ইয়েমেনের হাউছি-নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে অবস্থিত একাধিক জাহাজ-বিধ্বংসী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রকে নিশানা করে বুধবার চারটি বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনী এ তথ্য জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) বলেছে, লোহিত সাগরের দিকে নিক্ষেপের জন্য প্রস্তুত সাতটি চলমান ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও একটি ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারে আঘাত করা হয়েছে।
সেন্টকম আরো বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী একটি একমুখী হামলাকারী ড্রোনকেও গুলি করে নামিয়েছে।
সেন্টকমের কথায় ‘এই অঞ্চলে বাণিজ্যতরী ও যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর জন্য আসন্ন হুমকি’র পাল্টা জবাবে এই হামলা চালানো হয়েছে।
হাউছিরা নভেম্বর থেকে কয়েক ডজন হামলা চালিয়ে লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের মূল পথে ব্যাঘাত সৃষ্টি করেছে। অনেক জাহাজ সংস্থা আফ্রিকার আশেপাশে জাহাজ পাঠাতে এই এলাকা এড়াতে দীর্ঘ ও তুলনামূলকভাবে ব্যয়বহুল পথ বেছে নিয়েছে।
ইয়েমেনের উপকূলের অদূরে একটি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনকে ইরান-সমর্থিত হাউছিরা গুলি করে নামানোর বিষয়টি পেন্টাগন নিশ্চিত করার পর দিনই অর্থাৎ বুধবার হামলা চালানো হয়।
যুক্তরাষ্ট্র বুধবার লোহিত সাগরে হাউছিদের একাধিক হামলাকে নিন্দা করে বলেছে, মানবিক ত্রাণের অপেক্ষায় থাকা বিশ্বের নানা প্রান্তে খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহকে তারা (হাউছিরা) বিলম্বিত করছে এবং এইসব সামগ্রীর দাম বাড়িয়ে তুলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘হাউছিরা যা দাবি করতে পারে, ঘটছে তার বিপরীতটা। তাদের হামলা ফিলিস্তিনিদের কোনো কাজে আসছে না।’
মিলার আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র লোহিত সাগরে সংঘাত চাইছে না। এই সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী হাউছিদের আক্রমণকে প্রতিহত করেছে।
মিলার বলেন, ‘এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথে হাউছিদের হামলা থেকে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা ও বাণিজ্যতরীকে রক্ষা করতে আমরা ও আমাদের সহযোগীরা প্রয়োজন মতো উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ অব্যাহত রাখব।’
সূত্র : ভয়েস অব আমেরিকা
