Wednesday, April 22, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরশিশুর সত্য গ্রহণের জন্মগত যোগ্যতা

শিশুর সত্য গ্রহণের জন্মগত যোগ্যতা

আদম (আ.)-কে সৃষ্টির পর আল্লাহ তাআলা রুহের জগতে সবাইকে একসঙ্গে তাঁর প্রভুত্বের স্বীকারোক্তি নিয়েছেন। সেখানে একবাক্যে সবাই আল্লাহকে প্রভু হিসেবে মেনে নিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা সেই সময়ের কথা স্মরণ করিয়ে বলেন, ‘এবং (হে রাসুল! মানুষকে সেই সময়ের কথা স্মরণ করিয়ে দাও) যখন তোমার প্রতিপালক আদম সন্তানদের পৃষ্ঠদেশ থেকে তাদের সন্তানদের বের করেছিলেন এবং তাদেরকে তাদের নিজেদের সম্পর্কে সাক্ষী বানিয়েছিলেন (আর জিজ্ঞেস করেছিলেন যে,) আমি কি তোমাদের রব নই? সবাই জবাব দিয়েছিল, কেন নয়? আমরা সবাই (এ বিষয়ে) সাক্ষ্য দিচ্ছি (এবং এ স্বীকারোক্তি আমি এ জন্য নিয়েছিলাম) যাতে কিয়ামতের দিন তোমরা বলতে না পারো যে, আমরা তো এ বিষয়ে অনবহিত ছিলাম। ’ (সুরা : আল-আরাফ, আয়াত : ১৭২)

এ জন্য প্রতিটি শিশুই মায়ের পেট থেকে সহজাত বিশ্বাস নিয়ে জন্মগ্রহণ করে।

নবজাতকের মধ্যে সত্যের দাওয়াত গ্রহণ করা, তাওহিদ ও রিসালাতের প্রতি ঈমান আনার যোগ্যতা বিদ্যমান থাকে। একটি শিশু যেকোনো পরিবারেই জন্মগ্রহণ করুক না কেন তার ভেতরে এই স্বভাব থাকেই। তার পিতা-মাতা মুসলমান, ইহুদি, খ্রিস্টান অন্য যেকোনো ধর্মাবলম্বী হোক না কেন। তার মধ্যে আল্লাহ তাআলা এই স্বভাব দিয়ে দুনিয়াতে পাঠান। কিন্তু পরবর্তী সময়ে মা-বাবার কারণে সন্তানের মধ্যে পরিবর্তন আসে। সন্তান মা-বাবার অনুসরণ করে। ফলে সে খ্রিস্টান, ইহুদি ও মূর্তিপূজারি ইত্যাদি ধর্মে দীক্ষিত হতে থাকে। পিতা-মাতা তাকে এমন পরিবেশে বেড়ে ওঠায় যার ফলে তার চিন্তা-চেতনা, ধ্যান-ধারণা ওই সব বিষয়ের অনুগামী হয়ে যায়। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, নবী (সা.) ইরশাদ করেন, প্রত্যেক নবজাতক ফিতরাতের ওপর জন্মগ্রহণ করে। অতঃপর তার মাতা-পিতা তাকে ইহুদি বা নাসারা অথবা অগ্নিপূজক বানায়, যেমন—চতুষ্পদ জন্তু একটি পূর্ণাঙ্গ বাচ্চা জন্ম দেয়। তোমরা কি তাকে (জন্মগত) কানকাটা দেখেছ? (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৩৮৫)


প্রত্যেক নিষ্পাপ সন্তানকে আল্লাহ তাআলা মায়ের পেট থেকে ঈমান ও ইসলামের স্বভাবজাত নিয়ে দুনিয়ায় পাঠান। এর জন্য পিতা-মাতার কর্তব্য হলো সন্তানকে আমল-আখলাক, শিষ্টাচারের মাধ্যমে আদর্শ সন্তান হিসেবে গড়ে তোলা। তার চারপাশের পরিবেশ তার অনুকূল করে গড়ে তোলার জন্য চেষ্টা করা। ফিতরাতবিরোধী যত অশুভ শক্তি রয়েছে, তা থেকে সন্তানকে রক্ষা করা। এর ব্যত্যয় হলেই সন্তান ধীরে ধীরে আল্লাহপ্রদত্ত স্বভাব থেকে বিচ্যুত হতে থাকবে।

আল্লাহ তাআলা আমাদের হিফাজত করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

nineteen − 8 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য