববারানীর বর্ণনামতে আবুদ্ দারদা এ কথা বলেছিলেন। তিরমিযীর বর্ণনায় রয়েছে, মু‘আয বিন জাবাল বলেন, আমি বললামঃ

 ألا أخبر بهذا الناس ؟ فقال رسول الله ﷺ ذر الناس يعملون فإن الجنة مائة درجة

‘‘অর্থাৎ- আমি কি মানুষকে এ সংবাদ দিব না? তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ মানুষকে (চলমান গতিতে) ‘আমল করতে দাও। কেননা জান্নাতে রয়েছে একশত মর্যাদার স্তর।’’ (ফাতহুল বারী ৬ষ্ঠ খন্ড, হাঃ ২৭৯০)

(مَا بَيْنَ الدَّرَجَتَيْنِ كَمَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ) ‘‘দু’টি স্তরের মাঝে ব্যবধান আকাশ ও জমিনের মাঝের ব্যবধানের ন্যায়’’। একটি হাদীসের বর্ণনায় আছে, আকাশ ও জমিনের মাঝে দূরত্ব পাঁচশত বছরের রাস্তা। (মিরকাতুল মাফাতীহ)

‘আল্লামা ইবনু হাজার আল ‘আসক্বালানী তার ফাতহুল বারীতে উল্লেখ করেন যে, ইমাম তিরমিযী মুহাম্মাদ বিন জুহাদাহ এর সূত্রে বর্ণনা করেন: ‘‘প্রত্যেক দুই স্তরের মাঝে একশত বছরের ব্যবধান’’। আর একই সূত্রে ত্ববারানী বর্ণনা করেন যে, উভয়ের মাঝে পাঁচশত বছরের ব্যবধান। আর উভয় বর্ণনা যদি বিশুদ্ধ হয়ে থাকে তাহলে দূরত্বের পরিমাণে বছর সংখ্যার ভিন্নতা ভ্রমণের গতির ভিন্নতার কারণে। (ফাতহুল বারী ৬ষ্ঠ খন্ড, হাঃ ২৭৯০)

‘‘কেননা তা (জান্নাতুল ফিরদাওস) হচ্ছে জান্নাতসমূহের মধ্যে সবচাইতে মধ্যম এবং সর্বোচ্চ জান্নাত’’ বাক্যে ‘আওসাতুল জান্নাহ্’ তথা ‘মধ্যম জান্নাত’ এর অর্থ হলো সর্বোত্তম জান্নাত। যেমন : আল্লাহ তা‘আলা কুরআনে ইরশাদ করেন : ‘‘আর অনুরূপভাবে আমি তোমাদের সৃষ্টি করেছি উত্তম জাতি হিসেবে। (সূরা আল বাকারা ২ : ১৪৩)

আর ‘‘ওয়া আ‘লাহা’’ তথা ‘সর্বোচ্চ জান্নাত’ এ অংশকে পূর্বের অংশের সাথে (আতফ) মিলানো হয়েছে তাকীদ বা অর্থকে শক্তিশালী করার জন্য। (ফাতহুল বারী ৬ষ্ঠ খন্ড, হাঃ ২৭৯০)

ইমাম ইবনু হিব্বান বলেনঃ ‘‘আওসাত বলতে (জান্নাতুল ফিরদাওসের) প্রশস্ততা এবং আ‘লা বলতে তার উপরে অবস্থিত হওয়া বুঝানো হয়েছে।’’ (ফাতহুল বারী ৬ষ্ঠ খন্ড, হাঃ ২৭৯০)

‘‘আর সেখান থেকে জান্নাতের নহরসমূহ প্রবাহিত হয়’’, অর্থাৎ- জান্নাতুল ফিরদাওস থেকে জান্নাতের চারটি নহর প্রবাহিত হয়। (ফাতহুল বারী ৬ষ্ঠ খন্ড, হাঃ ২৭৯০)

জান্নাতের চারটি নহর হচ্ছে পানি, দুধ, শরাব (মদ) ও মধুর নহর। (মিরকাতুল মাফাতীহ)

জান্নাতুল ফিরদাওস এমন এক বাগান যেখানে সকল প্রকার নি‘আমাতের সমাহার ঘটেছে। আলোচ্য হাদীসে মুজাহিদীনদের মর্যাদা বা ফাযীলাতের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। হাদীসটিতে জান্নাতের বড়ত্ব এবং তন্মধ্যে বিশেষভাবে জান্নাতুল ফিরদাওসের মহত্ব বর্ণনা করা হয়েছে। উক্ত হাদীসে এ বিষয়েও ইঙ্গিত রয়েছে যে, মুজাহিদের মর্যাদা মুজাহিদ ব্যতীত অন্যরাও তাদের একনিষ্ঠ নিয়্যাত কিংবা নেক ‘আমল দ্বারা কখনো কখনো লাভ করতে সক্ষম হবে। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘‘জান্নাতুল ফিরদাওস মুজাহিদীনদের জন্য প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে’’ এ কথার ঘোষণা দেয়ার পরও সকলকেই জান্নাতুল ফিরদাওস লাভের জন্য প্রার্থনা করতে বলেছেন। (আল্লাহই সর্বাপেক্ষা অধিক জানেন)। (ফাতহুল বারী ৬ষ্ঠ খন্ড, হাঃ ২৭৯০)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

thirteen − 3 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য