Thursday, April 23, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরসিরাত ও নবী-জীবনী রচনার সূচনা যেভাবে

সিরাত ও নবী-জীবনী রচনার সূচনা যেভাবে

পৃথিবীর একটি চিরন্তন বিধান হলো, মহান আল্লাহ যেকোনো বিষয়কে ধীরে ধীরে অস্তিত্বে নিয়ে আসেন। ধারাবাহিক স্তরগুলো পার হয়ে তা একটি পূর্ণাঙ্গ রূপ লাভ করে। সিরাতুন নবী (সা.)-ও এই নিয়মের ব্যতিক্রম নয়। জীবদ্দশায় নবীজি (সা.)-এর স্বতন্ত্র জীবনী গ্রন্থ তথা সিরাতের রচনা শুরু হয়নি।

বিজ্ঞাপনকিন্তু পবিত্র কোরআন ও হাদিস সংরক্ষণের মাধ্যমে সিরাতের মৌলিক বিষয়গুলো সংরক্ষিত হয়ে যায়। কেননা তাঁর জীবন ছিল কোরআনের প্রতিচ্ছবি এবং সুন্নাহ হলো জীবনধারার মূল ভিত্তি। সাহাবিদের যুগেই বিক্ষিপ্তভাবে সিরাতচর্চা শুরু হলেও খোলাফায়ে রাশেদিনের যুগ তথা ১১ থেকে ৪০ হিজরি পর্যন্তও সিরাতের স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচিত হয়নি। স্বতন্ত্র সিরাত গ্রন্থ রচনায় বিলম্ব হলেও কোনো যুগের মুসলিমরাই সিরাতচর্চা থেকে বিমুখ ছিল না। কেননা আল্লাহর নির্দেশনা হলো, ‘তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও পরকালকে ভয় করে এবং আল্লাহকে বেশি স্মরণ করে, তাদের জন্য আল্লাহর রাসুলের জীবনে আছে উত্তম আদর্শ। ’ (সুরা আহজাব, আয়াত : ২১)

বিলম্ব হওয়ার কারণ : রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সাহাবিরা স্বতন্ত্র সিরাত গ্রন্থ রচনার প্রয়োজন অনুভব না করার কারণ হলো, তাঁরা ছিলেন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সার্বক্ষণিক সঙ্গী। নবীজি (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ ছিল তাঁদের সবচেয়ে চর্চিত বিষয়। তাঁরা নবীজি (সা.)—এর প্রতি কথা ও কাজ, এমনকি আহার-নিদ্রার মতো একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়গুলো পর্যন্ত পরিপূর্ণভাবে সংরক্ষণ করেছেন এবং অন্যদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। তাঁর নির্দেশ ও নির্দেশনা জীবনে ধারণ এবং তা বাস্তবায়নে তাঁরা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। ফলে নবীজি (সা.)-এর স্মৃতি সাহাবিদের স্মরণে সদা জাগ্রত ছিল। এ জন্য তাঁরা সংশ্লিষ্ট হাদিস ও ঘটনা প্রবাহ সুবিন্যস্ত করার প্রয়োজন অনুভব করেননি।

সাহাবিদের সিরাতচর্চা : সাহাবায়ে কেরাম (রা.) স্বতন্ত্র সিরাত গ্রন্থ রচনা না করলেও তাদের কেউ কেউ নবীজি (সা.)-এর জীবনের দিকের বর্ণনার জন্য প্রসিদ্ধি লাভ করেন। যেমন আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) যুদ্ধসংক্রান্ত বর্ণনার জন্য, আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) নবীজি (সা.)-এর অভ্যাস ও আমল বিষয়ক বর্ণনার জন্য, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) কোরআনের ব্যাখ্যা বিষয়ক বর্ণনা, আয়েশা (রা.) পারিবারিক ও দাম্পত্য জীবন বিষয়ক বর্ণনার জন্য প্রসিদ্ধি লাভ করেন।

