Tuesday, June 30, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদাওয়াযিয়ারত (রাসূল গৃহে একদিন)

যিয়ারত (রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের] গৃহে একদিন)

আসুন আমরা চৌদ্দ-শত বছর পূর্বে একবার ফিরে যাই ও ইতিহাসের পাতা উল্টাই, তা পড়ে প্রতিটি পৃষ্ঠার লাইনগুলির বাস্তবতা অনুধাবন করি এবং প্রতি পৃষ্ঠায় ও লাইনে চিন্তা ফিকির করি। আর আমরা যিয়ারতের উদ্দেশ্যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঘরে প্রবেশ করি। সরাসরি পর্যবেক্ষণ করি তাঁর অবস্থা ও ঘটনাবলি এবং শ্রবণ করি তাঁর বাণী। নবীর ঘরে শুধু একদিন অবস্থান করি। একদিনই আমাদের জন্য যথেষ্ট। সেখান থেকে আমরা শিক্ষা ও উপদেশ গ্রহণ করি এবং তাঁর কথা ও কর্ম দ্বারা নিজের জীবন উজ্জ্বল করি।

মানুষের শিক্ষা- দীক্ষার দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে এবং তাদের পাঠ অভ্যাসও বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং তারা কিতাব, পত্র-পত্রিকা, ফিল্ম ও অন্যান্য মিডিয়ার মাধ্যমে পাশ্চাত্য ও প্রাচ্যে তড়িৎ জিয়ারত করে থাকে। অথচ তাদের সে যিয়ারতের চেয়ে শরীয়ত সম্মত আমাদের রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঘরে যিয়ারত অগ্রাধিকার প্রাপ্ত, সেখানে আমরা যা দেখব ও যা জানব তার প্রতিটি ঘটনার শিক্ষাকে স্বীয় জীবনে বাস্তবায়নে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হবো। আমরা এ অল্প পরিসরে তাঁর ঘরের বিশেষ বিশেষ অবস্থারই অবতারণা করব। যেগুলি আমাদের অন্তরে লালন ও আমাদের ঘরে বাস্তবায়ন করা অপরিহার্য।

হেমুসলিম ভাই!

বিগত ১৪টি শতাব্দীর ইতিহাসে যে সব ঘটনা ঘটেছে ও পূর্ববর্তী জাতিসমূহ কিভাবে অতিবাহিত হয়েছে তা জেনে ও শুনেই শুধুমাত্র মজা পাব এবং তারপর থেমে যাব, এমনটি আমরা করব না।বরং আমরা রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এর সীরাত পাঠ করে ও তার সুন্নাতকে জীবনে বাস্তবায়ন করে ও তার আদর্শ ও পন্থানুযায়ী চলে আল্লাহ তা‘আলার ইবাদাত ও নির্দেশ পালন করব। তিনি তাঁর রাসূলের ভালবাসাকে আমাদের জন্য ওয়াজিব করে দিয়েছেন। আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভালোবাসার প্রধান প্রধান আলামত হল:তাঁর নির্দেশের অনুসরণ ও তাঁর বারণকৃত ও সাবধান কৃত বিষয় হতে বিরত থাকা, ও তার আনিত বিষয়গুলিকে বিশ্বাস করা। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ ওয়াজিব। তাঁর নির্দেশকে বাস্তবায়ন এবং তাঁকে অনুকরণীয় আদর্শ ও ইমাম ঘোষণা করে আল্লাহ তা‘আলা বলেন:

﴿ قُلۡ إِن كُنتُمۡ تُحِبُّونَ ٱللَّهَ فَٱتَّبِعُونِي يُحۡبِبۡكُمُ ٱللَّهُ وَيَغۡفِرۡ لَكُمۡ ذُنُوبَكُمۡۚ وَٱللَّهُ غَفُورٞ رَّحِيمٞ ٣١ ﴾ [ال عمران: ٣١]

