Wednesday, April 22, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরআন্তর্জাতিকযুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও গাজায় ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর নির্দেশ ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর

যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও গাজায় ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর নির্দেশ ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর

ইসরাইল প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরাইল কাটজ গত শনিবার বলেছেন, গাজার যেই অংশ এখনো ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, সেই অংশে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে যেতে হবে। এটি হলো সমঝোতার প্রথম ধাপের অংশ, যা যুদ্ধবিরতি ও বন্দী বিনিময় চুক্তি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ কাটজ বলেন, ‘আমি আইডিএফ (ইসরাইলি সেনাবাহিনী)-কে নির্দেশ দিয়েছি, তারা বর্তমানে আমাদের নিয়ন্ত্রণাধীন হলুদ অঞ্চলে (ইয়েলো জোন) সুড়ঙ্গ ধ্বংসকে কেন্দ্রীয় কাজ হিসেবে অগ্রাধিকার দিক, পাশাপাশি সৈন্য ও জনগণকে সুরক্ষিত করার কাজটি চালিয়ে যাক’। তিনি বলেন, এটি মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা চলাকালীন করা হচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট, পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা সচিব, প্রেসিডেন্টের দূত এবং সেন্টকম কমান্ডাররা, যাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা যায় এবং নিশ্চিত করা যায় যে, সমস্ত সন্ত্রাসী সুড়ঙ্গ সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা হয়েছে এবং হামাসকে নিরস্ত্রীকরণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমার মতে গাজায় বিজয় অর্জনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগণ লক্ষ্য, ‘হামাসের সুড়ঙ্গ ধ্বংসের মাধ্যমে গাজাকে নিরস্ত্রীকরণ করা, পাশাপাশি হামাসকে নিরস্ত্রীকরণ করা’। কাটজ আরো বলেন, সবচেয়ে জরুরি নৈতিক মিশন হলো, সব বন্দী এবং শহীদদের তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে আনা। আমরা এ পবিত্র এবং গুরুত্বপূর্ণ মিশন সম্পন্ন করতে সবকিছু করব। গাজায় হিরোয়িক আইডিএফ (ইসরাইলি সেনাবাহিনী)’র অর্জিত মহান বিজয় সুনিশ্চিত করার প্রধান কৌশলগণ মিশন হলো গাজাকে নিরস্ত্রীকরণ করা, বিশেষত বাকি ৬০ শতাংশ সুড়ঙ্গ ধ্বংস করা, একইসঙ্গে হামাসকে নিরস্ত্রীকরণ করা।

তবে, আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো বারবারই ইসরাইলের গাজায় সামরিক হামলার ন্যায্যতা চ্যালেঞ্জ করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)-এর তথ্য মতে, ইসরাইল ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে সিস্টেম্যাটিকভাবে শতাধিক হাসপাতালকে লক্ষ্যবস্তু করেছে, যার মধ্যে অন্তত ৩২টি হাসপাতাল এবং ৫৩টি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) আল-শিফা, নাসের, ইন্দোনেশিয়ান এবং আল-কুদস হাসপাতালে বড় ধরনের হামলার তথ্য সংরক্ষণ করেছে। এসব হামলায় চিকিৎসক, রোগী এবং আশ্রয় নেয়া অসংখ্য সাধারণ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। সংস্থা এবং অন্যান্য স্বাধীন পর্যবেক্ষকরা রিপোর্ট করেছে যে, এসব হামলা গাজার স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে শূন্য করে দিয়েছে। ইনকিউবেটরের বিদ্যুৎ চলে যাবার কারণে প্রি-ম্যাচিউর শিশুদের মৃত্যু হয়েছে, চিকিৎসকরা আটক হয়েছে এবং হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলোকে অস্থায়ীভাবে লাশ সংরক্ষণের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে।

ইসরাইল জানিয়েছে, এসব সুবিধা হামাসের সামরিক কাজে ব্যবহার করা হয়েছে এবং হাসপাতালগুলোকে ‘কমান্ড সেন্টার’ এবং ‘সুড়ঙ্গের স্থান’ হিসেবে ব্যবহার করেছে। তবে ডব্লিউএইচও এবং কয়েকটি মানবাধিকার সংস্থার মতে, এ দাবির কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি। ইসরাইল মাঝেমধ্যে সুড়ঙ্গের উপস্থিতি প্রমাণ করার ডায়াগ্রাম প্রকাশ করেছে, তবে এগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।

সম্প্রতি হামাস ও ইসরাইলের মধ্যে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতার মাধ্যমে ধাপে ধাপে গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। চুক্তিটি গত ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হয়েছে, যদিও ইসরাইল এটি নিয়মিতভাবে ভঙ্গ করেছে। চুক্তির প্রথম ধাপে ফিলিস্তিনি বন্দীদের বিনিময়ে ইসরাইলি বন্দীদের মুক্তি এবং গাজা থেকে আংশিক ইসরাইলি প্রত্যাহার অন্তর্ভুক্ত। এটি গাজা পুনঃনির্মাণ এবং হামাস ছাড়া নতুন শাসন ব্যবস্থাও প্রতিষ্ঠা করে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত ৬৮ হাজার ৫শ’ জনের বেশি নিহত এবং ১ লাখ ৭০ হাজার ৩শ’ জনের বেশি আহত হয়েছে। সূত্র : টিআরটি ওয়ার্ল্ড।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

nineteen − 14 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য