Wednesday, April 22, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরশীতার্তদের পাশে দাঁড়ানো সবার দায়িত্ব

শীতার্তদের পাশে দাঁড়ানো সবার দায়িত্ব

শেষ রাতের ঠাণ্ডা বাতাস, ভোরের শিশির ভেজা ঘাস ও কুয়াশার আবেশ শীতের আগমনী বার্তা নিয়ে হাজির হয়েছে। যত দিন যাচ্ছে তত শীতের প্রকোপ বেড়ে চলছে। আস্তে আস্তে মানুষ শীতের পোশাক গ্রহণ শুরু করছে। কিন্তু যাদের শীতের কাপড় নেই, কেনার ক্ষমতাও নেই, তাদের কী হবে? প্রতিবছরই শীতের প্রকোপে বহু অসহায় মানুষকে নিদারুণ কষ্ট সহ্য করতে হয়, কখনো কখনো শীতের প্রকোপে মানুষের মৃত্যুর খবরও পাওয়া যায়।

অসহায় এই মানুষগুলোর পাশে দাঁড়ানো আমাদের সবার দায়িত্ব। কারণ মহান আল্লাহ সমগ্র মুমিন জাতিকে এক দেহের মতো বানিয়েছেন। ফলে দেহের কোনো অংশ আক্রান্ত হওয়া মানে গোটা দেহ আক্রান্ত হওয়া। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘মুমিনদের উদাহরণ তাদের পারস্পরিক ভালোবাসা, দয়ার্দ্রতা ও সহানুভূতির দিক থেকে একটি মানবদেহের মতো, যখন তার একটি অঙ্গ আক্রান্ত হয়, তখন তার গোটা দেহ ডেকে আনে তাপ ও অনিদ্রা।’ (মুসলিম, হাদিস : ৬৪৮০)

আমাদের আশপাশে থাকা নিরীহ মানুষগুলোও আমাদের অংশ। আমাদের উচিত, সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের পাশে দাঁড়ানো। তাদের খোঁজখবর রাখা। মানুষের কল্যাণে খরচ করা সৌভাগ্যের বিষয়। কারণ মানুষের কল্যাণে খরচ করলে মহান আল্লাহ এর বিনিময় বহু গুণে বাড়িয়ে প্রতিদান দেবেন। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয় দানশীল পুরুষ ও দানশীল নারী এবং যারা আল্লাহকে উত্তম করজ (ঋণ) দেয়, তাদের জন্য বহু গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হবে এবং তাদের জন্য আছে সম্মানজনক প্রতিদান। (সুরা : হাদিদ, আয়াত : ১৮)

সুবহানাল্লাহ, যারা আল্লাহর মাখলুকের প্রতি দয়া ও সহানুভূতির উষ্ণ হাত বাড়িয়ে দেবে মহান আল্লাহও আমাদের প্রতি দয়া করবেন। আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘দয়াশীলদের ওপর করুণাময় আল্লাহ দয়া করেন। তোমরা দুনিয়াবাসীকে দয়া করো, তাহলে যিনি আসমানে আছেন তিনি তোমাদের দয়া করবেন।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৯৪১)

মহান আল্লাহ পৃথিবীর ভারসাম্য রক্ষা ও পরীক্ষাস্বরূপ ধনী-গরিব সৃষ্টি করেছেন। প্রত্যেকের পরস্পর কিছু অধিকার আছে, যদি তারা সেই অধিকার রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়, তবে এর জন্য তাদের জাহান্নামে জ্বলতে হবে।

মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের কোন জিনিস দোজখে নিক্ষেপ করেছে? তারা বলবে, আমরা মুসল্লিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না, আমরা অভাবগ্রস্তকে আহার দান করতাম না।’ (সুরা : মুদ্দাসসির, আয়াত : ৪২-৪৪)

অর্থাৎ অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতাম না। তাই এসব বিষয়ে কখনো কৃপণতা করা উচিত নয়। কৃপণতা মানুষকে সুখ এনে দিতে পারে না, সম্পদে বরকত আনতে পারে না; বরং সম্পদ থেকে বরকত উঠিয়ে নেয় এবং মানুষকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। একদা রাসুল (সা.) ভাষণ দেন এবং বলেন, ‘তোমরা কৃপণতার ব্যাপারে সাবধান হও। কেননা তোমাদের পূর্ববর্তীরা কৃপণতার কারণে ধ্বংস হয়েছে। অর্থলোভ তাদের কৃপণতার নির্দেশ দিয়েছে, ফলে তারা কৃপণতা করেছে, তাদের আত্মীয়তা ছিন্ন করার নির্দেশ দিয়েছে, তখন তারা তা-ই করেছে এবং তাদের পাপাচারে প্ররোচিত করেছে, তখন তারা তাতে লিপ্ত হয়েছে।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ১৬৯৮)

এর বিপরীতে যারা মানুষের উপকারে আত্মনিয়োগ করে, মহান আল্লাহ তাদের ভীষণ ভালোবাসেন। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় ব্যক্তি সে, যে মানুষের উপকারে আসে। আর আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল মুসলমানদের খুশি করা, তাদের বিপদাপদে পাশে দাঁড়ানো, তাদের পক্ষ থেকে ঋণ পরিশোধ করে দেওয়া, ক্ষুধার্থদের ক্ষুধা নিবারণের ব্যবস্থা করা।’ (আল মুজামুল আউসাত, হাদিস : ৬০২৬)

তাই মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের ভালোবাসা পেতে সবার উচিত সামর্থ্য অনুযায়ী শীতার্তদের পাশে দাঁড়ানো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

eighteen − 17 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য