সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদের শাসনের অবসানের পর থেকে তুরস্ক থেকে প্রায় ৩০,৬৬৩ জন সিরিয়ান নিজ দেশে ফিরে গেছেন। ২০১১ সালের সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের পর যারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন, তারা এখন ঘরে ফেরার আশায় রয়েছেন। শুক্রবার(২৭ডিসেম্বর) সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদ সরকারের শাসনের শিকারদের স্মরণে একটি বিশেষ দিন পালন করা হয়।
চলতি ২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর বাশার আল-আসাদের শাসনের উৎখাতের মধ্য দিয়ে হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস) বিদ্রোহীরা দামেস্ক দখল করে। এ ঘটনার ফলে পাঁচ দশকের বাথ পার্টির শাসনের অবসান ঘটে। ২৭ ডিসেম্বর তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলি ইয়ারলিকায়া জানিয়েছেন, ৩০ হাজার ৬৬৩ জন সিরিয়ান তুরস্ক থেকে দেশে ফিরে গেছেন, যাদের মধ্যে ৩০ শতাংশের জন্ম তুরস্কে।
তুরস্ক সরকার জানিয়েছে, সিরিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর আলেপ্পোতে একটি “অভিবাসন ব্যবস্থাপনা অফিস” খোলা হবে এবং সেখানে তুরস্কের কনস্যুলেট পুনরায় চালু করা হবে। দামেস্কে তুরস্কের দূতাবাস ইতোমধ্যে ১৪ ডিসেম্বর চালু হয়েছে।
এদিকে, সিরিয়ার বিভিন্ন শহরে বাশার আল-আসাদ সরকারের শাসনের শিকার হওয়া পরিবারগুলো তাদের প্রিয়জনদের স্মরণে দিনটি পালন করে। দামেস্কের হিজাজ স্কয়ারে একটি বিক্ষোভে অংশ নেওয়া মানুষরা নির্যাতিতদের ছবি বহন করে এবং তাঁদের ভাগ্য জানার দাবি জানায়।
জাতিসংঘের স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সহায়তায় ৫০ টনের বেশি চিকিৎসা সরঞ্জাম সিরিয়ায় প্রবেশ করতে চলেছে। এই সরঞ্জামগুলো ইস্তাম্বুল থেকে সীমান্তে নিয়ে যাওয়া হবে এবং উত্তর আলেপ্পো ও ইদলিব অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবার উন্নতিতে কাজে লাগবে।
সিরিয়ার জনগণ দীর্ঘ যুদ্ধ এবং শাসনের নিপীড়ন থেকে মুক্তি পেয়েছে। তাদের এই নতুন অধ্যায়ে ঘরে ফেরা এবং জীবনের পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া আশা জাগাচ্ছে। তবুও, পুনর্গঠন এবং মানবিক সহায়তার প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা অব্যাহত রাখা জরুরি। তথ্যসূত্র : আল-জাজিরা
