Monday, April 27, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরমাললদ্বীপের পর্যটন বয়কট ভারতীয়দের!

মাললদ্বীপের পর্যটন বয়কট ভারতীয়দের!

সামাজিক মাধ্যমে মালদ্বীপকে বয়কট করার প্রচারণা ব্যাপকভাবে চলছে। এমনকি আগেই বিমান-হোটেল বুকিং করা অনেক ভারতীয় তা বাতিল করে দিচ্ছে।


বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মালদ্বীপের তিন মন্ত্রী ভারত এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করার পর থেকে কমপক্ষে ১৪ হাজার হোটেল এবং প্রায় চার হাজার বিমানের টিকিট বাতিল করেছে ভারতীয়রা। এটি মালদ্বীপের পর্যটন এবং অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ভারতের এক জনপ্রিয় ভ্রমণ সংস্থাও মালদ্বীপ যাওয়ার সমস্ত বিমানের টিকিট বুকিং বাতিল করে দিয়েছে ইতিমধ্যেই। ওই সংস্থার মালিক জানিয়েছেন, দেশের প্রতি আনুগত্য এবং সহানুভূতি থেকে তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রোববার রাতে ওই সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা নিশান্ত পিট্টি ‘এক্স (সাবেক টুইটার)’ হ্যান্ডলে লেখেন, ‘আমাদের দেশের পাশে দাঁড়িয়ে আমরা মালদ্বীপের সমস্ত বিমানের টিকিটের বুকিং বাতিল করে দিয়েছি।’ অর্থাৎ, যারা ওই সংস্থার মাধ্যমে মালদ্বীপে যাওয়ার বিমানের টিকিট কেটেছিলেন, তাদের টিকিট বাতিল করে দেয়া হয়েছে।

মালদ্বীপকে বয়কট করার ডাকও দিয়েছেন বলিউড এবং ক্রিকেট মহলের বড় তারকারা। মালদ্বীপ না গিয়ে ভারতীয় দ্বীপগুলো ঘুরে দেখার আবেদন করে গলা মিলিয়েছেন তারা।

দেশের পর্যটন ব্যবসাকে বিপদের মুখে পড়তে দেখে তড়িঘড়ি ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’ করতে নেমে পড়েছে মালদ্বীপ সরকার। ভারতীয়রা মালদ্বীপে ঢুঁ মারা বন্ধ করে দিলে দেশের অর্থনীতি বিপদের মুখে পড়তে পারে ভেবে ভুল শোধরানোর চেষ্টা শুরু করেছে মালদ্বীপের সরকার। কারণ মলদ্বীপের অর্থনীতি অনেকটাই পর্যটন নির্ভর। সারা বছর ভারতীয় পর্যটকদের ভিড় লেগেই থাকে ভারতের দক্ষিণ-পশ্চিমে ভারত মহাসাগরের উপরে অবস্থিত ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্রে।

ভারত এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে ‘আপত্তিকর মন্তব্য’ করার অভিযোগে ওই তিন মন্ত্রীকেই সাসপেন্ড করেছে মালদ্বীপ সরকার।

ভারত নিয়ে কুমন্তব্যের জেরে সরকারের ওই তিন প্রতিনিধির সমালোচনা করেছে সে দেশের পর্যটন বিভাগও।

রোববার এনডিটিভিকে দেয়া একটি সাক্ষাৎকারে তার দেশের মন্ত্রীদের মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন মালদ্বীপের এমপি তথা সাবেক ডেপুটি স্পিকার এলভা আবদুল্লাহ। ওই প্রসঙ্গে এলভা বলেন, ‘ভারত ঠিকই বলছে। এমন মন্তব্যে রেগে যাওয়াই উচিত। যে মন্তব্য করা হয়েছে, তা আপত্তিকর। তবে, ওই মন্তব্য মালদ্বীপের সাধারণ মানুষের মতামত নয়। আমি ব্যক্তিগতভাবে ওই লজ্জাজনক এবং বৈষম্যমূলক মন্তব্যের জন্য ভারতের মানুষের কাছে ক্ষমা চাইছি।’ মন্ত্রীদের বিতর্কিত মন্তব্য ভুলে গিয়ে ভারতের মানুষকে আবার মালদ্বীপে ‘ফিরতে’ বলেছেন এমপি এলভা।

এই বিতর্কের সূত্রপাত রয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির লাক্ষাদ্বীপ সফরের মধ্যে। প্রশাসনিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি কেন্দ্রশাসিত দ্বীপরাজ্যের সমুদ্রসৈকতেও অনেকটা সময় কাটিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ফিরে এসে সেই সফরের স্মৃতিচারণাও মোদি করেছেন। সফরে কাটানো মুহূর্তের প্রচুর ছবিও তিনি সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছেন।

লাক্ষাদ্বীপের সমুদ্রে প্রধানমন্ত্রী মোদির স্নর্কেলিং (এক ধরনের জলক্রীড়া) করা, সাদা বালির ওপর ভ্রমণ বা বিশাল নীল সৈকতে বিশ্রাম নেয়ার ছবি প্রকাশ্যে আসার পরেই বিতর্কের শুরু।

অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী ছবিগুলো সমাজমাধ্যমে পোস্ট করার পর মালদ্বীপ সরকারের তিন মন্ত্রী মরিয়ম শিউনা, মালশা শরিফ এবং মাহজুম মাজিদ ওই ছবিগুলো নিয়ে অপমানজনক মন্তব্য করেছেন। প্রধানমন্ত্রীকে ‘জোকার’ এবং ‘ইসরাইলের ক্রীড়নক’ বলা হয়েছে। কটাক্ষ করা হয়েছে ভারতীয় সংস্কৃতি নিয়েও। এর পরেই বিতর্কের মুখে পড়েন ওই তিন মন্ত্রী এবং মালদ্বীপ সরকার। বিতর্কের মুখে পড়ে নিজেদের পোস্টগুলোও মুছে ফেলেন তারা। সেই সব পোস্টের ছবি (স্ক্রিনশট) সমাজমাধ্যমে ঘুরছে।

