প্রথমবারের মতো ফিলিস্তিনের জন্য একজন রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দিয়েছে সৌদি আরব। যাকে স্বাগত জানিয়েছেন ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা।
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট অনুসারে- জর্ডানে বর্তমান রাষ্ট্রদূত নায়েফ আল-সুদাইরিকে ফিলিস্তিনের অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে দেশটি, এখন থেকে আম্মানের পাশাপাশি জেরুসালেমের কনসাল জেনারেল হিসেবেও কাজ করবেন তিনি।
শনিবার ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা বলেন, তারা এটিকে তাদের প্রতি সৌদি আরবের অটুট সমর্থন হিসেবেই দেখছেন।
এদিকে, নিয়োগ পাওয়ার পর আল-সুদাইরি আম্মানে ফিলিস্তিনি দূতাবাসে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা মাজদি আল-খালিদির কাছে তার পরিচয়পত্র জমা দিয়েছেন।
এক টিভি সাক্ষাতকারে আল-সুদাইরি বলেন, তার নিয়োগটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, ফিলিস্তিনের সাথে সম্পর্ক জোরদার করার জন্য বাদশাহ সালমান এবং ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের অভিপ্রায়ের বহিঃপ্রকাশ।
আল-খালিদি এই নিয়োগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এই পদক্ষেপ দুই দেশ এবং দুই ভ্রাতৃপ্রতিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে শক্তিশালী ও দৃঢ় ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ককে শক্তিশালী করতে অবদান রাখবে।
জর্ডানের সৌদি দূতাবাস আগে থেকেই ফিলিস্তিনিদের প্রয়োজনীয় দূতাবাস সেবা দিয়ে আসছিল।
এই নিয়োগ বিষয়ে ফিলিস্তিনি বিশ্লেষক তালাল ওকাল বলেন, নতুন নিয়োগটি অধিকৃত পশ্চিম তীরে একটি সৌদি দূতাবাস প্রতিষ্ঠার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে দেখা যেতে পারে। সৌদি আরব একটি সার্বভৌম ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের অধিকারের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, এই পদক্ষেপ তা আরো একবার স্মরণ করিয়ে দেয়।
তবে জেরুসালেমে ফিলিস্তিনিদের জন্য দূত নিয়োগের ঘোষণায় আপত্তি জানিয়েছে ইসরাইল। অবৈধ দেশটি বলছে, তারা জেরুসালেমে সৌদি দূতকে গ্রহণ করবে না।
ফিলিস্তিনের জন্য সৌদি রাষ্ট্রদূত নিয়োগের ঘটনাটি এমন সময় ঘটেছে, যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইল-সৌদি সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে চাইছে। যদিও তা পশ্চিম তীরে ইসরাইলি হামলা বন্ধ ও সৌদি পারমাণবিক প্রকল্পে যুক্তরাষ্ট্রের সম্মতির মতো বিষয়গুলোতে আটকে আছে।
সূত্র : আলজাজিরা, আরব নিউজ