প্রয়োজনীয়তা অনুভব : এরপর যখন এমন সময় এলো যখন রাসুল (সা.)-এর দীর্ঘ সংশ্রব ও সান্নিধ্য পাওয়া সাহাবিরা বিদায় নিলেন। যাঁরা ছিলেন তাঁর জীবন ও সংগ্রাম, জিহাদ ও বিজয়গুলোর প্রত্যক্ষদর্শী। অন্যদিকে কালের বিবর্তনে আরব উপদ্বীপ, বিশেষত নবীজি (সা.)-এর স্মৃতিধন্য মক্কা ও মদিনার পরিবেশ পাল্টে যেতে লাগল এবং বিপুলসংখ্যক আরব ও অনারব ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় নিল, যারা ছিল ইসলামের আবির্ভাব ভূমি থেকে বহু দূরে; তখন পরবর্তী প্রজন্মের মুসলিমদের সামনে তুলে ধরার জন্য সুবিন্যস্ত সিরাত গ্রন্থ রচনার প্রয়োজন দেখা দিল।

সিরাতের প্রথম রচয়িতা যাঁরা : উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সিরাত গ্রন্থ রচনায় এগিয়ে আসেন শীর্ষ তাবেঈনরা। বিশেষত শীর্ষস্থানীয় সাহাবিদের সন্তানরা এ ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। যেমন উরওয়া ইবনে জোবায়ের (রা.)। যাঁর পিতা ছিলেন জুবায়ের ইবনুল আওয়াম (রা.), মা ছিলেন আসমা বিনতে আবু বকর (রা.), খালা ছিলেন আয়েশা বিনতে আবু বকর (রা.)। উরওয়া (রহ.) তাঁদের সবার কাছ থেকে জ্ঞানার্জন করেছেন এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবন সম্পর্কে বহু হাদিস বর্ণনা করেছেন। এ ছাড়া আবান ইবনে উসমান (রহ.), ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বাহ (রহ.) ও আসেম ইবনে ওমর (রা.)-ও এ ক্ষেত্রে বিশেষভাবে স্মরণীয়।

প্রথম দিকের প্রয়াসগুলোর ভেতর সেসব গ্রন্থও অন্তর্ভুক্ত, যা বিশেষ দৃষ্টিকোণ থেকে রচিত হয়েছিল। যেমন মুসা ইবনে উকবা রচিত ‘কিতাবুল মাগাজি’ এবং ইবনে ইসহাক রচিত ‘কিতাবুল মাগাজি’। তাঁদের কাতারে আরো আছেন ওয়াকেদি, তাবারি ও ইবনে সাদ প্রমুখ। ঐতিহাসিক ইবনে ইসহাকের গ্রন্থটি প্রথম সুসংহত ও সুবিন্যস্ত সিরাত গ্রন্থ বলা হয়।

রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ : হিজরি দ্বিতীয় শতকে উমাইয়া খলিফা ওমর ইবনুল আবদুল আজিজ (রহ.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস ও জীবনী রচনায় রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এ লক্ষ্যে তিনি শীর্ষস্থানীয় আলেমদের নিয়ে পরিষদ গঠন করেন। তাঁরা হাদিস যাচাই-বাছাই ও সংরক্ষণের কাজ ছাড়াও শাস্ত্র হিসেবে সিরাত ও সুন্নাহকে পৃথক করেন। এই পরিষদের সদস্য ছিলেন আসেম ইবনে ওমর, শুহাবিল ইবনে সাদ, মুহাম্মদ ইবনে মুসলিম জুহরি, ইয়াজিদ ইবনে রুমান, আবদুল্লাহ ইবনে আবু বকর আনসারি (রহ.) প্রমুখ।

সিরাতের কয়েকটি আকর গ্রন্থ : সিরাতচর্চায় কয়েকটি আকর গ্রন্থ হলো, সিরাতে ইবনে হিশাম, তাবাকাতে ইবনে সাদ, তারিখে তাবারি, সিরাতুন নববী (ইবনে কাসির) জাদুল মাআদ, ফিকহুস সিরাহ (ইমাম গাজালি), আশ-শিফা (কাজি ইয়াজ), সিরাতুল হালবিয়্যাহ, আল-ফুসুল, খাসায়েসুল কুবরা, আর-রিসাতুল মুহাম্মাদিয়া, খাতামুন নাবিয়্যিন (আবু জাহরা রহ.), সিরাতুন নবী (শিবলি নোমানি)। আধুনিক যুগে রচিত সিরাত গ্রন্থগুলোর মধ্যে আর-রাহিকুল মাখতুম, আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ (আলী সাল্লাবি), আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ (মোস্তফা সিবায়ি), আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ (আবুল হাসান আলী নদভি), সিরাতে মোস্তফা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

তথ্যঋণ : ইসলাম অনলাইন ডটনেট ও মাউদু ডটকম

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

one × five =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য