বিতর্ক শুরু হতেই ভারত এবং প্রধানমন্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়েছেন অক্ষয় কুমার, সচিন তেন্ডুলকর, সলমন খান, কঙ্গনা রানাউত, জন আব্রাহাম, শ্রদ্ধা কাপুর, হার্দিক পাণ্ড্যের মতো তারকারা। মালদ্বীপ যেতে বারণ করার পাশাপাশি, দেশবাসীকে ভারতীয় দ্বীপগুলো অন্বেষণ করার বার্তাও দিয়েছেন তারা।

প্রথমে তিন মন্ত্রীর মন্তব্য থেকে দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করেছিল মালদ্বীপের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহম্মদ মুইজুর সরকার। কিন্তু ওই দেশেরই সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহম্মদ নাসিদ, মোহম্মদ সোলিসহ একাধিক বিরোধী নেতা-মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি তোলেন। ভারতের মতো বন্ধু দেশের প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে জানান তারা। এর পরই ওই তিন মন্ত্রীকে সাসপেন্ড করা হয়।

তবে এই প্রথম না, ভারত এবং মালদ্বীপের সম্পর্কে চিড় ধরতে শুরু করেছে অনেক আগে থেকেই। ওই দেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে মাইজ্জু নির্বাচিত হওয়ার পর কূটনৈতিক সম্পর্কেও বেশ কিছুটা ফাটল ধরেছে।

মালদ্বীপের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহম্মদ সোলি ভারতকে অগ্রাধিকার দেয়ার যে নীতি নিয়ে চলতেন, সেই ‘ইন্ডিয়া ফার্স্ট’ নীতি থেকে সরে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়েই ভোটের ময়দানে নেমেছিলেন ‘চীনপন্থী’ হিসাবে পরিচিত মুইজু। তিনি জিত‌েও যান। তার পর থেকেই তিনি ভারতকে চাপে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞেরা।

মালদ্বীপের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক এবং শিল্পক্ষেত্রের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল ভারতীয় সেনা। দূরবর্তী দ্বীপগুলোতে ওষুধ এবং ত্রাণ পাঠাত ভারতীয় বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টারগুলো। কিন্তু সম্প্রতি ভারতকে সেই সেনাসদস্যদের সরিয়ে ফেলার বার্তা দেয় মুইজু সরকার। ভারতীয় সেনাসদস্যদের অপসারণের বিষয়ে মোদি সরকারকে অনুরোধ জানানোর পর ভারতের সাথে চার বছরের পুরনো একটি চুক্তিও বাতিল করে মালদ্বীপের নতুন সরকার।

মুইজুর এই ‘ইন্ডিয়া আউট’ নীতিকে মালদ্বীপের কূটনৈতিক অবস্থানে বড়সড় পরিবর্তনের সূচক বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনীতির বিশেষজ্ঞদের একাংশ। ভারত-ঘনিষ্ঠতা এড়িয়ে সম্প্রতি নতুন বন্ধু খোঁজার চেষ্টাও নাকি করছে মালদ্বীপ। গণতন্ত্রের রাস্তা ধরে পথচলা শুরু করার পর মালদ্বীপের সব প্রেসিডেন্টেরই প্রথম গন্তব্য হয়েছে ভারত। এমনকি, ভারত-বিরোধী বলে পরিচিত প্রেসিডেন্টরাও শপথ নেয়ার পর প্রথম বিদেশ সফরে ভারতেই এসেছেন। কিন্তু মুইজু সেই নিয়ম ভেঙে দিয়েছেন।

মুইজু তার বিদেশ সফর শুরু করেছিলেন তুরস্কে গিয়ে। ভারতে আসার আগেই এবার চীন সফরে যেতে চলেছেন তিনি। প্রথম বন্ধু হিসেবেই যে দেশকে মুইজু বেছে নিয়েছেন, সেই তুরস্কের সাথে ভারতের সম্পর্ক খুব একটা ‘মধুর’ নয়। কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা (৩৭০ ধারা) তুলে দেয়া নিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যেই সরব হয়েছিল তুরস্ক।

তবে ভারতসংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মত, মুইজুর ‘ইন্ডিয়া আউট’ নীতির নেপথ্যে কাজ করছে চীনের উস্কানি। ভারতের ক্ষেত্রে সার্বভৌমত্বের যুক্তি খাড়া করলেও মুইজুর প্রশাসন কিন্তু সে দেশে চীনের একটি নজরদার জাহাজকে প্রবেশাধিকার দিয়েছে। সূত্রের খবর, কলম্বো বন্দরকে পোতাশ্রয় হিসাবে ব্যবহার করতে না-পেরে মালদ্বীপের কোনো বন্দরে ভিড়তে চলেছে সেটি।

মুইজুর সিদ্ধান্তের কারণে ভারতের জন্য ক্রমশ মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে দ্বীপরাষ্ট্র। আপাতত মুইজুকে নিয়ে কড়া অবস্থান নেয়ারই ইঙ্গিত দিয়েছে নয়াদিল্লি। মালদ্বীপের পরিবর্তিত বিদেশনীতি, সেখানকার ঘরোয়া রাজনীতির ওঠাপড়া, মুইজুর চীন-‘ঘনিষ্ঠতা’র দিকেও কড়া নজর রেখেছে ভারত।

সূত্র : আনন্দবাজার এবং অন্যান্য

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

two × 3 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য