وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عَلَيْهِ وَسلم: «بَادرُوا بِالْأَعْمَالِ فِتناً كَقِطَعِ اللَّيْلِ الْمُظْلِمِ يُصْبِحُ الرَّجُلُ مُؤْمِنًا وَيُمْسِي كَافِرًا وَيُمْسِي مُؤْمِنًا وَيُصْبِحُ كَافِرًا يَبِيعُ دِينَهُ بِعرْض من الدُّنْيَا» . رَوَاهُ مُسلم
رواہ مسلم (186 / 118)، (313) ۔
(صَحِيح)
আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: তোমরা ভালো ’আমলের দিকে দ্রুত অগবর্তী হও ঘুটঘুটে তিমির রাত্রির অংশ সদৃশ ফিতনার পতিত হওয়ার পূর্বেই যখন কোন লোক ভোরে উঠবে ঈমানদার হয়ে আর সন্ধ্যা করবে কুফরী অবস্থায় এবং সন্ধ্যা করবে মু’মিন অবস্থায় আর প্রভাতে উঠবে কাফির হয়ে। সে ইহকালীন সামান্য সম্পদের বিনিময়ে নিজের দীন ও ঈমানকে বিক্রয় করে দেবে। (মুসলিম)
সহীহ: মুসলিম ১৮৬-(১১৮), তিরমিযী ২১৯৫, সহীহুল জামি ২৮১৪, সহীহ আত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব ) সিলসিলাতুস সহীহাহ ৭৫৮, মুসনাদে আহমাদ ৮০১৭, আবূ ইয়া’লা ৬৫১৫, সহীহ ইবনু হিব্বান ৬৭০৪, আল মু’জামুল কাবীর লিত্ব তবারানী ৫৫৮, আল মু’জামুল আওসাত্ব ২৭৭৪।
ব্যাখ্যা : আলোচ্য হাদীসে ফিতনার ব্যাপকতা প্রকাশের পূর্বে সৎ কাজের প্রতিযোগিতা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ফিতনাহ্ বলতে মুসলিমদের মাঝে দীন ও দুনিয়াবী বিষয়কে কেন্দ্র করে হত্যা, লুটতরাজ সংঘর্ষ ও পারস্পরিক মতবিরোধ চরম পর্যায়ে পৌছবে। এতে সাধারণ মুসলিমগণ সঠিকভাবে নিরাপদে ‘ইবাদত-বন্দেগী পালন করতে সক্ষম হবে না। ফিতনার ভয়াবহতা এতটাই ব্যাপক হবে যে, একদিনের মাঝেই মানুষ সকাল-সন্ধ্যায় ঈমানহারা হয়ে যাবে। সেই সময়ের ফিতনাকে আঁধার রাতের সাথে তুলনা করে এর রহস্যময় অস্পষ্টতাকে বুঝানো হয়েছে। এর কারণ উদঘাটন ও পরিত্রাণের উপায় বের করাও কঠিন হয়ে যাবে।
ইমাম ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ)-এর মতে, শেষ যামানার ফিতনাগুলো হবে কঠিন, বিভৎস, জটিল ও অস্পষ্ট। অল্প সময়ের ব্যবধানে মানুষের ব্যাপক পরিবর্তন হবে। অর্থাৎ মানুষের কথা, কাজ ও অবস্থার ব্যাপক পরিবর্তন পরিলক্ষিত হবে। যেমন অঙ্গীকার ভঙ্গ করা, আমানতের খিয়ানত করা, সৎ-অসৎ কাজ, সুন্নাত-বিদ্আত এবং ঈমান ও কুফর। অতএব, এসব ফিতনাহ্ হতে দূরে অবস্থান করা ও এর সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সংশ্রব বর্জন করাই সর্বোত্তম। এসব ফিতনাহ্ হতে দূরে থাকার জন্য নবী (সা.) কিছু পদ্ধতি জানিয়ে দিয়েছেন। তন্মধ্যে প্রধান হলো, ধারালো অস্ত্র ভোঁতা করে দেয়া। এসব ফিতনায় কেউ যদি কোনভাবে আক্রান্ত হয়, তবে সেক্ষেত্রে আদম (আঃ)-এর পুত্রদ্বয়ের মাঝে শ্রেষ্ঠ হাবিলের ভূমিকা পালন করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সে কারণেই “ইবাদত ও সৎকর্ম সম্পাদনে প্রতিযোগিতার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)।
ইমাম ইবনু মাজাহ ও ইমাম তবারানী (রহিমাহুল্লাহ) আবূ উমামাহ হতে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেন যে, শীঘ্রই এমন ফিতনাহ্ আপতিত হবে যে, সকালে মানুষ মু’মিন থাকবে সন্ধ্যায় কাফির হয়ে যাবে। তবে আল্লাহ যাকে জ্ঞানের মাধ্যমে পরিত্রাণ দিবেন সে ব্যতীত। (শারহু ইবনে মাজাহ ২/১৩০৫)
ইমাম তিরমিযী ও ইমাম হাকিম (রহিমাহুল্লাহ) তদীয় গ্রন্থদ্বয়ে আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, তোমরা সাতটি বিষয়ের অপেক্ষার পূর্বে সৎকাজে প্রতিযোগিতা কর, সেগুলো হলো : বিস্মৃতকারী দারিদ্রতা, সীমালঘনকারী সচ্ছলতা, ধ্বংসাত্মক ব্যাধি, হঠাৎ মৃত্যু অথবা দাজ্জালের আগমন।