অর্থাৎ: বল, তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবাসো তবে আমার অনুসরণ কর, আল্লাহ তোমাদেরকে ভালবাসবেন এবং তোমাদের অপরাধসমূহ ক্ষমা করে দিবেন, আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু[1]।আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন:

﴿ لَّقَدۡ كَانَ لَكُمۡ فِي رَسُولِ ٱللَّهِ أُسۡوَةٌ حَسَنَةٞ لِّمَن كَانَ يَرۡجُواْ ٱللَّهَ وَٱلۡيَوۡمَ ٱلۡأٓخِرَ وَذَكَرَ ٱللَّهَ كَثِيرٗا ٢١ ﴾ [الاحزاب : ٢١]

অর্থাৎ, তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও পরকালের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে, তাদের জন্য রাসূলুল্লাহর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ[2]।

আল্লাহ তা‘আলা তাঁর রাসূলের অনুসরণ করার ব্যাপারে মহা গ্রন্থ আল-কুরআনে চল্লিশের অধিকবার উল্লেখ করেছেন।[3]

তাঁর রাসূলের অনুসরণ ছাড়া কোন বান্দার সুখ-শান্তি ও আখিরাতে নাজাতের কোন পথ নেই। আল্লাহ তা‘আলা এরশাদ করেন:

﴿ وَمَن يُطِعِ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ يُدۡخِلۡهُ جَنَّٰتٖ تَجۡرِي مِن تَحۡتِهَا ٱلۡأَنۡهَٰرُ خَٰلِدِينَ فِيهَاۚ وَذَٰلِكَ ٱلۡفَوۡزُ ٱلۡعَظِيمُ ١٣ وَمَن يَعۡصِ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ وَيَتَعَدَّ حُدُودَهُۥ يُدۡخِلۡهُ نَارًا خَٰلِدٗا فِيهَا وَلَهُۥ عَذَابٞ مُّهِينٞ ١٤ ﴾ [النساء : ١٣،١٤]

অর্থাৎ: আর যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে, আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত; সেখানে তারা স্থায়ী হবে এবং তা মহা সাফল্য। আর যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হবে এবং তাঁর নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করবে তিনি তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন, সেখানে সে স্থায়ী হবে এবং তার জন্য লাঞ্ছণাদায়ক শাস্তি রয়েছে।[4]

আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর ভালবাসাকে ঈমানের প্রকৃত সাধ অর্জনের কারণ বলে উল্লেখ করে বলেন:

ثلاث من كن فيه وجد حلاوة الإيمان: أن يكون الله ورسوله أحب إليه مما سواهما… متفق عليه.

অর্থাৎ যার ভিতর তিনটি গুণ রয়েছে সে ঈমানের প্রকৃত সাধ পেয়েছে; যার নিকট আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সব চেয়ে প্রিয়।[5]

এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন:

فوالذي نفسي بيده لا يؤمن أحدكم حتى أكون أحب إليه من والده وولده ]متفق عليه[ . .

অর্থাৎ ঐ সত্ত্বার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ, তোমাদের মাঝে কেউ পূর্ণ ঈমানদার ততক্ষণ পর্যন্ত হতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত আমি তার পিতা-মাতা ও সন্তানাদি হতে অধিক প্রিয় না হবো।[6]

আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ছিল পবিত্র ও মন মুগ্ধকর সীরাত, অতএব তা হতে আমরা শিক্ষা গ্রহণ করবো ও তার দেখানো পথেই চলবো।

[1] আলে-ইমরান, আয়াত: ৩১

[2] আল-আহযাব, আয়াত: ২১

[3] দেখুন: ইবনে তাইমিয়া রাহেমাহুল্লাহ এর মাজমুউল ফাতাওয়া ১/৪

[4] সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১৩ ,১৪

[5] বুখারী, হাদিস: ১৬, ২১, মুসলিম, হাদিস: ৬৭, ৬৮

[6] বুখারী, হাদিস: ১৪ ও মুসলিম

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

18 − 15 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য