৫ লাখ মানুষ এখনো পানিবন্দি

♦ কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে বিপৎসীমার ৪৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে ♦ সুরমা, সারি, লোভা, সারিগোয়াইন, ডাউকি ও ধলাই নদীর সবকটি পয়েন্টে পানি কমেছে

0
60

বৃষ্টিপাত কমেছে। উজান থেকে ঢল নামাও প্রায় বন্ধ। ধীরে ধীরে কমে আসছে নদীর পানি। কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্ট ছাড়া বাকি সব নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে বন্যা পরিস্থিতির অনেকটা উন্নতি হয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্র থেকে মানুষ বাড়ি ফিরছেন। তবে এখনো জেলার ৫ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক শেখ রাসেল হাসান।

সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, গতকাল বিকাল ৩টা পর্যন্ত কেবল কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে বিপৎসীমার ৪৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল। একই নদীর আমলসীদ পয়েন্টে পানি হ্রাস অব্যাহত ছিল, তবে কিছুটা বেড়েছে শেরপুর পয়েন্টে। এ ছাড়া জেলার সুরমা, সারি, লোভা, সারিগোয়াইন, ডাউকি ও ধলাই নদীর সবকটি পয়েন্টে পানি কমেছে। জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, গতকাল সকাল পর্যন্ত সিলেট জেলার ১৩টি উপজেলার ১২টিতে ৫ লাখ ১ হাজার ৩৮৬ জন মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত জকিগঞ্জ উপজেলা। সীমান্তবর্তী এ উপজেলার ১ লাখ ৫৬ হাজার ১৪৭ জন মানুষ এখনো পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। এ ছাড়া গোয়াইনঘাটে ১ লাখ ২৪ হাজার ৬০০ জন, কানাইঘাটে ৮০ হাজার ৬১০ জন, জৈন্তাপুরে ৬৬ হাজার, কোম্পানীগঞ্জে ২৪ হাজার ৫০০, বিয়ানীবাজারে ২২ হাজার ২৬০ জন, গোলাপগঞ্জে ১৫ হাজার ৩০৬ জন, ফেঞ্চুগঞ্জে ৫ হাজার ২৭ জন, বিশ্বনাথে ২ হাজার ৯৯৫ জন, সিলেট সদরে ২ হাজার ৪০৯ জন, দক্ষিণ সুরমায় ১ হাজার ৮৫০ জন ও বালাগঞ্জে ৬৮২ জন পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সিটি করপোরেশন এলাকা ও জেলার ১৩টি উপজেলায় খোলা হয়েছিল ৫৫১টি আশ্রয় কেন্দ্র। জেলাজুড়ে তখন পানিবন্দি লোকজনের সংখ্যা ছিল সাড়ে ৭ লাখের বেশি। ওই সময় আশ্রয় কেন্দ্রে ১০ সহস্রাধিক বন্যার্ত মানুষ আশ্রয় নিয়েছিলেন। কিন্তু বন্যার পানি কমে আসায় বাড়ি ফিরতে শুরু করেন লোকজন। গতকাল সকাল পর্যন্ত আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে অবস্থান করছিলেন ৪৪০ জন। আর বন্যায় পানিবন্দি জনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ১ হাজার ৩৮৬ জনে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

seven + five =