Saturday, April 25, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরতৃতীয় শতকের শ্রেষ্ঠ নারী মুহাদ্দিস

তৃতীয় শতকের শ্রেষ্ঠ নারী মুহাদ্দিস

বহু মানুষের ধারণা ইসলামের প্রাথমিক যুগে নারীরা শিক্ষা ও মেধা বিকাশ থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত ছিল। তবে ইতিহাসের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। ইসলামের সোনালি যুগে নারীরাও শিক্ষা পেত এবং তাদের কেউ কেউ যুগের শ্রেষ্ঠ ফকিহ ও মুহাদ্দিস হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেন। হিজরি তৃতীয় শতকের এমন একজন যুগশ্রেষ্ঠ নারী মুহাদ্দিসের পরিচয় তুলে ধরা হলো।

আসমা বিনতে আসাদ বিন ফুরাত (রহ.)। তাঁর পিতা আসাদ বিন ফুরাত (রহ.) ছিলেন সময়ের বিখ্যাত মুহাদ্দিস, ফকিহ ও সাহসী নৌ-সেনাপতি। সিসিলির বিজয় তাঁর হাতেই চূড়ান্ত হয়েছিল। আসমা বিনতে আসাদ (রহ.) ছিলেন পিতার যোগ্য উত্তরসূরি। তাঁকে তৃতীয় শতকের অন্যতম প্রধান নারী ফকিহ ও মুহাদ্দিস মনে করা হয়। আল্লাহ প্রদত্ত মেধা ও পিতার সযত্ন প্রতিপালন তাকে এই অনন্য মর্যাদায় সমাসীন করেছে।

আসমা বিনতে আসাদ (রহ.) হিজরি দ্বিতীয় শতকের শেষভাগে বর্তমান তিউনিসিয়ার কারউইন শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পূর্বপুরুষ খোরাসান অঞ্চলের বাসিন্দা ছিলেন। দাদা ফুরাত আফ্রিকার তিউনিসিয়ায় হিজরত করেন। তিনি ছিলেন মাতা-পিতার একমাত্র সন্তান। তাই তিনি বিশেষ আদরে লালিত-পালিত হন।

পিতার কাছেই কোরআন-হাদিসের জ্ঞান অর্জন করেন। তিনি নিয়মিত তাঁর দরসে অংশগ্রহণ করতেন। সেখানে প্রশ্নোত্তর ও বিতর্কে লিপ্ত হতেন। আসাদ বিন ফুরাত (রহ.) ছিলেন ফিকহে হানাফি ও ফিকহে মালেকির বিশেষজ্ঞ আলেম। আসমা (রহ.)-ও উভয় মাজহাবের ফিকহের ওপর দক্ষতা অর্জন করেন। তবে হানাফি মাজহাবের ইরাকি আলেমদের মতামতকে অগ্রাধিকার দিতেন এবং হাদিসের পাঠদানকে সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করতেন।

২১৩ হিজরিতে আসাদ বিন ফুরাত শহীদ হওয়ার পর আসমা তাঁর বাবার ছাত্র মুহাম্মদ বিন আবু জাওয়াদকে বিয়ে করেন। যিনি বিচারকার্যে শিক্ষকের স্থলাভিষিক্ত হন এবং ২২৫ হিজরিতে আফ্রিকা অঞ্চলে হানাফি ধর্মপণ্ডিতদের প্রধান নিযুক্ত হন।

মুহাম্মদ খায়ের ইউসুফ লেখেন, ‘আসমা কারভিনি সেই নারীদের অন্যতম, আল্লাহ যাদের জ্ঞান দ্বারা সুসজ্জিত করেছেন এবং দ্বিনের বোধ দ্বারা অলংকৃত করেছেন। তিনি সেসব নক্ষত্রের অন্তর্ভুক্ত, যারা নিজ সময়কে আলোকদীপ্ত করেছেন এবং আকাশকে প্রদীপ্ত করেছেন। তিনি ছিলেন মুসলিম উম্মাহর জন্য বাতিঘরতুল্য। ’ (ফাকিহাতুন ওয়া আলিমাতুন)

মুসলিম ইতিহাসের প্রবাদপ্রতীম এই মহীয়সী নারী ২৫০ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।

 তথ্যসূত্র : শাহিরাতু-তিউনিসিয়াত

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

1 × 1 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য